জমির কাজে জেলার সেরা বাকেরগঞ্জ

 বি‌শেষ প্র‌তি‌নি‌ধি ।

জমি কিনে তা নিজের নামে রেকর্ড করানো। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা পরিবর্তন। অথবা জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা সমাধান ছুটতে হয়ে ভমি অফিসে। ভুমি অফিসে গিয়ে অনেকের অভিজ্ঞতাই মধুর নয়। সেই ধারণা কার্যত ঘুচিয়ে দিল বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিস। মিউটেশন, কনভার্সান (মালিকানা পরিবর্তন) রাজস্ব সংগ্রহ, ইজারা (পাট্টা) বিলি, খাস জমি ইজারা থেকে জমি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিষ্পত্তিÍ সবেতেই গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে ওই দফতর। সমস্ত সূচকের মাপকাঠিতেই এবারও জেলায় সেরা হয়েছে বাকেরগঞ্জ। পরপর দুই বছর বরিশাল জেলার শ্রেষ্ট সহকারি কমিশনার (ভুমি) হিসেবে বাকেরগঞ্জের এসি ল্যান্ড মো. তরিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক এস,এম অজিয়র রহমান রবিবার বিকেলে শ্রেষ্ট এসি ল্যান্ড মো. তরিকুল ইসলামের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শহীদুল ইসলাম। এর আগের অর্থবছরে বাকেরগঞ্জের সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. তরিকুল ইসলাম জেলা শ্রেষ্ট এসি ল্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাহাড় সম মিউটেশন দফতরের সবচেয়ে হয়রানির অভিযোগ যে ক্ষেত্রে ওঠে, সেই জমি জমা সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিও (নামজারির শুনানী) মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হচ্ছে। ই-মিউটেশন কেস বিগত এক বছরে ৫ হাজার ৪০০ টি নিষ্পন্ন করা হয়েছে যা মোট আবেদনের ৯৮ শতাংশ। অফিসে যাতে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য অফিসজুড়ে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. তরিকুল ইসলাম সার্বক্ষনিক পর্যাবেক্ষণ করছেন। জানাগেছে, পাহাড় প্রমাণ মিউটেশনের আবেদন জমে। চাপ সামলাতে শুক্র-শনিবার ছুটির দিনেও কাজ করছেন ভূমি অফিসের কর্মীরা। ছুটির দিনে বাড়তি কাজ করেও কিন্তু ছবিটা বিশেষ পাল্টায়নি। তারই মধ্যে করোনার প্রদুভাব। থমকে গেল সবকছু। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ভুমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘরে বসেই মিউটশনের কাজ সেরেছেন। সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. তরিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার এক বছরের মধ্যে পুরো চিত্রই পাল্টে যেতে থাকে। মিউটেশনকে হাতিয়ার করে রাজস্ব আদায় নিজের নামে জমি মিউটেশন না-করিয়ে কোনও জমি বা বাড়ি বিক্রি করা যাবে না। মিউটেশন সার্টিফিকেট না-থাকলে করা যাবে না রেজিস্ট্রেশনও। লক্ষ্য এক ঢিলে অন্তত তিনটি পাখি মারা। ‘বাধ্যতামূলক মিউটেশন’ বা নামজারির হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে বাড়ছে রাজস্ব আয়। জমির মালিকা দ্রুত পাচ্ছেন মিউশেন সুবিধা। দীর্ঘদিন মিউটেশনের অভাবে আটকে থাকা জমি বিক্রি করতে পারছেন মালিকরা। অনেকেই জমি কিনে মাথা গোজার ঠাই করেছেন। যারা পছন্দের জমিটি দীর্ঘদিন অপেক্ষা শেষে মিউটেশন করে ক্রয় করতে পেরেছেন। কোন জাদুবলে খাজনা আদায়? ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তাদের মতে বিগতদিনে জমির খাজনা আদায়ের হার মোটেই স্বাভাবিক নয়। বছরের পর বছর খাজনা বকেয়া পড়ে আছে, সেদিকে জমির মালিকদের কোন খেয়াল নেই। যখন জমি বিক্রি করবেন, তখনই খাজনা দেয়া নিয়ে যত তোড়জোড়। এবারে খাজনা আদায়ে অভূতপূর্ব সারা পড়েছিল। এর প্রধান কারণ, মিউটেশনের আবেদনের জন্য যে সব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল জমির হালনাগাদ পর্যন্ত খাজনা জমার প্রমাণ দিতে হবে। ফলে মালিকদের একটি বড় অংশ নিজেদের জমির দীর্ঘদিনের বকেয়া খাজনা জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এর জেরেই জমির খাজনা বৃদ্ধি এক ধাক্কায় তিন গুণের বেশি হয়েছে। প্রায় ছয় বছর ধরে জমির খাজনা বকেয়া ছিল কলসকাঠীর বাগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মন্টু শিকদারের। মালিক মন্টু বলেন, নতুন এ্যাসিল্যান্ড আসার পর মিউটেশন দ্রুত হচ্ছে। এই খবর গ্রামবাসির কাছ থেকে শুনে মিউটেশনের জন্য আবেদন করতে গিয়ে দেখি খাজনা পরিষদের রশিদ বাধ্যতামূলক। তাই সব খাজনা মিটিয়ে দিয়েছিলাম। আমাকে ৪৪৫ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, মিউটেশনে ২৪ দিনের সময় বলা হলেও মাত্র ২৯ দিনেই মিউটেশন করতে পেরেছি। মিউটেশন না থাকায় জমি বিক্রি করতে পারনি, তাই মেয়ের বিয়ে আটকে ছিলো। মিউটেশন হয়েছে শুনে জমি ক্রেতাদের লাইন পড়েছে বাড়িতে। ভুমি অফিসের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সাধারণের ও সং¯’ার কাছে ৫৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা খাজনা আদায়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়। সে অনুযায়ী, আদায় হয়েছে ৫৮ লক্ষ্য ৪২ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ ভাগ। উপজেলা ভূমি সর্বমোট ৫৩৮ একর অর্পিত সম্পত্তির ৫৩৩ টি মামলা কম্পিউটারাইজড করে সকল মামলা ইজারা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি অফিস থেকে খাজনা আদায় প্রসঙ্গে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি অফিসগুলো খাজনা দিতে গড়িমসি করে। কারন অফিস প্রধানরা সরকারি কর্মকান্ডে সবসময় ব্যস্থ থাকেন। খাজনার বিষয়টিকে তারা বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। আবার কোন কোন কর্মকর্তার ধারনা, সরকারি অফিসের খাজনা তো সরকারের টাকা সরকারের পকেটে। তাই সরকারি কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব কার্যালয়ের খাজনা দিতে উৎসাহ বোধ করেন না। এই বার উপজেলা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের জেলা অফিস প্রধানদের কাছে খাজনা বকেয়ার বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তাই

%d bloggers like this: