Published On: Sat, Jul 22nd, 2017

প্রতিটি উপজেলায় হবে একটি মডেল মসজিদ : প্রধানমন্ত্রী

Share This
Tags

এস এম রহমান হান্নান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম ধর্মের বিকাশ, ইসলামিক সংস্কৃতির প্রসার ও সমৃদ্ধির জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যবহার কেউ যেন করতে না পারে সে জন্য দেশের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। কোনোভাবেই এ দেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না। কারণ ইসলাম এসব সমর্থন করে না।

শনিবার সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তার বক্তব্য শেষে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ধর্ম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে হজযাত্রীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের সুযোগ সুবিধা আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, তারা আরো আরাম আয়েশে কিভাবে হজ পালন করতে পারে, সে বিষয়ে আমরা আরো নতুন নতুন চিন্তা ভাবনা করছি।

ইতোপূর্বে হজযাত্রীদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৭ হাজার। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী হজ করতে যাচ্ছেন। যা রেকর্ড সংখ্যক বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে কাজ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটানোর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করা, বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্ধ দেয়া, মাদরাসা বোর্ড স্থাপন করা, কাকরাইল মসজিদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়া, বাংলাদেশ থেকে মদ, জুয়া নিষিদ্ধ করা সবই বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়েই হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ শুরু করি। সেখানে এক সঙ্গে ৫ হাজার মহিলা যাতে নামাজ আদায় করতে পারে সে জন্য পৃথক ব্যবস্থা করি। এই মসজিদের উন্নয়নে আরো পরিকল্পনা গ্রহণ করি। ছেলে-মেয়ে ও বয়স্করা যাতে মসজিদে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারে সে জন্য মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করি। এভাবে আওয়ামী লীগ সব সময় ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। কিন্ত ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মসজিদের সকল উন্নয়ন কাজ ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া তিনটি পদ নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিজেদের বিশালভাবে জাহির করে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিও দেয়। আজ তাদের বিচার হয়েছে। এ ছাড়া একাত্তরের গণহত্যাকারী রাজাকার আলবদর যারা পাকিস্তানিদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে তাদেরও আমরা বিচার করতে সমর্থ হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াত শুধু ধ্বংসই করতে জানে। তারা ভালো কিছু করতে পারে না। ২০১৪-১৫ সালে তারা আগুন দিয়ে পেট্রলবোমা মেরে ৫০০ মানুষ হত্যা করেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়ে শত শত কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। ২১ আগস্ট আমাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে আমি বেঁচে যাই। কিন্তু আইভি রহমানসহ আমার দলের ২২ জন নেতাকর্মী মারা যায়। বোমার স্পিলিন্টারের আঘাতে কয়েকশ লোক আহত হয়। মোহাম্মদ হানিফও সে আঘাতেই কয়েক মাস ধুকে ধুকে মারা যায়।

হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা পবিত্র মাটিতে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। এ দেশের মানুষ যেন সম্মানের সাথে, ইজ্জতের সাথে বসবাস করতে পারে। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাংলাদেশ যেন সম্মানের জায়গায় পৌঁছতে পারে সে জন্য দোয়া করবেন। আর আমরা এতিম দু’বোন এখন বেঁচে আছি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা আপনাদের খেদমত ও সেবা করতে পারি।

About the Author

-

%d bloggers like this: