মো. আহছান উল্লাহ।
ন্যূনতম আবাদি জমি জীবন যাপনের নির্ভরতার উৎস। কৃষি ন্যায়বিচার এবং খাদ্য সার্বভৌমত্বে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার। কৃষি জমি গুরত্বপূর্ণ স্থানীয় এবং জাতীয় সম্পদ। অথচ নিরবে এই অমূল্য সীমিত সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর কৃষি জমির একটি বড় অংশ অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। যে জমিগুলো আর কোন কালেই কৃষিতে ফিরবে না। এতে করে একদল মুনাফালোভীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হলেও নেতিবাচক প্রভাব পরছে টেকসই কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, মানব স্বাস্থ্য, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রর উপর। গ্রামীন পুনরূজ্জীবনের অর্থনীতির প্রবাহ বাড়লেও আমাদের প্রান্তিক কৃষক কৃষানি ভালো আছেন এ কথা বলতে পারছেন না।

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, ই-বর্জ, পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অপরিকল্পিত ¯øুইজ গেট, ভ‚ল ডিজাইনে করা প্রশস্থ খালে ছোট ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মান। সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ‚উপরিস্থিত পানির প্রবাহ কমে মাটির বিভিন্ন স্তরে লোনা পানি ঢুকে পড়ছে। সমগ্র দেশে চলমান এ গতি উদ্বেগজনক। অভিজ্ঞরা বলছেন, অবহেলা কিংবা অতিরিক্ত পরনির্ভশীলতা সহসাই দুর্যোগে পরিনত হতে পারে। যা কোনভাবেই আর অবহেলা করা যাবে না। প্রান্তিক কৃষক কৃষানিদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উত্তরণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জরুরীভাবে কৃষি জমি ও পানি সুরক্ষা আইনসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন করা দরকার হয়ে পড়েছে।

 

প্রান্তিক কৃষক,কৃষানি
দা স্পীকার নিউজ জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, বিশে^র খাদ্যের শতকরা ৭০ ভাগের যোগানদাতা প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক, কৃষানী। রিসার্স ইনশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিব) এর একটি গনগবেষনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারগুলো একত্রে দেশের মোট কৃষক পরিবারের ৮৮.৪৮% হলেও তাদের মালিকানাধীন চাষযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ৩৬.৩০%। অন্যদিকে দেশের মাত্র ১১.৫১% মাঝারি এবং বড় কৃষক পরিবারগুলোর মালিকানায় রয়েছে দেশের মোট চাষযোগ্য জমির ৬৩.৩৭%। অথচ প্রান্তিক কৃষক কৃষানীর সংখ্যা আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্য। ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রান্তিক কৃষক কৃষানি তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্যে নিজের জমিতে চাষ করার সাথে সাথে অন্যের জমি বর্গা বা লীজ নিয়ে চাষ করেন। আবার কখনও শ্রমিক হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করেন। যা দিনমজুর না কৃষক – এই পরিচয় নিশ্চিত করতে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে যে সকল কৃষি পরিবারে অকৃষি খাতের কোন আয় যোগ হয়না তারা বেশিরভাগ ছিটকে পড়েন কৃষিকাজ থেকে, যা কৃষিকে নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এদের বড় একটি অংশের নিজের সামান্য বসতির জমি থাকলেও কোন কৃষি জমি নাই। তাদেরকে বর্গা অথবা লিজ নিয়ে কৃষি কাজ করতে হয়। অথবা অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করতে হয়। গ্রামীন পুনরূজ্জীবনের অর্থনীতির প্রবাহ বাড়লেও আমাদের প্রান্তিক কৃষক কৃষানি ভালো আছেন তারা এ কথা বলতে পারছেন না। প্রতি বছর কোন না কোনভাবে বিত্ত¡শালী অকৃষকের হাতে কৃষি জমির একটি অংশ চলে যায়। ফলে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক, কৃষানীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনী এর প্রভাব পড়ছে কৃষি পন্যের বাজারে।

 

আগ্রহ কৃষিতে
কৃষিতে আগ্রহ বাড়লেও জমি না থাকার কারনে অনেকেই কৃষি কাজ করতে পারেন না। আবার বহুমূখি কৃষি জমি বছরের পর বছর অনাবাদী পরে আছে, কোন চাষ হয় না। বৈশি^ক মহামারী করোনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং খাদ্য সঙ্কটসহ অন্যান্য কারনে শহর থেকে গ্রামের পথে অনেক পরিবার। এ পরিবারগুলোর বেশীর ভাগ সাধারন শ্রেনীর এবং বিভিন্ন পেশার। এই মানুষের বেশীর ভাগ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি কাজে নিয়োজিত হওয়ার আপ্রান চেস্টা চালাচ্ছেন।

 

 

কৃষি জমি কমার চিত্র
অপরিকল্পিত ¯øুইজ গেট, খালের তুলনায় ভুল ডিজাইনের ছোট ব্রীজ কালভার্ট নির্মান, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে ধীরে ধীরে ছোট,বড় খাল মরে যাওয়ায় পানির সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। আর এ সঙ্কটে খালের দুই পারের কৃষি জমি ভ‚গর্ভস্থ পানির উপর সেচ নির্ভর হচ্ছে এবং ফসলের জন্য আবশ্যকীয় উর্বর পলি মাটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শহর উপশহর কেন্দ্রীক বিক্ষিপ্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের নেতীবাচক প্রভাব পরছে কৃষি জমিতে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বসতি বাড়ছে। দিনে দিনে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে কৃষি উপযোগী মাটির বিভিন্ন স্তরে লোনা পানি ঢুকে পড়ছে। যা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। টিকে থাকা খাল নদীগুলোতে অবৈধ দখল, দূষন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকা, বালু উত্তোলন, মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এর বিরূপ প্রভাবে বহুমূখি ফসলি কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরব ঘাতক ই-বর্জ আর অনিয়ন্ত্রিত পলিথিনের অবাধ ব্যবহার এ ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। জমির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষিজমি কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামাঞ্চলের পুনরুজ্জীবন এবং উন্নয়নের সাথে সাথে একদল মুনাফালোভী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হলেও নেতিবাচক প্রভাব পরছে টেকসই কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রর উপর।
একটি উদাহরন, বরিশালের গৌরনদী কৃষি অফিসের তথ্য ঘেটে জানা গেছে, ২০১১ সালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মোট আবাদি কৃষি জমি ছিল ৩৪ হাজার ১শ ১২ একর। ২০২২ সালে সে কৃষি জমি কমে দাড়িয়েছে ২৭ হাজার ৩৪ একরে। এক যুগের (১২ বছরের) ব্যবধানে কৃষি জমি কমেছে ৭ হাজার একরেরও বেশী। এ উপজেলার মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী (গৌরনদী উপজেলা) ছোট বড় ৩৩ টি খাল,একটি নদী (পালরদী নদী) ছিল। সরকারি বে-সরকারি সাত হাজার তিনশ উনত্রিশটি ছোট বড় দিঘী, পুকুর ছিল। অপরিকল্পিত উন্নয়ন,বালু ভরাট এবং দখল দুষনে এর এক তৃতিয়াংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যা ও টিকে আছে তা দখল দুষনে ¤øান।

ক্ষত হচ্ছে মুল্যবান পিট মাটি
ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) এর তথ্যমতে, পিট মাটি বনাঞ্চলের চেয়ে বেশী কার্বন ধরে রাখতে পারে। অতএব এই পিট মাটি ভিত্তিক ইকোসিস্টেম সংরক্ষন করা জরূরি। অপরদিকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর নেচার কনজারভেশন (আইইউসিএন) এর তথ্য মতে পৃথিবীর উজাড় হয়ে যাওয়া পিট মাটি প্রতি বছর ১.৯ গিগাটন কার্বনডাইঅক্সাইড উদ্গ¦ীরন করছে। পৃথিবীতে অবশিষ্ট প্রায় প্রাকৃতিক পিটমাটি (তিন মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার) প্রতিবছর ০.৩৭ গিগাটন কার্বনডাইঅক্সাইড শোষন করছে। অতএব দেখা যাচ্ছে যে, পিটমাটি ভিত্তিক অভিযোজন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদসমূহ সহ্য করার একটি উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হতে পারে।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিউট এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার পাঁচশ ছিচল্লিশ হেক্টর পিট মাটি রয়েছে। পিট মাটির জৈব হার ২০-৮০% গভীরতা কমপক্ষে ৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এ পিট মাটি খুলনা ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলে রয়েছে। প্রতিবেনটিতে আরো বলা হয়েছে, পিট মাটি সংরক্ষন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে গবেষনা চলমান আছে। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে, গোপালগঞ্জ বরিশাল সীমান্ত এলাকার গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর উপজেলার বেশ কিছু অংশ পিট মাটিভ‚ক্ত অঞ্চলের আওতায়। আর এ পিট মাটি উল্লেখিত অঞ্চল ছাড়া দেশের কোথাও নেই।
কিন্তু বাংলাদেশে জলাধার আইনকে উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ চাষে পিট মাটি ভিত্তিক অঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে যাহা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্য ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। মাছ চাষে অতিরিক্ত ইউরিয়া, টিএসপিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার এবং খামারের মুরগিবর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বিচারে। ব্যাবসায়িক মুনাফার জন্য জলাশয়ের পানিতে হিলডল সহ অনেক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সাথে অতি মাত্রায় কীটনাশক মিশে মাটি,পানি, বাতাস ও মানব স্বাস্থ্যের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ সবের প্রভাবে উন্মুক্ত জলাশয়ের দেশীয় ছোট মাছ, উপকারি বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক কৃষানি আইন
কৃষক কৃষানির ভ‚মি ব্যবহার বা মালিকানার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বা সরকারী পর্যায়ে ১৭৯৩ সালের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’, ১৮৮৫ সালের ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’, ১৯৫০ সালের ‘পূবর্বঙ্গ জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের’ ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালে ‘ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ’ প্রণীত হয়। যে অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভূমির মালিক ও বর্গাদারের মধ্যে চুক্তি হতে হবে লিখিত, যা অন্তত ৫ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে এবং বর্গাদারের সক্ষম উত্তরাধিকারী থাকলে তিনিও বর্গাদারিত্ব পাবেন। সেখানে উৎপাদিত ফসল তিন ভাগ হবে,এক ভাগ ভুমি মালিক, এক ভাগ বর্গাদার এবং এক ভাগ যে পক্ষ বীজ, সার ও সেচের খরচ বহন করবে সেই পক্ষ পাবে, অর্থাৎ অর্ধশতাব্দিকালের পুরাতন তেভাগা আন্দোলনের দাবী বাস্তবায়িত হয়। এছাড়া বেনামী লেনদেন ও কৃষি প্রজাদের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং পরিবার বা প্রতিষ্ঠান পিছু কৃষি জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬০ বিঘা (১ বিঘা= ৩৩ শতক) নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৯৮৯ সালে ‘ঋণ সালিশী আইন’ এবং ২০১৩ সালে ‘জাতীয় কৃষি নীতি’ প্রণীত হয়। কালান্তরে এ সব আইন কতটা কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে প্রয়োগ হচ্ছে তা ব্যাপক বিশ্লেষনের দাবি রাখে।

কৃষি জমি সুরক্ষা কৌশল
গ্রামীণ এলাকায় উপার্জনের নির্ভরযোগ্য উৎস কৃষি জমি। এ জমি সুরক্ষার জন্য প্রথমত: স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি জমি সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কলাকৌশল নির্ধারন করা জরুরী। কৃষিখাতে প্রান্তিক কৃষকদের প্রচলিত পুজিখাতসমূহে প্রবেশাধীকার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির উপখাতগুলোকে আয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাসায়নিক বিষের বিকল্প মাধ্যমে চাষাবাদের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন এবং নিয়োজিত করা। কৃষি জমি সুরক্ষার পরিকল্পনা প্রনয়ন করে সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ সব কৃষি জমির ডাটাবেজ তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা। ফসলি জমিকে বনভ‚মি, তৃণভ‚মি, বাগানের জমি এবং অন্যান্য অকৃষি জমিতে রূপান্তর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। বছরে একবার হলেও হালের নাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করা বাধ্যতামূলক করা। যে সমস্ত খাল টিকে আছে সে খালগুলো অবৈধ দখল মুক্ত করা এবং প্রশস্ত ব্রিজ কালভাট নির্মান করা। কোন অবস্থাতে ছোট বড় খালগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধা গ্রস্থ করা যাবে না। প্রয়োজনে ব্রীজ কার্লভাট এর পূর্বের নকসায় পরিবর্তন আনা। স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি বিভাগ,মতস্য দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের দায়ীত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

প্রান্তিক কৃষকের কথা
কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। পানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। নদী খাল মরে পানির সঙ্কট হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে খরচ বেড়ে গেছে। কমে যাচ্ছে মাটির উর্বরতা, খরা ও বর্ষা মৌশুমে জলাবদ্ধতার কারনে ফসল ফলাতে সমস্যা। কৃষি উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি। জৈব চাষাবাদ সহজলভ্য করা। মসলা জাতীয় কৃষি পন্যের চাষ বাড়ানো। পরিকল্পিত সবুজ গ্রাম সবুজ শহর প্রকল্প চালু করা। কৃষি পন্যের বাজার ব্যাবস্থা সহজিকরন। সকল কৃষি পন্যর আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা। ব্যক্তিগত জমির মালিকানা সীমিত করন কৃষি, বন, খনি, এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে জমির সুষম বন্টন ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা। অঞ্চল ভিত্তিক কৃষি শিল্প গরে তোলা। দেশীয় মানসম্পন্য বীজের নিশ্চয়তা দেয়া। কৃষক কৃষানির মজুরি বৈষম্য দুর করা। কৃষক কৃষানিদের স্বাস্থ্যভাতা চালু করা। কৃষি জমি খালী না রাখা। অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা। জমিতে সুষম সার কীটনাশক ব্যাবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহজলভ্য করা। দেশ জুড়ে কৃষি জমি সুরক্ষার জন্য স্থানীয় কৃষকের পরিকল্পনা সুপারিশ, ভৌগলিক এবং জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে দৃশ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এর থেকে উত্তরনের ব্যবস্থা নেয়া। এ বস বিষয়ে মত দিয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বানীয়াশুরি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো.রেজাউল আকন,পালরদী গ্রামের মো. ছালাম ।

কৃষকের কথা
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী একজন কৃষকের সফলতার গল্প সবাই বলে কিন্ত সফল হওয়ার পেছনের কষ্টের কথা কেউ বলেন না। কৃষি এখন ঝুঁকিপূর্ন পেশা। আর এ ঝুকির উপকরন দৃশ্যমান। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিতরনে রয়েছে অসমতা। বিভিন্ন কারনে সরকারি সুযোগ সুবিদা মধ্যশত্তভোগীদের হাতে চলে যায় এটা রোধ করা প্রয়োজন। কৃষি ও কৃষির উপখাতগুলোর সকল বৈষম্য দুর করে সম্মিলিত কৃষি স্বনির্ভরতা বাস্তবায়ন করা। কথা বলেছেন বরিশালের গৌরনদীর সফল কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা আবদুর রহমান বিপ্লব।

বিশেষজ্ঞর মত
কৃষক, কৃষি বিজ্ঞানী ও জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক ফ্রেম ওয়ার্ক (ইউএনএফসিসিসি) এ কৃষক প্রতিনিধি মো.জাকির হোসেন (শাহীন) বলেন, করোনা মহামারীসহ চলমান যুদ্ধ ও বৈশি^ক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের সবার খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমেই ভাবতে হবে। এ ব্যাপারে অবহেলা কিংবা অতিরিক্ত পরনির্ভশীলতা সহসাই দুর্যোগে পরিনত হতে পারে। মাঠের বাস্তবতার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের গভীর সংশ্লিষ্টতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই উন্নয়ন সড়কে উঠে পড়তে হবে। গবেষকদের আবিষ্কারের সাথে কৃষকদের সম্পৃক্ত করার বিকল্প নাই। তিনি আরো বলেন যে, পিট মাটি আমাদের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এর যথাযথ সংরক্ষন ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অতীব জরূরি। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের সংরক্ষন তহবিলে খোঁচা দেয়ার পর্যাপ্ত সক্ষমতা আমাদের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের আছে বলে মনে করি। লেখক[email protected]