মোঃ আছান উল্লাহ।
আমি তো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে যায়। শুকনো পাতার মর্মরে বাজে কত সুর বেদনায়। আকাশে বাতাসে নিষ্ফল আশা হাহাকার হয়ে রয়। প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে,জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে।
মরমী গায়ক শিল্পী আঃ জব্বারের বিখ্যাত গানের কলির মতই,বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোজ হওয় ১২ জন শিশু,যুবক, যুবতি। বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ পার হয়ে গেলেও তারা আর ফিরে আসে নাই। তারা কি আর কোনদিন ফিরে আসবেন, তাও জানে না স্বজনরা। তারা বেঁচে আছেন না মরে গেছেন সে খবরও বলতে পারে না কেহ। কি রহস্যজনক বিষয় ঘর থেকে বের হলেই নিখোজ হয়ত আর কোন দিন ফিরে আসবেন না। নিখোজদের নিখোজ হওয়ার ঘটনা একটি কথার মধ্যেই পরে রইল তারা নিখোজ– !
অথচ বাংলাদেশের সংবিধান এর ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,দেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
এ ভাবেই বিশাল বাংলার অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা চাপা পরে থাকে পর্দার অন্তরালেই। একজনত বলেই ফেলেছেন তারা গরীব অসহায় অজ্ঞ,এ জন্যই তাদের হৃদয়ের ক্ষত নিয়ে সারাটা জীবন পার করে দিতে হয়। নিখোজদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,যখন তারা নিখোজ হয়েছে তখন তাদের বয়স ৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এরা শিশু,যুবক,যুবতি। তারা কোন না কোন কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসে নাই। অভাবি অসহায় স্বজনরা সাধ্যমত অনেক খোঁজাখুজিও করেছেন কিন্তু কোন সন্ধান করতে পারেননি। অনেকে থানায় একটি ডায়েরী পর্যন্ত করেন নাই। অসচেতনতা,অজ্ঞতা,পারিবারিক কলহ,দুঃখ আর দারিদ্রতার বৈষম্য এর নেপথ্যের কারন বলে মনে করেন সচেতন মহল। এ ছাড়া এই নিখোজ পরিবারের স্বজনরা কঠিন মানবেতর জীবযাপন করছেন। একদিকে স্বজন হাড়ানোর বেদনা অন্য দিকে দারিদ্রতা।
রহস্যঘেরা নিখোজরা একদিন আসবে এই আশায় সব স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আবার স্বজন হারানোর বেদনায় হৃদয়ফাটা চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে শোকাতুর মায়ের ¯েœহের আচল। স্বজন হারানোর অনন্ত বেদনা নিয়ে অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
নিখোজরা হলেন- ০১/ ফকরুননেছা উপজেলার টিকাসার গ্রামের মৃত আতাহার আলী আকনের মেয়ে। হারানোর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৪ বছর। ফকরুননেছার ভাই ফারুক আকন জানান, ৮ বছর আগে বাড়ির পাশে বান্ধবীদের সাথে খেলা করার কথা বলে বের হয় বাড়ি থেকে। আর ফেরেনি অনেক খুঁজেছি কোন সন্ধান করতে পারিনি। আমার বোন হারানোর দুই বছর পর মা সুফিয়া বেগম মারাযান। বোনের শোকে। মা ওকে খুব ভালোবাসত বলে কেঁেদ দেন ফারুক আকন।
০২/ জাবেরা বেগম উপজেলার উত্তর পালরদী গ্রামের মৃত এফাজ উদ্দিনের মেয়ে। স্বামী পরিত্যাক্তা এক সন্তানের জননি। দরিদ্রতার কষাঘাতে ভিক্ষুক মায়ের কাছেই ছিল নিরাপদ আবাস। বিগত ২০১৭ সালের প্রথম দিকে বৃদ্ধ মায়ের উপর সংসারের চাপ কমাতে, রুটি রুজির অন্মেশনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন আর ফিরে আসেননি। জাবেরার বৃদ্ধা মা জানান ও (জাবেরা) যখন নিখোজ হয় তখন ওর একটা ছেলে বয়স তিন বছর রেখে যায়। সেই বাচ্ছার বয়স এখন সাত বছর হয়ে গেল অথচ জাবেরা আর আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কোন সন্ধান করতে পারিনি। মনে হয় মরে গেছে। ছেলেটা বারবার ওর মার কথা বলে, মা কবে আসবে কি জবাব দিমু ? অনেক সময় বিরক্ত হয়ে বলি তোর মা মইরা গেছে।
৩/ মাহমুদা বেগম উত্তর পালরদী গ্রামের মৃত মমিন উদ্দিন মিয়ার বড় মেয়ে। হাড়িয়ে যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১২/১৩ বছর। মাহমুদার ছোট ভাই হেদায়েত হোসেন জানান ৩০ বছর আগে অভাবের তারনায় বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুলনা যান রুটি রুজির জন্য। খুলনার দৌলতপুরে ঝুপরি ঘর ভাড়া নেন। খুলনা যাওয়ার এক বছর পরে মা মারা জান। বাবা মানসিকভাবে ভেংগে পরেন। মা মারা যাওয়ার এক বছর পর বড় আপাকে (মাহমুদাকে) ঢাকায় বাসার কাজে দেয়া হয়েছিল। ওই যে গেল আর ফিরল না বোন আমার। বাবা অনেক চেস্টা করেছেন কিন্তু কোন খোঁজ পাননি। শেষ পর্যন্ত বাবা ধুকে ধুকে তিন বছর আগে মারাযান। ২৮ বছরেও সন্ধান মেলেনি আমার বোনের।
৪/ রাশিদা বেগম উত্তর বিজয়পুর গ্রামের দিনমজুর ফয়জর বেপারীর কন্যা রাশিদা বেগম। এক সন্তানের জননী। গার্মেন্টেসে কাজ করার সুবাদে ঢাকার কামরাঙ্গির চর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে পরিচয় কিরন নামের এক ছেলের সাথে (যার বাড়ি ছিল নোয়াখালীতে) তার সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পরে জানতে পারে কিরন মাদকাশক্ত ও মাদক বিক্রেতা। এর মাঝে তাদের সংসারে আসে একটি কন্যা সন্তান। মাদকাশক্ত স্বামীর যৌতুকের চাপ আর শারিরিক নির্যাতনের কারনে সন্তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসে রাশিদা। কিন্তু দিন মজুর বাবার পক্ষে সংসারের সবার মূখে দুমূঠো ভাতের ব্যবস্থা করাই ছিল কষ্ঠসাধ্য। তাই বাবার সংসারে বোঁঝা না হয়ে আবার চলে যায় ঢাকার শহরে কাজের সন্ধানে। রাশিদার বাবা বলেন ওই মেয়েটা চলে গেল আর ফিরে আসল না। আজ ১৩ বছর হয়ে গেল কোন খোঁজ নেই । বেঁচে থাকলে হয়ত ওর মেয়েটার টানে হলেও ফিরে আসত। ওর জন্য কাঁদতে কাঁদতে গত বছর ওর মাও মারা গেল বলতেই হামাউ করে কেঁদে দিলেন ফজর বেপারী ।
৫/ ইয়াছিন হাওলাদার উপজেলার গেরাকুল গ্রামের দিনমজুর টুটুল হাওলাদারের ছেলে। চার বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পাশের বাজার থেকে কিছু খাবার কিনতে। ইয়াছিনের বাবা টুটুল জানান হারিয়ে যাওয়ার সময় ওর(ইয়াছিনের) বয়স তখন আট বছর। ওই যে গেল বাবা আর ফিরেনি। কত খুঁজলাম কোন সন্ধান করতে পারলাম না। চার বছরের বেশী সময় ধরে নিখোজ বাবাকে আর পাবকিনা জানি না।
৬/ দুলাল তালুকদার উপজেলার বানীয়াশুরী গ্রামের মৃত মান্নান তালুকদারের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেড় ধরে ১৩ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোজ দুলালের বড় ভাই ইউনুচ তালুকদার জানান খুব আদরের ভাই ছিল। নিখোজ প্রায় ২৩ বছর। ওর কস্টে মা বাবা দুজনই মারা গেলেন। ভালো ছাত্র ছিল কোথায় আছে কেমন আছে জানি না। বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না।
৭/ মোস্তফা পাইক উপজেলার টিকাসার গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন পাইকের ছেলে। নিখোজের সময় বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। পেশায় একজন ভালো আর্টিস্ট ছিলেন। তার ভাই টুটুল জানান, ২০ বছর আগে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেড় হয়েছিল আর ফেরেনি। খুব ভালো মনের একজন মানুষ ছিল মোস্তফা।
৮/ সুজন হাওলাদার উপজেলার টিকাসার গ্রামের মৃত সেকান্দার আলী হাওলাদারের ছেলে। নিখোজ হওয়ার সময় তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। মা,স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে দিনমজুরের কাজ করে সূখেই কাটছিল তাদের সংসার জীবন। কিন্তু ৯ বছর পূর্বে সুজন কাজের জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। বৃদ্ধা মা ছফুরা বেগম (৬০) ছেলে আসবে এ বিশ্বাসে তার চোখের জলে এখনও ভিজে যাচ্ছে তার স্মেহের আচল।
৯/ ইসমাইল হাওলাদার ওরফে মৃদুল উপজেলার দক্ষিন দিয়াশুর গ্রামের মনিরুজ্জামান হাওলাদারের মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে। নিখোজের সময় তার বয়স হয়েছিল (১৫) বছর। গৌরনদী সীমান্তবর্তী দক্ষিন রমজানপুর গ্রামস্থ জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার হেফজ শাখায় পড়া-লেখা করে আসছিল। গেল বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা থেকে নিখোজ হয় ইসমাইল। ইসমাইলের বাবা মনিরুজ্জামান জানান মাদ্রাসা থেকে আমাদের ছেলের নিখোজের কথা জানানো হলে আমরা মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসা কতৃপক্ষের কোন সহযোগিতা পাইনি। উপায়ন্তর না পেয়ে মাদারীপুরের কালকিনি থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি যার নং-৭৮৫/২৬-০৯-২০২০ইং। নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানায় বিষয়টি সন্ধেহাতিত। কারন ইসমাইল নিখোজের পর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিরি কয়েকজন ইসমাইলের বাবাকে নগদ কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন।
১০/ গাজী মোস্তফা উপজেলার বাঙ্গীলা গ্রামের সাহেব আলী গাজীর পুত্র ৩০ বছর বয়সে নিখোজ হয়। পিতা সাহেব আলী ও মাতা রাশেদা বেগম জানান, খুব ভালো ছেলে ছিল বিবাহ করিয়েছিলাম ১ মেয়ে তাদের সংসারে জন্ম নেয়। আজ থেকে ১৮ বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খুঁজছি পাইনি। কয়েক বছর পরে বউটা অনত্র বিবাহ হয়। নাতি সরমিনকে অনেক কষ্ঠ করে লালন পালন করে বিবাহ দিয়েছি। কিন্ত ছেলেটার কোন খোঁজ আজও পাওয়া গেল না। বলে ঢুকরে কেঁদে উঠেন সন্তানহারা বাবা মা।
১১/ রোকন সরদার উপজেলার লাখেরাজ কসবা গ্রামের মৃত ভাষাই সরদারের ছেলে। নিখোজের সময় তার বয়স হয়েছিল (৪০) বছর। রোকনের স্ত্রী জানান ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। ১৯ বছর আগে ব্যবসার কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। তিনটি নাবালগ সন্তান রেখে গেছেন ১টি আবার প্রতিবন্ধী। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন কি করার আছে। আমার স্বামীর কি হয়েছে আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আরো জানান অনেকে বলেছিল আমাকে অন্যত্র বিবাহ বসার জন্য কিন্তু আমিত একজন মা। সন্তানকে আর ফেলে দিতে পারি না। অনেক কষ্ট করে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ সব সন্তানকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় এখনও ইতিহাস হয়ে আছি। তবে এই পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
১২/ নাজমুল খান উপজেলার বড় কসবা গ্রামের মৃত কালু খানের ছেলে। নিখোজের সময় বয়স হয়েছিল ২০ বছর। নিখোজ নাজমুলের বড় ভাই নজরুল জানান ১২ বছর হল আমার ভাই নিখোজ। মুলত আমার ভাই নাজমুল ছোট থেকেই একটু পীর,ওলি এবং মাজারভক্ত ছিলো। আমাদের বাড়ির সাথেই খেজুর পাতার ঘর বানিয়ে থাকত। আমরা ওকে ঘরে নেয়ার অনেক চেস্টা করেছি। কিন্তু ও বলত আমি গরীবি হালতে থাকতে চাই। ওই এলাকার বাউল সহিদ সরদার জানান নাজমুল বয়স কম হলেও কোন আধ্যাতিক বিষয় আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছিল। নিখোজ নাজমুলের বড় ভাই নজরুল কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান একদিন এলাকার কয়েকজন প্রভাকশালী মিলে নাজমুলের খেজুর পাতার ঘরটি পুরিয়ে দিলে ওই যে সে নিখোজ হয় একযুগ পার হয়ে গেলেও আর আমার ভাই আসল না বাংলাদেশের এমন কোন পীরের দরবার,মাজার খোঁজ না করছি এমন কোন জায়গা নেই, বলে হাউমাউ করে কেঁেদ দেন।
রহস্যঘেরা নিখোজরা একদিন আসবে এই আশায় সব স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আবার স্বজন হারানোর বেদনায় হৃদয়ফাটা চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে শোকাতুর মায়ের ¯েœহের আচল। স্বজন হারানোর অনন্ত বেদনা নিয়ে অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। নিখোজদের নিখোজ হওয়ার ঘটনা একটি কথার মধ্যেই পরে রইল তারা নিখোজ– !
মানবাধিকার কর্মী আবদুছ ছালেক মামুন বলেন,আসলে এ বিষয়গুলো খুবই দুঃখজনক এবং হৃদয় বিদারক। এ বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের সবার আন্তরিকভাবে কাজ করা উচিত। দারিদ্র্যের কষাঘাতে পরিবারের আপনজনের কাজ থেকে কষ্ট পেয়ে চলে যায় আবার সমাজে লোভে হিংসায় কিছু লোক সুকৌশলে পাচার করে পরে নিখোঁজ বলে প্রচার করে। এদের কে চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মাননাধিকার আইনের ধারা – ৫ “( কাউকে নির্যাতন করা যাবেনা, কিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর অমানবিক বা অপমানকর আচারন করা যাবে না অথবা এহেন শাস্তি দেওয়া যাবেনা)।
সরকারি গৌরনদী কলেজের (অব:) সহকারি অধ্যাপক মো: আবদুল মালেক বলেন,আসলে এ গুলো মর্মস্পর্ষী বিষয়। মানবাধিকার সংঘঠন,আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সবার এ ব্যাপারে অরো আন্তরিকভাবে কাজ করা উচিত। সচেতনতামুলক সভা সেমিনার করা দরকার। প্রতিটা নিখোজ ব্যক্তির বিষয়ে কোন না কোনভাবে থানায় অবশ্যই সাধারন ডায়েরী করা উচিত ছিল। অনেক সময় এ সব সাধারন পরিবারের মানুষগুলো অসেচতনতা ও অজ্ঞতার কারনে থানা পুলিশের বিষয়ে ভয় এবং অপারগতা প্রকাশ করে।
বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরনদী সার্কেল) আ ঃ রব হাওলাদার বলেন, থানায় জিডি করা উচিত ছিল। তবে এখনও নিখোজদের স্বজনরা যোগাযোগ করলে অবশ্যই তারা আইনি সহায়তা পাবেন।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শেখ আবদুল হক চাষী বলেন,ঘটনাগুলো আসলেই বেদনাবিদুর। এ বিষয়ে আইনের অনেক বিধান আছে। একটি পরিবারের একজন মানুষ নিখোজ হওয়ার সাথে সাথে পুলিশকে জানানো উচিত সাধারন ডায়েরী করার দরকার। এ জন্য গ্রাম পুলিশ,জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন প্রতিবেশীর ভালো ভূমিকা রাখা উচিত। বাংলাদেশ জনগনের রাস্ট্র । জনগনের যেমন রাস্ট্রের প্রতি অধিকার আছে তেমনী রাস্ট্র্রও জনগনের প্রতি দায়ভার আছে। নিখোজরাত আমাদের দেশের মানুষ তারা কোথায় কিভাবে আছে এটা খতিয়ে দেখা উচিত। আপনি আর্টিকেল টুয়েন্টি সেভেনে এ বিষয়গুলোর জনগুরত্বপুর্ন বিবরন পাবেন।