বাংলা তারুন্যের বিশ্ব জয় (পর্ব এক)

Share This
Tags

((আহছান উল্লাহ)) বাংলাদেশে যখন তরুনরা রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে দ্বিধা-দন্ধে ভোগে তখন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত তরুন তরুনীরা বিশ্বের নামীদামী রাষ্ট্রে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ভিন্ন ভাষার লোকদের মন জয় করে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে বাংলা তারুন্যের আলো বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সংবেদনশীলতা দৃঢ় সংকল্প ও র্কমনপৈুণ্যরে জয়জয়কার, তারাই আধুনকি সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে চলছে। এই আধুনিক বিশ্ব¦ গড়তে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশী তরন তরুনীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে তারা। তাদের মধ্যে, যোগ্যতা ও র্কমগুণ চমকে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। দেশের বাইরেও বাংলাদশেরে মুখ উজ্জ্বল করছে বাংলাদেশী তরুণ-তরণীরা। রাজনীতি, ব্যবসা থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, উদ্ভাবন র্সবত্রই তাদের দৃঢ় পদচারণা। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো সেই তরুণ-তরুণীদের বিশ্বজয় সত্যি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বে সুনাম কামাচ্ছে একঝাঁক তারুণ্য। তেমনই কয়কেজন বিশ্বজয়ী তরুন-তরুনীদের নিয়ে সবুজবাংলা ডট কমের প্রধান গবেষক আহছান উল্লাহর ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলা তারুন্যের বিশ্ব জয় প্রথম পর্ব।
রুশনারা আলী ঃ ১৪ ই মার্চ ১৯৭৫ সালে জন্ম নেয়া একজন ব্রিটিশ লেবার পার্টি রাজনীতিবিদ ও ইয়ং ফাউন্ডেসন-এর সহকারী পরিচালক যিনি একই সাথে বেথনাল গ্রিন এ্যান্ড বাউ-এর জন্য সংসদ সদস্য ২০১০ সাল থেকে। রুশনারা আলী ২০১৪ সালে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগ পত্রে তিনি উল্ল্যেখ করেন তার দল বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাথে একমত হয়ে ইরাকে এই এস আইয়ের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তা কোন সমাধান নয় তা দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা সৃষ্টি করবে। তিনি এধরনের যুদ্ধ কখনই সমর্থন করতে পারেন না।
রুশনারা আলী ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে জন্ম নেন সিলেট জেলার বিশ্বনাথে। তিনি মাত্র ৭ বছর বয়সে পরিবারের সাথে লন্ডনের পূর্ব প্রান্তে অভিবাসিত হন যেখানে তিনি মালবেরি স্কুলস অব গার্লস ও টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ-এ শিক্ষা লাভ করেন। টাওয়ার হ্যামলেটে বেড়ে ওঠার সময়ে তার বাবা হাতের কাজ করতেন।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জনস কলেজে তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন যা ছিল তার পরিবারের জন্যই প্রথম ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।
মাইকেল ইয়ং-এর গবেষণা সহকারী হিসেবে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন ও টাওয়ার হ্যামলেটস সামার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংস্কার প্রজেক্টের কাজ করেন, যেখানে মুক্ত শিক্ষার কর্মসূচী চালু আছে ১১ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য।ভাষা সংযোগ-এর উন্নতির জন্য তিনি কাজ করেন যা একটি জাতীয় দূরালাপনী ব্যাখাকারী কর্মকান্ড যেখানে ১০০টির মতো ভাষায় এটা করা হয়।১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সহকারী ছিলেন সংসদ সদস্য ওনা কিং-ইয়ের যিনি বেথনাল গ্রিন এ্যান্ড বাউ জন্য মনোনীত ছিলেন। মানবাধিকার বিষয়ে তিনি বিদেশী কার্যালয়ে কাজ করেন ২০০০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। এর আগে আলী একজন গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন আই পি পি আরে। বার্নলে, ওল্ডহ্যাম ও ব্র্যাড ফোর্ডে ২০০১ সালের দাঙ্গার ফলে স্থানীয় ও জাতীয় মাধ্যমকে গতিশীল করার জন্য একটি কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দেন তিনি যা সম্ভব হয়েছিল ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হোম অফিসের কমিউনিটিস ডাইরেক্টরেট হিসেবে কাজ করে এবং এটা করা হয়েছিল যাতে আর কোন রকম বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয় ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। রুশনারা আলী ২০০৫ সাল থেকে বেথেল গ্রিনে অবস্থিত ইয়ং ফাউন্ডেসন-এর সহকারী পরিচালক যারা নতুন ধরনের সামাজিক বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি একই সাথে টাওয়ার হ্যামলেটস সামার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সদস্য,একজন কমিশনার লন্ডন শিশু দারিদ্র কমিশনের, বোর্ড সদস্য টাওয়ার হ্যামলেট কলেজের , পল হ্যাম্লাইন ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও টেট ব্রিটেন কাউন্সিলের সদস্য।[৬][৭] দ্যা গার্ডিয়ান, প্রসপেক্ট ও প্রগ্রেস ম্যাগাজিনে তিনি জাতীয় ও স্থানীয় নানা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন।.[৮][৯][১০][১১] এছাড়াও তিনি কোয়েশ্চন টাইম এক্সট্রা , বিবিসি রেডিও ৪-এর ওমেন্স আওয়ার এবং থিঙ্কিং অ্যালোড-এ উপস্থিত হন। দ্যা গার্ডিয়ানের মতে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মহিলাদের একজন।
২০০৭ সালে এপ্রিলে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বেথনাল গ্রিন এ্যান্ড বাউ এলাকার জন্য নির্বাচিত হন ও ৬ই মে ২০১০ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১১৫৭৪ ভোট বেশি পেয়ে।.[১৫] তিনি হাউজ অব কমনসে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশী [১৬][১৭] ও ২০১০ সালে নির্বাচিত প্রথম ৩ জন মুসলিম মহিলা এমপির অন্যতম।
পরে ২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের কারণ হিসাবে তিনি উল্ল্যেখ করেন কোয়ালিশন সরকার ইরাকের এই এস এই এল এর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তা তিনি মেনে নিতে পারেন না। তিনি মনে করেন যুদ্ধ কোন সমাধান নয়। বরং আরও এ ধরনের যুদ্ধ আরও রক্তাক্ত আগামি তৈরি করবে। তবে তিনি তার দলের প্রধানের জন্যে পদত্যাগ পত্রে শুভ কামনা করেন এবং বলেন তিনি বিশ্বাস করেন আগামি নির্বাচনে তার দল জিতবে। অন্যদিকে লেবার দলের প্রধান বলেন রুশনারার নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়েই তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হয়ছে।

About the Author

-

%d bloggers like this: