Published On: Sun, Nov 19th, 2017

আধুনিক যুগে কৃষকের হাহাকার কেন ?

Share This
Tags

আহছান উল্লাহ
আত্মবিস্মৃত,শ্রমবিমূখ,বাংলাদেশী আমরা আজ মহা কষ্টের সম্মূখীন। কৃষক শ্রমিক সবাই আজ বিভ্রান্ত এবং হতোদ্যম। আধুনিকতার যুগে আমাদের কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি থেকে অনেক দুরে,অথচ কৃষি ক্ষেত্রে এর গুরত্ব অনেক কেননা বর্তমানে কৃষি উপকরনের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন করে মাট পর্যায়ে কৃষকরা বেশী উপকার ভোগ করতে পারে না যে কারনে অনেক কৃষক তাদের পেশা পরিবর্তন করছে। যে সব কৃষক প্রতিকুল অবস্থার ভীতর দিয়ে কৃষি কাজ করছে তাহা আবার এক প্রকার দালাল ফরিয়াদের হাতে জিম্মী হয়ে পড়ছে। কৃষকদের জন্য সরকারি ভাবে ব্যাংক ঋনের সহজ ব্যবস্থা করা থাকলেও তা মাটপর্যায়ে কৃষকদের কোন কাজে আসেনা। কেননা বেÑসরকারি কোন ব্যাংক কৃষি ঋন দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কিছু সরকারি ব্যাংক কৃষি ঋন দিলেও সে খানেও রয়েছে নানা আমলা তান্ত্রিক জটিলতা। সাধারন কৃষকদের জন্য সে ঋন পাওয়া সহজসাধ্য হয়না অথচ সাধারন কৃষকরাই কৃষিকে আকরে আছে না প্রতিকুলতার মাঝেও।সব সরকারই কৃষিতে ভূর্তকি দিয়ে থাকেন এ সরকারি সুযোগ কতোটা কৃষকদের হাতে পৌছায় সে সব বিষয় সরকার কখনই খবর রাখেনা যাহা রাজনৈতিক বিবেচানায় বন্টন হয়। তারপর প্রতিবছর অবকাঠামো উণœয়নে কৃষি জমি নষ্ঠ হচ্ছে এ ব্যাপারেও নিতীমালা তৈরী ও বাস্তবায়ন দরকার। স্বাধীনতার ৪০ টি বছর পাড় হয়ে গেলেও আমাদের কৃষি নিয়ে রয়েছে নানা টানাপোরেন। প্রতিবছর প্রতিটা সরকার সফলতার কথা বললেও আমাদের কৃষকরা এর সুফল কতটা পেয়েছে, আমাদের কৃষি থেকে কতটা মরনমূখি বিষাক্ত রাসায়নিক সার বর্জন করা হয়েছে এবং মাটপর্যায়ে কৃষকরা কেমন আছেন এর বাস্তবতা নিয়েও রয়েছে নানা অভিমত। এক কথায় আধুনিক কৃষির যুগে নিরন্নের হাহাকার কেন।
কোন কোন বছর ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মূখে হাসি থাকার কথা থাকলেও আড়তদার ও ফরিয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় কৃষকদের সে হাসি ¤¬ান হয়ে যায়। প্রতি বছর ধানের মৌসুম এলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধ্স বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে আড়ৎদার ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করতে বাদ্য হচ্ছে। এত লাভবান হচ্ছে মধ্যসত্বভোগীরা। বর্গা ও প্রান্তিক চাষিরা এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে ধান চাষ করে ধানের যথার্ত মূল্য না পাওয়ায় তারা কৃষি থেকে উৎসাহ হাড়িয়ে ফেলছে। বতৃমানে কৃষি ক্ষেত্রে নেই বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা। ভূক্তোভোগী প্রান্তিক চাষিরা জানান বর্তমানে জমির মালিককে দেওয়াসহ প্রতি একর জমি চাষ করতে ১৭/১৮ হাজার টাকা ব্যায় হয়। এক একর জমিতে বাম্পার ফলন হলে ১৬ থেকে ১৮ মন ধান পাওয়া যায়। বর্তমান বাজার অনুযায়ী এক একর জমি চাষ করে কৃষকদের ৫/৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয় । কৃষকদের এ ধাড়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হাড়িয়ে ফেলবে।
আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে বৈরী জলবায়ুর প্রভাব বাংলাদেশের কৃষির উপর চরম অঘাত হানছে। ঋতু ভিত্তিক কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনিশ্চিয়তার সৃষ্টি করছে যা প্রকান্তরে খাদ্য নিরাপত্তাকে বিঘিœত করছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী আলোচীত হলেও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকটা কম গুরত্ত পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা জরবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষির উপর বিভিন্ন ভাবে পরতে পারে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ খাদ্য নিরাপত্তাকে চারটি ক্ষেত্রে প্রভাবিত করতে পারে যেমন ১/ খাদ্য উৎপাদন ও সহজ প্রাপ্যতা। ২/ খাদ্য পাওয়ার অধিকার ৩/ খাদ্যের সদ্ব্যব্যবহার ৪/ খাদ্য সরবরাহ ব্যাবস্থা ও তার স্থায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন বিপর্যয় প্রত্যক্ষভাবে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাবস্থাকে ব্যাহত করে,যার প্রভাব পড়ে খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতার উপর। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে তা কৃষি নির্ভর জনগোষ্ঠীর উপর চাপ সৃষ্টি করে। আবার খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পেলে গরীব ও কম আয়ের মানুষদেরকে যথেষ্ট পরিমান মান সম্পন্য খাদ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব সমূহ স্বল্প স্থায়ী কিংবা দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে। তবে বাংলাদেশের মতো কৃষিনিভরশীল দেশের জন্য বর্নিত প্রভাব সমূহ দীঘস্থায়ী হতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনতে পারে। কেননা বাংলাদেশের কৃষি সবচেয়ে বেশী জলবায়ু সংবেনশীল এবং এ দেশের বেশীরভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ দুর্যোগের কারনে কৃষি নির্ভর জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ কর্মচুত কিংবা স্থানচুত করতে পারে যা বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরো বেশী ভয়াবহ অবস্থা ডেকে আনবে। কারন বাংলাদেশের মতো কৃষি ভিত্তিক দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যহত হলে বিরাট এ জনসংখ্যার খাদ্য আমদানী করে ভরন পোষন দেয়া অসম্ভব হয়ে পরবে। আমাদের সংখ্যাধিক্য মেহনতি ভূমিহিন-গরিব ও মাঝারি কৃষকের ভাগ্যের বদল হচ্ছে না ক্ষুধা ও দারিদ্র তাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে যা জাতির উন্নয়নে বর বাঁধা কাজেই কৃষি ্উৎপাদনের মৌলিক কাঠামো,পানির সমস্যা সমাধান,ভূমি মালিকানা,উৎপাদন ব্যাবস্থা,উৎপাদন সম্পর্ক বন্টন ব্যাবস্থা ও বাজার ব্যাবস্থার আমুল পরিবর্তন এবং এসকল বিষয়ে সকল অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করাসহ আমাদের কৃষিজ উৎপাদন থেকে চিরতরে মরনমূখী বিষাক্ত রাসায়নিক সার ও বিসাক্ত কীটনাষক কৃষি থেকে বিদায় দেয়ার মতো নিতি মালা তৈরী করে তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে পারলে কৃষকরাই আমাদের উপহার দিবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সবুজ বাংলাদেশ।
সম্মৃদ্ধি লাভ করতে হলে চাই সম্পদ সৃষ্টি। কায়িক শ্রম ছাড়া এ কাজ করা যায় এ নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে কোথায়ও পাওয়া যাবে না। আজো সেই সোনার বাংলা-সোনার বাংলাই আছে। যার অফুরন্ত কৃষি সম্পদ পাহাড় এবং সমতল গ্রামগুলির আনাচে কানাচে পড়ে আছে। যেমন আছে উচ্চফলনশীল ধান,ফল ও সবজি,চা,পাট,নারকেল,সুপারি,মশলা। আছে অফুরন্ত ভেষজ সম্ভার । তেমনী আছে মাছ,মধূ,দুধ,মাংস,ডিম,রেশম এবং অন্যান্য বনজ ও প্রানী সম্পদ যা পৃথিবীর অন্য কোথায়ও আছে কিনা সন্ধেহ আছে। বর্তমান সময়ে মিডিয়ার গুরত্বপূর্ন ভূমিকায় গ্রামীন বেকার যুবক,ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা শুরু হয়েছে বাংলার আনাচে কানাচে। এই উৎসাহ উদ্দিপনাকে ধরে রাখতে যা করনীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তাই করতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নীচু জমিকে পুকুর ঘের তৈরী করে ফুল,ফল ও সবজি চাষ, পুকুরে মাছ ও হাস চাষ ও পানি সংরক্ষন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিজাত আবর্জনা,পশুপাখির মলমূত্র আবার পুননবীকরন যোগ্য শক্তি হিসাবে কৃষি কাজে লাগছে। কৃসি কাজ ,মৎস চাষ এবং প্রানী সম্পদের বিকাশ একে অন্যের পরিপূরক। কৃষিকে টেকসই করার জন্য ভিন্নধর্মী কৃষি কাজ অত্যন্ত জরুরী।

About the Author

-

%d bloggers like this: