গৌরনদীতে ফলেছে দুর্লভ জাবুতিকাবা


মোঃ আহছান উল্লাহ।
গৌরনদী উপজেলার উত্তর চাঁদশি গ্রামের সৌখিন কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল হাওলাদারের মিশ্রফল বাগানে ফলেছে দুর্লভ উপকারি ফল জাবুতিকাবা। ফলটি যেমন মুল্যবান তেমনি পুষ্টিকর এবং ঔষধিগুন সম্মৃদ্ধ। দুর্লভ জাবুতিকাবার আসাতিত ফলন বাংলার কৃষকদের সবুজ অর্থনীতির হাতছানি দিচ্ছে। এ ছাড়াও তার বাগানে রয়েছে বøাক বেরী,পার্সিমনসহ বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ ফলের গাছ। এই জাবুতিকাবার ফলন্ত গাছ দেখার জন্য প্রতিদিন তার বাগানে আসছেন দর্শনার্থীরা।
গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর অঞ্চলে চাষযোগ্য জাবুতিকাবা ব্রাজিলিয়ান আংগুর গাছ হিসাবেও পরিচিত। জাবুতিকাব ম্যারাটেসি পরিবারের সদস্য হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এটি ব্রাজিলের স্থানীয় চিরসবুজ গাছ যা ঘন চামড়াযুক্ত বেগুনি ফলের উৎপাদন করে যা বড় আংগুর ফলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জাবুতিকাবা ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। মৌসুমে এবং রসের পণ্য হিসাবে সারা বছর ধরে সংরক্ষণ করে এটি সর্বদা তাজা খান ব্রাজিলের মানুষ। জবুতিকাবা ফলগুলি ক্রমবর্ধমান অঞ্চলের বাইরে খুব কমই পাওয়া যায়। ব্রাজিলিয়ান আঙুর গাছ নামে পরিচিত হলেও প্রচলিত আঙুর গাছের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তবে মিল আছে ফলের রং এবং আকৃতিতে। এটিকে দ্রাক্ষাও বলা হয়। গাছের কান্ড ফেটে ফলন হয়। এর ফুলের মিষ্টি ঘ্রান খুব আকর্ষনীয়।
গবেষকদের মতে ব্রাজিলের মিনাস গেরেইস অঞ্চলে জাবুতিকাবার উৎপত্তি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। জাবুতিকাবার আরো কয়েকটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায় উরুগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, উত্তর-পূর্ব আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে। এবং ১৯৯৪ সালের দিকে জাবুতিকাবা প্রথম আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা বার্বারায় চাষ হয়। বর্তমানে জাবুতিকাবা গাছগুলি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো এবং সান জোসে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার চাষ হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এবং ব্রাজিলের গাছগুলি পঁয়তাল্লিশ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, গাছগুলি সাধারনত গড়ে দশ থেকে পনেরো ফুটও বাড়ে। জাবুতিকাবা গাছগুলি খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং বীজ রোপনের পর থেকে ফল উৎপাদন করতে আট থেকে দশ বছর সময় নেয়ার কারনে অনেকে চাষ করতে আগ্রহী হন না। তবে ফলন্ত গাছের গুটি কলম এর চারা রোপন করলে ২ বছরের মাথায় ফল ধরা শুরু করে।
কৃষক নজরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, ঢাকা বানিজ্য মেলা থেকে জাবুতিকাবার দুটি কলম চাড়া সংগ্রহ করে তার মিশ্র ফলবাগানে রোপন করলে ২ বছরেই একটি গাছে ফল আসা দেয়। প্রথম দিকে ফল একটু কম আসলেও গতবছর ভালো ফলন হয়েছিল সে ফল তিনি বিক্রি করেননি আত্মীয় স্বজন বন্দুবান্দব ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরন করেছেন। এ বছরও আশাতিত ফলন হয়েছে। তিনি চলতি বছরে এ গাছ থেকে কলম চারা তৈরি করে ৫০ শতক জমিতে বানিজ্যিক চাষ করার জন্য জমি প্রস্তত করছেন। তার মতে হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় জাবুতিকা ফলের গাছ আছে কিন্তু ফলন্ত গাছ নেই। ময়মনসিয়হ কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে একটি ফলন্ত জাবুতিকা আছে আর ২য় ফলন্ত গাছটি আমার। নজরুল আরো জানান আমাদের দেশের আবহাওয়ায় চাষযোগ্য জাবুতিকা একটি সম্ভাবনাময় পুষ্টিকর ফল।
ভেষজ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান জাবুতিকাবা পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যকর উপাদান প্রাপ্তিতে পৃথিবীর উৎকৃষ্ট ফলের মধ্যে এটি একটি। জাবুতিকাবায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পেন্টাটিন, আয়রন, ফসফরাস, ফলিক এসিড, পটাশিয়াম, ভিটামিন ‘ই’ ও ‘বি’ রয়েছে। এ ছাড়াও ভিটামিন ‘সি’-এ ভর্তি। রয়েছে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান।
আইয়ুরর্বেদ বিশেষজ্ঞ প্রিন্সিপাল নিখিল রায় চৌধুরি বলেন, অসাধারন ঔষধি ও পুষ্টিগুন সম্মৃদ্ধ জাবুতিকাবা। আইয়ুরর্বেদ শাস্ত্রমতে এটিকে দ্রাক্ষা ফলও বলা হয়।