Published On: Sun, Dec 3rd, 2017

গৌরনদীতে চিকিৎসকের অবহেলায় গৃহবধূর মৃত্যু’র অভিযোগ

Share This
Tags

গৌরনদী প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত এক চিকিৎসকের অবহেলায় শনিবার দিবাগত রাতে শারমিন বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যু বরনকারী ওই গৃহবধুর বাড়ি পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
নিহতগৃহবধু শারমিন বেগমের বোন চায়না বেগম অভিযোগ করেন, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুব হোসেন মির্জার অবহেলায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বোন শারমিন বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঠান্ডাজনিত কারণে শনিবার রাত ৯টার দিকে তার বোন শারমিন বেগমের হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কিক্ষুক্ষনের মধ্যেই স্বজনরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহাবুব হোসেন মির্জা তখন তাকে স্থানীয় আশা প্যাথলজির মালিক পান্না কাজীর প্যথলজির দোকানে পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য পাঠান। প্যথলজিতে বসে পান্না কাজী তার নেবুলাইজার মেশিন দিয়ে রোগীকে গ্যাস দিলে শারমিন বেগম কিছুটা সুস্থ্য বোধ করেন। এর পর শারমিন তার তিন মাসের শিশু কন্যাকে বুকের দুধ পান করান। এর কিছুক্ষন পরই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখে পান্নাকাজী শারমিনের দেহে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এর পর পরই শারমিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
চিকিৎসকের অবহেলায় তার বোন চায়না বেগম মারা গেছে এ অভিযোগ তুলে চায়না তখন কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে ঘটনাটিকে ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই চিকিৎসক ও প্যাথলজি মালিকের কতিপয় দালাল মিলে তড়িঘড়ি করে একটি এ্যাম্বুলেন্সে তুলে শারমিনের লাশসহ তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ ঘটনায় তারা অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে চায়না বেগম জানান।
রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মাহাবুব হোসেন মির্জা বলেন, রোগীকে কোন প্যাথলজিতে পাঠানো হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সী রুমেই আমি তার চিকিৎসা করেছি। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে আমি দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেই। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাতে রাজি হয়নি। পরে তাকে সুস্থ্য করার জন্য আমি শুধু তাকে গ্যাস দেই ও একটি কোটস্ােন (পড়ঃংড়হ) ইনজেকশন দেই। গ্যাস ও ইনজেকশন দেয়ার পর রোগী কিছুটা সুস্থ্য হয়। এরপর সে তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায়। আরো কিছু সময় পর সে বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং মারা যায়।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে থাানার এস,আই তরিকুল ইসলামকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছিল। তিনি সেখানে পৌঁছার আগেই মৃত গৃহবধুর ন্বজনরা তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। চিকিৎসকের সাথে কথাবলে জানতে পেরেছি রোগীনি স্বাসকষ্টে ভূগছিলেন। এ মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। স্বজনরা কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About the Author

-

%d bloggers like this: