বিরল প্রজাতির লেজের ‘মোল’

Share This
Tags

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছাড়া হলে দেশের বিলুপ্তপ্রায় বিরল প্রজাতির প্রাণী ছোট লেজের প্রাণী ‘মোল’। রোববার সন্ধায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুরের ফুলছড়ি চা বাগান এলাকায় এটি ধরা পড়া এই প্রাণীটি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে হাত দিয়ে লাউয়াছড়ায় ছাড়া হলো ।
জানা যায়, কালাছড়ার ফুলছড়ি চা বাগানের চা শ্রমিক চৈতন্য ঋকমনের বাড়ির পাশে মাটির নড়া দেখে একটি কুকুর পা দিয়ে কুঁড়ে মাটি সরাতেই কালো রংয়ের এ প্রাণীটি (মুল) উপরে উঠে আসে। এ সময় বাড়ির লোকদেরও চোখে পড়ে ঘটনাটি। তারা অন্যরকম একটি প্রাণী দেখে অনেকটা ভীত হয়ে পড়ে। পরে কয়েকজনে মিলে এটিকে আটক করে একটি থলের ভিতরে ঢুকিয়ে বন্যপ্রাণী সেবাফাউন্ডেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রাণীটিকে এনে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করেন। চলমান বছরের মার্চ মাসে একই চা বাগানে এরকম আরেকটি প্রাণী ধরা পড়েছিল। প্রাণীটির শরীর সামনে পেছনে এক সমান ও সরু। গলা ছোট এবং বেলভেট কাপড়ের মতো উজ্জ্বল কালো রংয়ের এবং এর লেজটা ছোট।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, এ প্রাণীট অনেকটা বিরল প্রজাতির। তবে মাটির নিচে বসবাস করায় এরা মানুষের চোখে ধরা পরেনা। ধরা পড়া প্রাণীটি অনেক টা বন্য শুকরের মতো দেখতে, এর ছোট একটি লেজ যার রং সাদা এবং পায়ের পাতা উল্টো। বাংলাদেশ বণ্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেস রঞ্জন দেব বলেন, এটি ভারতীয় ছোট লেজের ‘মোল’ যা শ্রীমঙ্গলে ২য় বারেরমতো দেখা মিলেছে। এ জাতীয় প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম (ঞধষঢ়ধ গরপৎঁৎধ গরপৎঁৎধ)। সাধারণত হিমালয়ের পূর্ব এবং কেন্দ্রস্থলে ১৫০০ থেকে ২৪০০ মিটার উচ্চতায় এদের আবাস। এরা মাটির নিচের বিভিন্ন কীট পতঙ্গ খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে।
তিনি জানান, প্রাণীটি মাটির উপরে বেশিক্ষন অবস্থান করতে পারে বলে রাতেই এটিকে তিনি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বণ্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেস রঞ্জন দেব, মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান, সজল দেব, সঞ্জিত দেব প্রমূখ।

About the Author

-

%d bloggers like this: