তেজপাতার জাদুগিরি ৭ টি ভেষজ গুন

Share This
Tags

(( পরামর্শক ও লেখক = ডা. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন বি ইউ এম এস ডি ইউ কনসালটেন্ট এ্যান্ড পি এম )) তেজপাতা এক প্রকারের উদ্ভিদ, যার পাতা মসলা হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Cinnamomum tamala। এই গাছটি মূলত ভারত,লেপাল, ভুটান ও চীন ইত্যাদি দেশে অধিক জন্মে। কেবল কি খাবারের সুগন্ধি বাড়াতেই এর ব্যবহার ? নাকি আছে আর ও কিছু গুন ? আসুন জেনে নিই তেজপাতার এমন ৭ টি ব্যবহার যেগুলো আপনি আগে জানতেন না।
তেজপাতা ভিটামিনস ও মিনারেলসে ভরপুর। এতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও পটাসিয়াম রয়েছে । এছাড়া ১০০ গ্রাম তেজপাতা থেকে ২৩ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৪৩ মিলিগ্রাম আয়রন, ৩.৭ মিলিগ্রাম জিংক, ২.৮ মিলিগ্রাম সিলেনিয়াম পাওয়া যায়। ১) ঘামাচি সারায় তেজপাতাঃ ঘামাচি দূর করার জন্য তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পাটায় মিহি করে বাটে নিন। এই তাজপাতা বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন। কোন রকম সাবান ব্যাবহার করবেন না। কয়েকবার ব্যাবহার করলেই ঘামাচি একদম সেরে যাবে। ২) চোখ ওঠা উপশমঃ তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন । সেই পানি ঠান্ডা করে চোখ ধুতে ব্যবহার করুন । চোখ ওঠা দ্রুত আরোগ্য হবে । সকালে ও বিকালে দুই বেলা দেবেন । ৩) ফোঁড়া সারাতেও কার্যকরীঃ ফোঁড়া সারানোর জন্য তেজপাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন । দ্রুত সেরে যাবে । ৪) দূর্বলতা দূর করেঃ শারিরিকভাবে দূর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকারি । কয়েকটা পাতা থেঁতলে ২ কাপ গরম পানিতে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন । এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন । ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তি ও চেহারায় লাবণ্য ফিরে পাবেন । ৫) গলা ভাংগা দ্রুত সারাবেঃ চটজলদি ভাংগা গলা ঠিক করতেও তেজপাতার বিকল্প নেই । ৭ গ্রাম তেজপাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ করে নিন । এরপর ঐ পানি দিয়ে গড় গড়া করুন । গলা ভাংগা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে । ৬) মাড়ির ক্ষতের চিকিৎসায় দারুণ উপকারীঃ মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে ? তেজপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন । তারপর সেটা দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজুন । মাড়ির ক্ষত সেরে যাবে । ৭) অরুচি দূর করেঃ তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে নিয়মিত কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তিতো ভাব চলে যাবে ।
শুধু রান্নাতেই সুগন্ধ ছড়ানোই এর কাজ নয়। বহুবিধ গুনে গুনান্বিত তেজপাতা। এর রয়েছে প্রচুর ঔষধি গুন শরীরের নানা রোগ সারিয়ে তুলতে তেজপাতার গুণাগুন যে অসাধারন তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সুগন্ধ বাড়ানোর ছাড়াও এই খাদ্য উপাদানটির যে আরো অনেক গুণ রয়েছে, সেটি আমরা কয়জনেই বা জানি। ১. অনেক সময় অনেকের ঘন ঘন তেষ্টা পায়। সেক্ষেত্রে ১ লিটার পানিতে তেজপাতা সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ২-৩ বার খান। দেখবেন বার বার তেষ্টা পাচ্ছে না।
২. হালকা গড়নের মানুষের জন্যে তেজপাতা খুব উপকারী। চেহারা ফিরিয়ে আনতে তেজপাতা কুচিয়ে, থেঁতো করে ২কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে এরপর ছেঁকে নিয়ে ২ বার করে ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে জোর আসে, লাবণ্য ফিরে আসে। ৩. চর্মরোগ হলে তেজপাতা থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে সকাল ও বিকেলে খেতে হবে। ৪-৫ সপ্তাহ খেলেই দাদ-হাজা-চুলকানি সেরে যাবে। এছাড়া ওই পানি তুলা ভিজিয়ে দাদের জায়গা মুছে নিলেও কাজ হয়। ৪. অনেক সময় প্রস্রাবের রঙ লালচে হয়। সেক্ষেত্রে তেজপাতা ২-৩ কাপ গরম পানিতে ২ ঘন্টা ভিজিয়ে, এরপর ছেঁকে ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর পান করলে প্রস্রাবের রঙ সাদা হয়ে যাবে।
৫. ত্বক পরিষ্কারে তেজপাতা খুব উপকারী। তেজপাতাকে চন্দনের মতো বেটে, গোসলের আগে গায়ে মেখে ঘন্টা খানেক রাখুন। এরপর গোসল করে নিন। দেখবেন ময়লা উঠে গেছে। এছাড়া যাদের গায়ে দুর্গন্ধ থাকে, তাদের সেই সমস্যাও দুর হয়ে যায়। ৬. পানিতে তেজপাতা দিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের অ্যালার্জি সমস্যা কমবে। ৭. ফোঁড়া হলে যদি খুব যন্ত্রণা হয়, শক্ত হয়ে যায়, তবে এই অবস্থায় তেজপাতা বেটে ২-৩ বার প্রলেপ দিলে যন্ত্রণা কমে যাবে। ৮. যাঁদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, তার প্রতিদিন ১ বার করে তেজপাতা বাটা মেখে আধ ঘন্টা থাকার পর গোসল করে নিলে বেশি ঘাম হওয়া কমে যাবে। এইভাবে ৭ দিন করতে হবে। ৯. তেজপাতা পানিতে সেদ্ধ করে ওই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের অরুচি কেটে যায়। ১০.সর্দিতে গলা বুজে যায় অনেকেরই। সেই সময় জোরে জোরে কথা বললে বা চিত্‍কার করলে গলা ভেঙে যায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তেজপাতা থেঁতো করে ৩-৪ বার একটু করে খেলেই হবে।

About the Author

-

%d bloggers like this: