গৌরনদী আধুনিক মা ও শিশু কল্যান হাসপাতাল বরাদ্দ আছে সেবা কম


বিডি কামাল,গৌরনদী।
গৌরনদীসহ পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া,কালকিনি,উজিরপুর উপজেলার অসহায় দরিদ্র প্রসুতি মা ও শিশুদের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবায় সরব ছিল গৌরনদী আধুনিক মা ও শিশু কল্যান হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি এখন নামেই টিকে আছে। বরাদ্দ থাকলেও সেবা কম। অধিকাংশ সেবা গ্রহিতাদের খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।
২০০৯ সালে এ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎস্যক চলে যাওয়ার পর থেকে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর এখানে কর্মরত গাইনী চিকিৎস্যক ডাঃ আঃ সামাদও অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে সর্ম্পূনরুপে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। অথচ প্রতি বছর বিশাল বরাদ্দ চলমান থাকলেও এসব সরকারি বরাদ্দ কি হয় কেউ জানে না।

নানা অনিয়মের পাসাপাসি হাসপাতালটির মুল ভবনটির জরাজির্ন অবস্থা। অটি,ডাক্তারের রুমসহ বিভিন্ন কামরার ছাদ এবং দেয়ালের পলেস্তারা খসে পরছে। একমাত্র এ্যাম্ভুলেন্সটিও জোড়াতালি দিয়ে চলছে। আছে চিকিৎসক সঙ্কট। বছরের পর বছর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় নষ্ঠ হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ডাক্তারদের বাসভবনটি ভালো থাকলেও কেহ না থাকায় ময়লা অবর্জনায় তা মলিন হয়ে পরে আছে।
২০০২ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তৎকালিন মহাপরিচালক মরহুম মোঃ ফজলুর রহমান হাওলাদার এলাকার গরীব মানুষের কল্যানের কথা ভেবে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যান হাসপাতালটি সিজারিয়ান অপারেনের জন্য একটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন সহ ১ জন গাইনী চিকিৎস্যক ও ১ জন এ্যানেসথেসিয়া চিকিৎস্যক নিয়োগ প্রদান করেন। তাদের বসবাসের জন্য বিপুল অর্থব্যয়ে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যান হাপাতালের মুল ভবনের দক্ষিন পাশে নির্ম্মান করা হয় আধুনিক ভবন। একই সময়ে রোগীদের হাসপাতালে আনা নেয়ার জন্য প্রদান করা হয় একটি নুতন এ্যাম্বুলেন্স। ২০০২ সালের জানুয়ারী থেকে ২০০৯ সালে মে মাস পর্যন্ত একটানা ৮ বছরেরর অধিক সময় অত্র হাসপাতালে প্রসূতি মায়েরা বিনামুল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ পেতেন। হাসপাতালটির নানান সমস্যার কারনে বিপাকে পড়েছে এলাকার গরীব রোগীরা। বাইরের কোন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। যে অর্থ গরীব রোগীর পক্ষে যোগার করা সম্ভব হয় না।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা পারভিন বেগম জানান,তার ছোট ভাইর স্ত্রী অন্তসত্বা তাকে চিকিতসা দেয়ার জন্য তিনদিন ওই হাসাপাতালে যেয়েও কোন সেবা পাননি। জাহানারা বেগম নামে আরেক জন সেবা গ্রহিতা বলেন তার তিন বছরের একটি নাতি নিয়ে আসছিল ওই হাসপাতালে কিন্তু ওখান খেকে পাশের একটা ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এক আপা তবে তার নাম জানাতে না পারলেও সে ওই হাসপাতালের একজন। স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে এ দপ্তরের কোন বড় কর্মকর্তা কোন কারনে হাসপাতালে আসলে তাদের দেখানোর জন্য স্থানীয় কতিপয় মা ও শিশুদের এনে ভীর করে দেখানো হয়। আর এর অধিকাংশ মা বা তাদের পরিবারের কেউ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকের সাথে সম্পর্কিত।
এ্যাম্ভুলেন্স চালক নুর আলম বলেন,এ্যাম্ভুলেন্সটির বয়স ২১ বছর হয়েছে। রোগী আনানেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বিপাকে পরতে হয়। জরুরি রোগী পরিবহনের সময় হঠাৎ পথে এাম্ভুলেন্সের সমস্যা দেখা দেয়। এখানে এখন একটি নতুন এ্যাম্ভুলেন্স দরকার।
হাসপাতালের সেবিকা রুনু জানান হাসপাতাল ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া মুল ভবনের দেয়াল ডেমিজ হয়ে যাওয়ায় এক ধরনের উদ্ভট গন্ধ আসে এতে শরীরের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা ফাতেমাতুজ জোহরা অনিয়মের কথা অস্বিকার করে বলেন,নানা সমস্যায় রোগীদের সব ধরনের সেবা দিতে না পাড়ায় অনেক রোগীরা মন খারাপ করেন। সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া এখানে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে। টিউব ভেকটমি, ভেসেকটমি, ইনপ¬ান্টসহ নানা স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্ধতি।
গৌরনদী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ মোঃ আঃ হান্নান জানান,অনিয়মের বিষয় আমার কিছু জানা নেই। চিকিৎস্যক না থাকায় সিজরিয়ান অপারেশন হচ্ছে না। বিষয়টি উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষ জানেন।