পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা দেবে লুকোনো গ্রহ সাক্ষী পৃথিবী

Share This
Tags
এস এম রহমান হান্নান,স্টাফ রিপোর্টার।
এটা নিশ্চিতভাবেই মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষের দেখা সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে’, বলছেন আমেরিকান অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিক ফিয়েনবার্গ। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারের যুগে প্রথমবারের মতো ঘটতে চলা এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ নিয়ে আমেরিকা জুড়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার এই সূর্যগ্রহণ যারা সরাসরি দেখবেন, তাদের সংখ্যা নাকি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। সোমবার মধ্যাহ্ণেই আমেরিকায় নামবে সন্ধ্যা। আকাশে দেখা যাবে তারা। আর পাখিরা ঘরে ফিরতে শুরু করবে রাত হচ্ছে ভেবে। আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত গত ৯৯ বছরের মধ্যে এই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আর কোটি কোটি মানুষ এখন সেই সূর্যগ্রহণ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।  বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা দেবে লুকোনো গ্রহ সাক্ষী থাকবে পৃথিবী ৷ এই সূর্যগ্রহণের সময়, দেখা দেবে লুকোনো গ্রহ ৷ এক আধটা নয়, একসঙ্গে চারটি ৷ ২১ আগস্ট গ্রহণের ফলে চাঁদের ৭০ মাইল ছায়া পড়বে পৃথিবীতে ৷ আমেরিকা, বিশেষত উত্তর আমেরিকা থেকে পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে এই গ্রহণ ৷ চাঁদ যখন সূর্যকে ঢাকবার চেষ্টায় থাকবে আর পাশ থেকে উঁকি দেবে সূর্য, তখন পৃথিবীবাসীরা সেই হালকা আলোয় দেখতে পাবে চারটি গ্রহকে ৷ সম্পূর্ণ খালি চোখে ৷ ভূগোল বইয়ে ছবি দেখার পর যে গ্রহগুলি দেখার জন্য ছোট ছেলেমেয়েরা সময় অসময়ে বাবা মায়ের কাছে বায়না ধরে, সেই গ্রহগুলি দর্শন দেবে আকাশে ৷ দেখা যাবে বৃহস্পতি, মঙ্গল, শুক্র ও বুধকে।

২১ আগস্ট এক বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবে উত্তর আমেরিকা। ৯৯ বছরে প্রথম এমন দৃশ্য দেখা যাবে। এটি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এদিন চাঁদের ছায়া অতিক্রম করতে হবে পৃথিবীকে। এই দৃশ্য দেখার জন্য অবশ্যই আপনাকে চোখ বিশেষ চশমা পরতে হবে।

চাঁদ যেদিকে থাকবে, সেদিকেই দেখা দেবে বুধ ও শুক্র ৷ তার থেকে কিছু দূরে একই সরলরেখায় থাকবে বৃহস্পতি ৷ আকাশে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্রের সৌন্দর্যও সেদিন দেখা যাবে প্রাণভরে ৷ গ্রহণের সময় সূর্য স্থান নেবে লিও নক্ষত্রের মধ্যে।

এই গ্রহণের দৃশ্য দেখার জন্য নাসা সুরক্ষার কিছু মাপকাঠি স্থির করেছেসেগুলি হল-

১) সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাবেন না ৷ গ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ ফিল্টার দেওয়া চশমা ব্যবহার করুন।
২) চশমা যেন ভালো পরিস্থিতিতে থাকে।

কোনো স্ক্র্যাচ যেন না থাকে ৷ চশমা যেন ভাঙা বা দোমড়ানো না হয়।
৩) ৩ বছরের পুরোনো চশমা হলে সেটি ব্যবহার করবেন না।
৪) চশমায় যেন অবশ্যই ISO মার্ক থাকে।
৫) ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে কোনোভাবেই গ্রহণ দেখবেন না।

২০০৯ সালের জুলাই মাসে ভারত, নেপাল , বাংলাদেশ এবং চীনের একাংশ থেকে দেখা গিয়েছিল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

সোমবার পৃথিবীর ওপর চাঁদের যে ছায়া পড়বে, তার সবচেয়ে ঘন অংশটির আয়তন হবে ৭০ মাইল চওড়া এবং আড়াই হাজার মাইল দীর্ঘ। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৪টি অঙ্গরাজ্যেও ওপর পড়বে এই ছায়া। অর্থাৎ এসব জায়গা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

কাজেই লাখ লাখ মানুষ এখন সরাসরি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শহর-গ্রামে ভিড় করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সকালে প্যাসিফিক উপকূলের ওরেগনের মানুষ প্রথম এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। এরপর এটি আটলান্টিক উপকূলের সাউথ ক্যারোলিনার মানুষ দেখার সুযোগ পাবেন আরও ৯০ মিনিট পর।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর একটা বিরাট অঞ্চল জুড়ে দেখা যাওয়ার ঘটনা খুব বিরল।

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এবং সস্তার অত্যধুনিক অপটিক্যাল যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতার কারণে এবার এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহও ব্যাপক।

আকাশের অনেক উঁচুতে নাসা ছেড়েছে ৫০ টি বেলুন, যাতে ফিট করা আছে ভিডিও ক্যামেরা। এই ক্যামেরা দিয়ে সূর্যগ্রহণের লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে অনলাইনে। এটা নিশ্চিতভাবেই মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষের দেখা সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে’, বলছেন আমেরিকান অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিক ফিয়েনবার্গ।

About the Author

-

%d bloggers like this: