দাবির প্রয়োজন নাই, উন্নয়ন কীভাবে করতে হয় জানি: শেখ হাসিনা

Share This
Tags

এস এম রহামান হান্নান, স্টাফ রিপোর্টার

“আমরা সারাদেশের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিক উন্নয়নে কারও কিছু দাবি করার প্রয়োজন নাই। আমি জাতির পিতার মেয়ে, আমি জানি দেশের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়।”

পবা উপজেলার হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই উত্তরবঙ্গে এখন আর কোনও মঙ্গা নেই। রাজশাহীর উন্নয়নে যা যা করা দরকার তার সবই করবে সরকার।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাইয়ের জন্ম হয়। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়। এমনকি জনগণের টাকা, এতিমখানার টাকা, সে টাকাও তারা চুরি করে খায়।”

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারের আমলে একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের লাভের কারণে একটি মোবাইলের দাম ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। তখন মোবাইলে কথা বলতে প্রতি মিনিটে খরচ হতো ১০ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার মোবাইলের দাম হাজার-বারশো টাকায় নামিয়ে এনেছে। এখন মানুষ সস্তায় কথা বলতে পারছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে ১১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছে সরকার। রাজশাহীতেও এই বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন হবে। ইতোমধ্যে সরকার এখানে আইটি পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। সেখানে কম্পিউটার, ল্যাপটসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন হবে। এ অঞ্চলের কৃষি নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।”

দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ২০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। বিনা পয়সায় দেয়া হচ্ছে বই। দেশের এক কোটি ৭৩ লাখ শিক্ষার্থী এখন সরকারের বৃত্তি পাচ্ছে। এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের মোবাইলে চলে যাচ্ছে বৃত্তির টাকা।”

আওয়ামী লীগকে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদেরই ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরি করে দিবে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোও দ্রুত মেরামত করা হবে।”

পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তার আগে সকালে তিনি জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

About the Author

-

%d bloggers like this: