Published On: Wed, Nov 22nd, 2017

গৌরনদীতে বখাটের হামলায় কলেজ ছাত্র নিহত

Share This
Tags

গৌরনদী প্রতিনিধি
বখাটের হামলায় গুরুতর আহত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পালরদী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র শাকির গোমস্তা (১৮) মঙ্গলবার বিবাগত রাতে মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোহেলের চায়ের দোকান ভাংচুর ও তছনছ করে এবং তার বাবার পিঠার দোকানের মালামাল খালে ফেলে দেয়। হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা গতকাল বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে।
পালরদী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রভাষক রাজারাম সাহা জানান, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন দক্ষিন বিজয়পুর গ্রামের ইউসুফ গোমস্তার বখটে ছেলে সোহেল গোমস্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তপন কুমার রায়কে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। এ সময় একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ও উপজেলার আশোকাঠী গ্রামের আইয়ুব আলী গোমস্তার ছেলে শাকির গোমস্তা শ্রেনী উত্তোরণ পরীক্ষা শেষে গেট থেকে বের হচ্ছিল। অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করতে দেখে শাকির এর প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে দু’জনার মধ্যে ঝগড়া ঝাটির এক পর্যায়ে সোহেল ও তার সহযোগীরা গাছের গুডি দিয়ে শাকিরের ঘাড় ও মাথায় আঘাত করে এতে শাকিরের ঘাড় ও মাথায় মাতাতœক যখম হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে শিক্ষার্থীরা রক্তাক্ত যখম ও অজ্ঞান অবস্থায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা ওই দিন বিকেলে সড়কপথে এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ঢাকায় নিয়ে রওনা হন। মঙ্গলবার বিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পৌছলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগন তাকে মৃত ঘোষণা করে।
অপর দিকে এ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল গোমস্তার মা সাজেদা বেগম বলেন, স্কুলের ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর ছাত্ররা গেটে বসে মামামারি করছিল। স্যারেরা তা কন্টোল করছিল না। এ জন্য আমার ছেলে প্রধান শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরন করে। এ ঘটনার পর সাবেক কাউন্সিলর জামাল সোসেন বাচ্চু আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে তাকে মারধোর শুরু করলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জামাল বাচ্চুর লোকজন আমার স্বামীর পিঠার দোকানের মালামাল খালে ফেলে দেয় ও আমার ছেলে সোহেলের চায়ের দোকানটি ভাংচুর ও তছনছ করে।
নিহত ভাইয়ের শোকে বিলাপ করতে করতে শাকির গোমস্তার মেজভাই নাসির গোমস্তা বলেন, আমরা তিন ভাই, এর মধ্যে শাকির সবার ছোট। আমার বাবা গৌরনদী ইউএনও অফিসে পিয়নের চাকুরি করে। পিতার দারিদ্রতার কারনে আমরা শাকিরের বড় দুই ভাই লেখাপড়া করতে পারিনি। আমিও মাষ্টার রোলে উপজেলায় পিয়নের চাকুরি করছি। আমার ছোটভাই শাকির বেশ মেধাবী ছিল। ওকে নিয়ে আমাদের পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। সন্ত্রাসীরা তা শেষ করে দিল। আমরা এর কঠিন বিচার চাই।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, শাকিরের ওপর হামলার ঘটনায় তার মা আলেয়া বেগম বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামী করে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলাটিই এখন হত্যা মামলায় রুপান্তর হরে। পুলিশ হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

About the Author

-

%d bloggers like this: