Published On: Sun, Aug 6th, 2017

মুক্তা পাওয়া যায় ঝিনুকে

Share This
Tags

নারগিস সুলতানা

মুক্তার ভালোবাসা উৎপ্রেক্ষা হয়ে আছে। কথিত আছে, জেরুজালেমের ১২টি গেটে একটি করে মুক্তা আছে, যা পবিত্রতার প্রতীক। যে প্রতিটি গেট পার হবে, তার জন্য পরবর্তী জীবন সুখ-শান্তিময় হবে।
মুক্তা অন্বেষণের কৃতিত্ব রয়েছে প্রাচীন রোম, চীন, ভারত ও গ্রিসের। চৌদ্দ শতকে বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বর্ণনা করেছেন ডুবুরিদের কোমরে মুক্তা রাখার কাহিনী। তবে আধুনিক যুগে মুক্তা হয়ে উঠেছে প্রধান একটি ফ্যাশন-অনুষঙ্গ, তা কোকো শ্যানেল, প্রিন্সেস ডায়ানা ওয়েলস ও অড্রে হেপবার্নের স্টাইল স্টেটমেন্টের বদৌলতেই। মুক্তার ইংরেজি চবধৎষ, যা ফরাসি চবৎষব থেকে এসেছে। আর চবধৎষ শব্দটি এসেছে মূলত ল্যাটিন চবৎহধ শব্দ থেকে। যার অর্থ সূক্ষ্ম ক্ষুর বা ভেড়ার পা। মুক্তা পাওয়া যায় ঝিনুকের অভ্যন্তর থেকে। এর অন্য নাম মোতি। আঞ্চলিক ভাষায় অনেকে মুকুতা বলে।
মুক্তা চাষের পদ্ধতি হলো- ১ মিলিমিটারের মতো ওজনের বীজ, পুঁতি বা গুটিকা কিংবা নিউক্লিয়াস ঝিনুকের মধ্যে ঢোকানো হয়। খোলসের অভ্যন্তরে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট যৌগ গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তা তৈরি হয়। ঝিনুকের মধ্যে আস্তে-আস্তে বীজ বড় হতে থাকে। একধরনের লালাজাতীয় দ্রবণ বীজটাকে জড়াতে থাকে। পরিষ্কার লবণাক্ত পানিতে মুক্তার চাষ ভালো হয়। মিঠাপানিতেও সম্ভব। এতে পুকুর বা নদীর মাটির স্তরবিন্যাস প্রয়োজন। স্তর যতো সুবিন্যস্ত হবে, মুক্তা ততো ভালো হবে। এজন্য ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে। জুন-জুলাই মাসে মুক্তা উত্তোলন করা হয়।

মুক্তা চাষের প্রবর্তক জন লাটেনড্রেস নামের এক আমেরিকান। তিনি ১৮৬০ সালে প্রথম মুক্তার চাষ শুরু করেন। তবে তারও আগে, স্পেনের সৈনিকেরা ভেনেজুয়েলা উপত্যকার ২০০ কিলোমিটার দূরে মুক্তার বিশাল এক খনির সন্ধান পেয়েছিল। আবিষ্কারের পর মানুষ ভেবেছে মুক্তা নিয়ে, চাষের শুরু থেকে গবেষণাও কম হয়নি, তা চলছে এখনো। নোনা পানি থেকে স্বাদু পানিতে পার্ল উৎপাদন, এমনকি নানা আকারের, নানা রঙের মুক্তা সৃষ্টির নেশায় মেতেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাদু ও নোনা- এই দু’রকম পানিতে মুক্তার চাষ হয় এবং নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের স্বাদু পানিতে মুক্তা চাষ করা যায়। অন্যদিকে সমুদ্র, মহাসাগর, আগ্নেয় প্রবালপ্রাচীরের নোনা পানিতে মুক্তার চাষ হয়।

উনিশ শতকের শেষ দিকে জাপানের কোকিচি মিকিমোতো প্রথম সিনথেটিক পার্ল বা সংকরজাতীয় মুক্তার চাষ শুরু করেন। তখন জাপানই এতে নেতৃত্ব দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তার স্বর্ণযুগের সূচনা ঘটে। এরপর বিভিন্ন দেশে নানা উপায়ে চাষ হতে থাকে। কোনো কোনো দেশ ব্যবসাসফল হয়েছে, আবার কোনোটি ব্যর্থ হয়েছে।

কোথায় সর্বপ্রথম মুক্তা পাওয়া গেছে বা কোনটি মুক্তার শহর হিসেবে পরিচিত, এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ১৬৪৪-১৯১১ সাল পর্যন্ত চীনে চিং বা মাঞ্চ বংশের রাজাদের মধ্যে মুক্তা সংগ্রহ ও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভারতে মুক্তার ইতিহাস দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ। প্রাচীন গ্রন্থ অথর্ব-বেদে একটি মাদুলিতে মুক্তা রাখার উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া রামায়ণে ২৭টি মুক্তা দিয়ে তৈরি গলার মালার কথা পাওয়া যায়। ইতিহাসমতে, ভারতই মুক্তার আদি উৎসভূমি। কিন্তু এ-ধারণাও রয়েছে, পারস্য নয়তো গ্রিস মুক্তার প্রথম উৎসস্থল। অন্যদিকে, ১৯৩৪ সালে ফিলিপাইনে বৃহত্তম মুক্তার সন্ধান মেলে। যার ওজন ছিল ১৪ পাউন্ড। তবে এও জানা যায়, চীনের ঝুজি মুক্তার আদি শহর।

নোনা পানির মুক্তাগুলো যে দেশে হয় সেগুলো হলো: অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ সাগরের মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান। অন্যদিকে স্বাদু পানির মুক্তা উৎপন্ন হয় চীন, জাপান, আমেরিকা প্রভৃতি দেশে।
ছোট, উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় মুক্তা নিয়ে মাতামাতি এক দিনের নয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট এই রতœ আহরণে পড়িমরি- দৌড়ের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু দেশ। দিন-দিন তীব্র হচ্ছে মুক্তার বাণিজ্যে জোয়ারের হাওয়া। এর ব্যবসা কিংবা শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা প্রয়োজন। যেমন- প্রকার, শুক্তি বা নেসরে, দীপ্তি বা উজ্জ্বলতা, পৃষ্ঠ বা সারফেস, আকার, রঙ ও আকৃতি। আর এ বিষয়গুলোর ওপর মুক্তার দাম নির্ধারিত হয়।

• অস্ট্রেলিয়ায় সাদা ও সিলভার ব্লু মুক্তা এবং দক্ষিণ সাগরে সাদা ও কালো রঙের মুক্তা পাওয়া যায়। তাহিতিয়ান মুক্তার রঙ কালো, রুপালি, হালকা ধূসর ও ময়ূর-সবুজ। অন্যদিকে অ্যাকোয়ার সাদা ও গোলাপি, নীল রঙের রুপালি সাদা বা ধূসর হয় কেসি মুক্তাগুলো। তাছাড়া মাবে মুক্তায় রয়েছে রঙধনুর বর্ণিলতা
• শুক্তি বা নেসরে হচ্ছে ঝিনুকের মধ্যে একধরনের সংবেদনশীল অংশ, যা মুক্তাকে বেড়ে উঠতে ও শক্ত হতে সাহায্য করে। শুক্তির জন্য নোনা পানি ভালো
• জ্যোতি বা দীপ্তি মুক্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। যতো উজ্জ্বল এবং স্বচ্ছ হবে, দাম ততো বেশি হবে। তাছাড়া দামি বা ভালো মুক্তার দ্যুতি তীক্ষè ও উজ্জ্বল হয়। ফলে খুব সহজেই পৃষ্ঠতল দেখা যায়
• ক্লিন বা পরিষ্কার মুক্তা অনেক মূল্যবান। দাগ পড়া পার্ল ব্যবহার করা যায় না। কয়েকটি ক্যাটাগরিতে মুক্তার পৃষ্ঠ বা দ্যুতিকে চিহ্নিত করা হয়। যেমন-এ, এএ, এএ+, এএএ
• মুক্তা পরিমাপ করা হয় মিলিমিটারে। একসময় মানুষের ধারণা ছিল, মুক্তা মানেই গোল। যা পুুরোপুরি সঠিক নয়। বর্তমানে বিভিন্ন আকৃতির মুক্তা দেখা যায়। গোলাকার মুক্তা অনেক দামি ও বিরল। এ ছাড়া রয়েছে: আধা বৃত্তাকার, বাটন, ড্রপ, বারোক, রিংগড
• সাদা ও গোলাপির পাশাপাশি অন্যান্য রঙের মুক্তা পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা, ওগুলো নকল। কিন্তু যাচাই করার আগে এমন ধারণা ঠিক নয়। রঙগুলো হলো: সিলভার, আইভরি, রোজ, সিলভার রোজ, লাইট সিলভার, ডার্ক সিলভার, গ্রিন, ময়ূররঙা, কপার ও কালো
• বিভিন্ন সাইজের পার্ল রয়েছে, যেমন: ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৬ ও ১৮ মিলিমিটার। মাঝে মাঝে এর চেয়ে বড় আকৃতির মুক্তা পাওয়া যায়

ব বিষয় জানা থাকলে খুব সহজেই এই শিল্পকে পেশা হিসেবে নেয়া যাবে। এক সময় ন্যাচারাল মুক্তা পাওয়া যেতো না। বেশ কয়েক বছর ধরে বাহরাইন, অস্ট্রেলিয়াসহ ভারত মহাসাগরে তা পাওয়া যাচ্ছে। ১৯২৬ সালে জাপানে অ্যাকোয়া মুক্তার উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়। ফিলিপাইনে ১৯১৭ এবং দক্ষিণ সাগরে ১৯২৮ সালে যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল, তা বাণিজ্যিকভাবে এগোতে পারেনি। ২০১০ সালে চীন অ্যাকোয়া মুক্তা উৎপাদন করে সফল হয়। সেগুলোর ওজন ছিল ১৭ মি.মি.। এর আগে চীন এই পণ্য আমদানি এবং জাপান রপ্তানি করতো। উন্নত মানের মুক্তা চীনেই বেশি পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে চীন তার এই উৎপাদিত পণ্যের ৫০% যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ জাপান, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি করে। দেশটি ২০০৮ সালে ৮০% মুক্তা উৎপাদন করে। চীন তৈরি করছে বিভিন্ন মুক্তার গলার মালা, কানের দুল, আংটি, ঘড়ি, মুকুট, ড্রেস, নুপূর, জুতাসহ বেশ কিছু পণ্য।

মূল্যবান এই রতেœর প্রচারণা তেমন নেই। বিজ্ঞাপন তো দূরের কথা। সোনা ও হীরার গয়নার মনকাড়া বিজ্ঞাপনের আড়ালে মুক্তা ঢাকা পড়েছে। বিজ্ঞাপনে একে কেবল গয়নার বা অন্য কোনো সৌন্দর্যপণ্যের অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা যায়, তাও কালেভদ্রে। বাংলাদেশে এই চিত্র আরও করুণ। তবে সম্প্রতি স্যান্ডেলিনা সাবানের প্রচারণায় কিছু মুক্তা যুক্ত হয়েছে এবং তা বিজ্ঞাপনের আকর্ষণ বাড়িয়েছে বটে।

আমাদের দেশে মুক্তা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। কারণ, এর প্রতি বাঙালির আগ্রহের ঘাটতি। মুক্তা চাষের ইতিহাস আমাদের দেশে দীর্ঘ নয়। এ-কাজে দু-একটা কোম্পানি ছাড়া কেউই এগিয়ে আসেনি। সরকার ও ব্র্যাক অবশ্য বেশ আগেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহায়তায় ‘বিশুদ্ধ পানির মুক্তা সংস্কৃতি’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল ১৯৮৪-১৯৮৬ সালে। উদ্দেশ্য, উন্নত মানের ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষের কৌশল জানা ও খামার স্থাপন করা। উৎসস্থল ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে গোলাপি মুক্তা চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৮২ সালে দেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুক্তার দুটি প্রজাতির ব্যাপারে জানতে পারেন। সেগুলো হলো: লামেলিডেন্স মার্জিনালিস এবং এল. জেনকিনসায়ানাস ভার. ওবেসাস। বাংলাদেশের হ্রদ, নদী, পুকুর ও বিলে এগুলোর চাষ সম্ভব। পরবর্তীকালে এ নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। এই পাইলট প্রকল্পে কাজ করেছিলেন: প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন শাহ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুরুন নাহার বেগম, মমতাজ বেগম ও গবেষণা সহকারী জহিরুল ইসলাম। শুরুর দিকে এই প্রকল্প থেকে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছিল। এমনটা বলার কারণ, বর্তমান সময়ে এটি কী অবস্থায় আছে, জানার সুযোগ নেই। কারণ, মুক্তা বা এর চাষ নিয়ে তেমন লেখালেখি হয় না।

অন্যদিকে ব্র্যাক ১৯৯২ সালে মুক্তা চাষের পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রতিষ্ঠান প্রথম চাষের মাধ্যমে মুক্তা আহরণ করে। কাজটি সাতক্ষীরায় শুরু হয়। নোনা পানির ঝিনুকগুলোকে স্বাদু পানিতে অভ্যস্ত করার মধ্য দিয়ে কাজটি চলে। সেখান থেকে কিছু সাদা ও গোলাপি মুক্তা উৎপাদন করা হয়। এ দেশের দোআঁশ মাটিযুক্ত নদী, পুকুর, বিল মুক্তা চাষের উপযোগী।

ব্র্যাক পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় শুরু করে, তবে তা ব্যর্থ হয়। কারণ, মুক্তা চাষ করে ফল পেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। যথেষ্ট পরিশ্রমের পরও মুক্তা খুব বেশি পাওয়া যায় না। এই ধৈর্য ও পরিশ্রমে অনেকেরই উৎসাহ নেই। অন্যদিকে, এতে পানি নোংরা হয়ে পড়ে। এটাও একটা বাধা মুক্তা চাষের জন্য। আর মুক্তাচাষিদের শিক্ষা, দারিদ্র্য, প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতির অভাব তো রয়েছেই। এখন কারা মুক্তা নিয়ে কাজ করছে, তাও অজানা।
বর্তমানে জাপান, ভারত ও মিয়ানমার থেকে মুক্তা আমদানি করা হচ্ছে। তবে তা খুব সামান্যই। এগুলো বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে এবং সর্বনি¤œ ১০০ টাকার মধ্যে। আর এগুলো পাওয়া যায় আড়ং, গুলশান ও গাউছিয়ায়। এছাড়া বিভিন্ন গয়নার দোকানে তো রয়েছেই। এখানে যেমন দামি মুক্তা আছে, তেমনি কম দামিও। বলা বাহুল্য, আমাদের দেশে নকল মুক্তা বিকিকিনির জায়গা দখল করে আছে। প্রয়োজন শুধু দেখে কেনা।

এদেশে স্বল্প পুঁজির দীর্ঘমেয়াদি এ ব্যবসার ভবিষ্যৎ রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলোর মধ্যে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এই রতেœর প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ সৃষ্টির ওপর। ডিজাইনারদেরও এগিয়ে আসা জরুরি। গয়নায় মুক্তা ব্যবহারের উপযোগী নকশার প্রসারের মধ্য দিয়ে তারা এই রতœটির উপযোগিতা ও আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই এ শিল্প একদিন প্রতিষ্ঠা পাবে।

এদেশে আসল ও নকল মুক্তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বাজারে আসলটি খুঁজে পাওয়া মুশকিল ও সময়সাপেক্ষ। নকল মুক্তা সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং এগুলোর ঔজ্জ্বল্য তীব্র। তবে নামি-দামি গয়নার দোকানে এ সমস্যা কম। নকল মুক্তায় দীপ্তি, আকার, আকৃতি, গড়ন, পৃষ্ঠ ও রঙের ভিন্নতা খুব সহজে চোখে পড়ে। এতে চড়া রঙের প্রলেপ থাকে। ম্যাট লুক নেই বললেই চলে। মুক্তার গায়ে অনেক দাগ থাকে। মূলত অমসৃণ হয়। পানি বা স্প্রে লাগলেই রঙ উঠে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আসল মুক্তা এক প্রলেপে সৃষ্টি হয়; অন্যদিকে নকলে অনেক প্রলেপ লক্ষ করা যায়। ঘনত্বের মাধ্যমেও বোঝা যায়। আসল মুক্তা ভারী হয়, নকলটি হালকা।

About the Author

-

%d bloggers like this: