মো.আহছান উল্লাহ।
যে বয়সে মায়ের ন্সেহের আচল ধরে হাসি খেলায় জীবন কাটানোর কথা। কিন্তু সে বয়সে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য কোন মাদ্রাসার এতিমখানা কিংবা হোষ্টেলের একাকিত্ব জীবনের স্বাদ নিয়ে বেড়ে উঠতে হয় কোমলমতি শিশুদের। আবার কতৃপক্ষের নির্দ্দেশনায় খাদ্য,শিক্ষা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মাটির পাত্র হাতে এক মুষ্টি চাল সংগ্রহের জন্য দারস্থ্য হতে হয় বিভিন্ন পরিবারের দরজায়।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্টান্ড সংলগ্ন কওমী মাদ্রাসার একদল শিশু শিক্ষার্থী মাটির পাত্র নিয়ে মুষ্টি চালের জন্য যখন ঘটি হাতে যাচ্ছিল তখন শিশুসুলব চেহারার মাঝে ছিল বিষাদের ছায়া। দৃশ্যটি শুধু কোমলমতি শিশুদের ভাবায়নি ভাবান্তর ঘটিয়েছে পথচারিদেরও। আধুনিকতার চরম উৎকর্ষতার এই যুগে কোমলমতি শিশুদের হাতে মাটির পাত্র নিয়ে নিজেদের খাদ্য,শিক্ষা,স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পরিবারের কাছে দারস্থ্য হওয়ার এমন দৃশ্য বিদ্ধ করেছে এলাকার সচেতন মহলকে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে বার্থী কওমী মাদ্রাসাসহ এলাকার অনেক মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুরা মাদ্রাসা কতৃপক্ষের নির্দ্দেশনায় মাটির পাত্র (ঘটি) নিয়ে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে দিয়ে আসতে হয় চালের জন্য। ওই বাড়ির গৃহকর্তীরা প্রতিবেলা রান্নার সময় ঘটিতে এক মুষ্টি করে চাল রাখেন ঘটি পূর্ন হলে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। আর এ চাল দিয়ে কোমলমতি শিশুদের খাদ্যর জোগান হয়। দরিদ্রতা,অভাব অনটন,অবজ্ঞা,অসচেতনতা এবং মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য সরকারি অপ্রতুল বরাদ্দর কারনেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
প্রবাসি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, একপ্রকার ভিক্ষার টাকায় প্রতিষ্ঠান গুলো চলে। বিশেষ দেকবাল এর ব্যাবস্থ্যা নেই । এই শিশুরাই একদিন বড় হয়ে সাহায্যভিত্তিক জীবনযাপন করবে। হয়ত কোন মসজিদের ইমামতি কিংবা ব্যাক্তি সাহায্যে গড়ে তুলবে কোন মাদ্রাসা। কিন্তু আজ যারা সমাজপতি কিংবা রাষ্ট্রের বড় কর্তা হয়ে আছেন তাদের মৃত্যুতে জানাজা দাফন দোয়ার জন্য এদের দারস্থ্য হতে হবে। জীবনের সকল কিছু ফেলে বিদায়ের শেষ বেলায় যখন এদের কাছে ধর্না দিতে হবে একটু দোয়া মাগফিরাতের জন্য, তখন সামাজিক উচ্চ মর্যদা দিয়ে কোরানের আলোয় আলোকিত করা উচিত কোমলমতি শিশুদের।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মাজেদুল হক কাওছার বলেন, এই বয়সটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক গঠনের সময়। যদি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজে তাদের বাদ্দ্য করা হয় তাহলে মানসিক বিকাসে নেতীবাচক প্রভাব পরতে পারে।
গৌরনদী উপজেলা সমাজসেবা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সুশান্ত বালা , যে কোন এতিম খানার এতিমদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করতে হয়। মাদ্রাসাটি এতিমদের জন্য কোন নিবন্ধন করেননি।

%d bloggers like this: