Published On: Sat, Nov 25th, 2017

ভূল তথ্য চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানিকৃত আপেলবাহী ট্রাক ১০ ঘন্টা তল্লাশীর অভিযোগ

Share This
Tags

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শরীফপুর সীমান্তে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানিকৃত আপেলবাহী ৯টি ট্রাকে শুল্ক গোয়েন্দাদের তল্লাশির অভিযোগ। তল্লাশিতে কোন অবৈধ ও অতিরিক্ত সামগ্রী না পাওয়ায় ১০ ঘন্টা সময়ে ট্রাকে আপেল বিনষ্ট হওয়ায় প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে আপেলবাহী ট্রাক আটক রাখা হয় রাত ১০টায় পর্যন্ত।
জানা যায়, এ পথে ভারতে বাংলাদেশী সব ধরনের সিমেন্ট, প্রাণ আরএফএল সামগ্রী, চুনা পাথর, ভাঙ্গা পাথর ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হয়। একই ভাবে ভারত থেকে সাতকরা, কমলা, আপেল আমদানি করা হয়। এলসির মাধ্যমে শুল্ক প্রদান করে গত দুই মাস ধরে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতীয় ছোট আপেল বাংলাদেশ আমদানি করা হচ্ছে। সরকারকে রাজস্ব ফাঁিক দিয়ে অবৈধ ও অতিরিক্ত আপেল আনা হচ্ছে মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সিলেট বিভাগীয় শুল্ক কমিশনার, শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয় একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট বিভাগীয় সহকারী শুল্ক কমিশরার ও মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক শুল্ক গোয়েন্দা গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা আমদানিকৃত ভারতীয় আপেলবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালান।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রপ্তানিকারক বদরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান রিমন, তাসদিক হোসেন ইমরান, রমাপদ সেন ও ক্লিয়ারিং এজেন্ট সোহেল রানা চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ৯টি ট্রাকে ভারত থেকে আমদানিকৃত ৪৭ মে. টন আপেল বহন করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। আপেলবাহী ট্রাকগুলো চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন এলাকায় থাকাবস্থায় আবারও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভাগীয় শুল্ক কর্মকর্তা ও শুল্ক গোয়েন্দা শাখায় তথ্য প্রদান করা হয় এসব ট্রাকে অবৈধ ও অতিরিক্ত আপেল রয়েছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে সকাল ১০টা থেকে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন এলাকায় আপেলবাহী ৯টি ট্রাক আটকিয়ে রাত ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সিলেট বিভাগীয় শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমদ রেজা চৌধুরী ও মৌলভীবাজারের সহকারী কমিশনার শুল্ক গোয়েন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ শুল্ক গোয়েন্দা কর্মচারীরা চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ৯টি ট্রাকে তল্লাশি চালান। এসময়ে কোন ট্রাকে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বা অতিরিক্ত আপেল পাওয়া যায়নি।
আমদানিকারকরা আরও বলেন, অনেক কষ্টে ভারতের সাথে এ পথে আমদানি-রপ্তানি চালু রাখা হয়েছে। আর একটি মহল বার বার ভুল তথ্য দিয়ে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সকাল ১০ টায় ৯টি ট্রাকে আপেল লোড করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। আর ভুল তথ্যের কারণে সিলেট থেকে শুল্ক কর্মকর্তারা এসে রাত ১০টায় তল্লাশি সম্পন্ন করেন। এ অবস্থায় ট্রাকে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার আপেল পঁচে বিনষ্ট হয়েছে।
তল্লাশি শেষে শুক্রবার রাত ১০টায় চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ব্রিফিংকালে সিলেট বিভাগীয় শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার আহমদ রেজা চৌধুরী ও মৌলভীবাজারের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে তারা রাতে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আসতে হয়েছে। তল্লাশিকালে ট্রাকে কোন অবৈধ পণ্য ও অতিরিক্ত আপেল পাওয়া যায়নি বলে এই দুই কর্মকর্তা জানান। গোপনে মোবাইল ফোনে তথ্য প্রদানকারী সম্পর্কে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদ্বয় বলেন, তল্লাশিকালে তাকেই উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি।

About the Author

-

%d bloggers like this: