পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

Share This
Tags

স্টাফ রিপোর্টার

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে আবারো পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে জুড়ে দেয়া যাবে এমন পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে দেশটি। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তাদের পরীক্ষা চালানো হাইড্রোজেন বোমাটি আণবিক বোমার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে চালানো পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষা থেকে এবারেরটি ৯ দশমিক ৮ গুণ বেশি শক্তিশালী। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করেই উত্তর কোরিয়া একের পর এক পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রেও হামলা করতে সক্ষম বলে দাবি দেশটির।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া: উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জেই-ইন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন’ করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও বিমান মহড়া চালিয়েছে সিউল। গতকাল সোমবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে এ মহড়া চালায়। এ সময় ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পূর্ব উপকূলের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম এফ-১৫ ফাইটার জেটের মহড়া চালানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন ও ফক্স নিউজ।
পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনায় আন্তর্জাতিক মহল: পারমাণবিক পরীক্ষার পরই পিয়ংইয়ংকে পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিকে অবৈধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বোমা পরীক্ষার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব লঙ্ঘনের মারাত্মক দৃষ্টান্ত বলেও জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন।
উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার পরই এর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরীক্ষাকে ‘বৈরী’ ও ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি উত্তর কোরিয়াকে ‘দুর্বৃত্ত দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেনা নামিয়ে তাদের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাতে দুশ্চিন্তা বেড়েছে সমগ্র এশিয়ার।
উত্তর কোরিয়া তার মিত্র দেশ চীনের জন্যও ‘বড় হুমকি ও বিব্রতকর’ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছে, অন্য সব বিকল্পের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিজেকে রক্ষা করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে গতকাল সোমবার ম্যাটিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা গুয়ামের মতো এর ভূখণ্ডভুক্ত এলাকা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কোনো দেশের প্রতি যে কোনো ধরনের হুমকিকে বিশাল সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এটা একই সঙ্গে কার্যকর ও যথোপযুক্ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উত্তর কোরিয়ার ৯০ শতাংশ ব্যবসার অংশীদার চীনও এই পরীক্ষার ‘কঠোর নিন্দা’ জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়া ‘আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতাকে উপেক্ষা’ করছে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে চীন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে উত্তর কোরিয়ার ‘অপরিণামদর্শী’ এই পরীক্ষাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে উত্তর কোরিয়ার এমন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আর রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব দেশকে বিষয়টি নিয়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মস্কো মনে করছে, শক্তি প্রয়োগে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কেবল সংলাপের মাধ্যমে কোরিয়া উপসাগরীয় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতও পিয়ংইয়ংকে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু বিভীষিকা থেকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে প্রতিশ্রতিবদ্ধ ডিপিআরকে (ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া)। এক সময় নিজেরাই তাতে অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু ফের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল তারা, যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অবিলম্বে এই ধরনের কাজ-কর্ম বন্ধ করতে হবে। এতে কোরীয় উপদ্বীপ তো বটেই, গোটা বিশ্বের স্থিতাবস্থার ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়বে। তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লি বলেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করছে কিম জং উন প্রশাসন।

About the Author

-

%d bloggers like this: