উজিরপুরে মাছ চাষে বাঁধা কেটে দেয়া হয়েছে ঘেরের বাঁধ বিপাকে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা


বিডি কামাল, উজরপুরের কাজীসা থেকে ফিরে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কাজিশাহ গ্রামের মনুল্লা ফরাজী মৎস্য প্রকল্পে মাছ চাষে বাঁধা দেয়াসহ কয়েক জায়গায় বাঁধ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের লালন ফরাজী,মুরাদ ফরাজী,সাহদাত ফরাজী,সজল ফরাজী ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে।
মৎস্য ঘেরের বাধ কেটে দেয়ায় স্কুল কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পরেছেন বিপাকে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় ঘেরের বাধ দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী সহজে যাতায়াতের পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। মাছ চাষের সাথে বিভিন্ন কৃষি পন্য উৎপাদন করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলেও একটি মহলের বিভিন্ন সরযন্ত্র তা ¤øান করে দিয়েছে। মাছ চাষে বাধাঁ ও বাঁধ কেটে দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চড়ম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানাগেছে,কাজিশাহ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য প্রয়াত নান্না ফরাজী এলাকাবাসিকে নিয়ে প্রায় ৭০ বিঘা অনাবাধি জমিতে মাছ চাষ ও মাছের ঘেরের পারে বিভিন্ন কৃষি পন্য চাষ শুরু করেন। এর নাম দেয়া হয় মনুল্লা ফরাজী মৎস্য চাষ ও কৃষি প্রকল্প। এলাকাটি নিন্ম ও বিলাঞ্চল হওয়ায় বছরের প্রায় সময়ই জমিগুলো অনাবাদী এবং পানিতে ভরা থাকতো। অনাবাদী জমি ও জমির মালিকদের নিয়ে ২৫ বছরের লিখিত চুক্তিতে নিজের পেনসনের টাকা ও ধার দেনা করে প্রকল্পটি দার করান অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য প্রয়াত নান্না ফরাজী। প্রকল্পের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের অর্থয়ানে বাধ নির্মান করেন,এক সাথে মাছ চাষ ও বাঁধে স্ববজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন তারা। সৃষ্টি হয় ব্যাপক কর্মসংস্থানের।
লালন ফরাজি ও তার দলবল বাঁধটির ৩ জায়গায় কেটে দিলে এলাকাবাসি ও শিক্ষার্থীদের হাটা চলার পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান,বাঁধ দিয়ে আমরা সহজেই স্কুলে যাতায়াত করতে পারতাম বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হবে। বাঁধটি দ্রæত মেরামত করে দেয়ার দাবী তাদের।
২০১৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নান্না ফরাজী মারা যান এর তিন মাস পরে তার পুত্র বাবার মৃত্য খবরে পেয়ে সেও মারাযান। এর পর সেনা সদস্যর স্ত্রী রেহানা বেগম অসহায় হয়ে পরেন। পরিবারটির অসহায়ত্বের সুযোগে প্রকল্পটি লালন ফরাজী জোড় পূর্বক ভোগ দখল করে আসছেন। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ঠিকমত টাকা পয়সা না দিয়ে তাদের সাথে খারাপ আচরন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে লালনের বিরুদ্ধে।
সুবিধাভোগীদের নানা অনিশ্চয়তার মূখে চলতি বছর সুবিধাভোগী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি শালিস বৈঠক করে প্রয়াত সেনা সদস্যর স্ত্রী রেহানা বেগমকে মৎস্য চাষ ও কৃষি প্রকল্পর কাজ পরিচালনা করার দায়িত্ব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লালন ফরাজী ও তার লোকজন একের পর এক সরযন্ত্র এমনকি হেলেনা বেগম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসি জানান,লালন ও তার লোকজন বাঁধ কেটেই খ্যান্ত হয়নি গুম খুনের হুমকিও দিচ্ছেন। ঘেরের তার (লালনের অংশে) একটি রহস্যময় ঘর তুলেছেন। এলাকাবাসির কাছে ঘরটি রহস্যময়। এখানে অপরিচিত নারী পুরুষ,মাদক সেবনকারীদের নিরাপদ আস্তানা বলেও দাবী তাদের। প্রসাশনের কাছে এলাকাবাসি রহস্যময় ঘরটির বিষয়ে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোড় দাবী জানিয়েছেন।
সুবিধাভোগী আলী আজগর মল্লিক (৭৫) জানান,ঘেরটি অনেক ত্যাগ নিজ অর্থ এমনকি বসত বাড়ি বিক্রি করে নান্না ফরাজী করেছেন এলাকাবাসির জন্য। যেহেতু সুবিধাভোগী ও সালিশগন রেহানা বেগমকে দায়িত্ব দিয়েছে প্রকল্পটি পরিচালনা করার জন্য,সেখানে তার সাথে এমন ব্যবহার কাম্য নয়, এতে এলাকার আইনসৃঙ্কলা বিঘœ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ওই গ্রামের বাসিন্ধা ও সালিশ মিমাংশা কারী কাঞ্চন মল্লিক জানান, মৎস্য প্রকল্পটি নান্না ফরাজী অনেক কষ্ঠ করে করেছেন। সে নান্না (ফরাজী) ও তার ছেলে তিন মাসের ব্যবধানে মারা গেলে পরিবারটি অসহায় হয়ে পরে আর এ অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় লালন ও তার লোকজন। সব তথ্য উপাত্ব ঘেটে এবং সুবিধাভোগী সদস্যদের সাথে আলাপ করে আমরা নান্না ফরাজীর স্ত্রী রেহানা বেগমকে প্রকল্পটি পরিচালনা করার দায়ীত্ব দিয়েছি।
এ বিষয়ে লালন ফরাজী বলেন আমি আমার জায়গায় ঘের করেছি। বাঁধ আমি কাটি নাই জমির মালিকরা কেটেছে। ঘরটি ঘেরের কাজের জন্য তোলা হয়েছে।
সেনা সদস্যর স্ত্রী রেহানা বেগম জানান, আমার স্বামী প্রকল্পটি করতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। অনেক টাকা দেনা রেখে গেছেন,যে দেনার ভার এখনোও আমার বহন করতে হচ্ছে। মানুষের উপকার হচ্ছে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে,কিন্ত লালন ফরাজি ও তার লোকজন একটা সুন্দর কাজে রহস্যজনকভাবে বাঁধার সৃষ্টি করছে। সালিশ মিমাংশার পরে আমি লেবার নিয়ে বাধটি মেরামত করতে গেলে লালন ও তার দলবল আমাকে বাঁধটি মেরামত করতে দেয়নি বরং আমাকে গুম খুনের হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো.সহিদ মল্লিক বলেন,রেহানা বেগমের স্বামী প্রয়াত সেনা সদস্য নান্না ফরাজীর অক্লান্ত পরিশ্রমে মৎস্য প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পরিবাটিকে সুযোগ দেয়া উচিত।