Published On: Sat, Nov 4th, 2017

বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাজা

Share This
Tags

দেশের ১১তম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাজা নামাজ বরিশালের সরকারী জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ নভেম্বর ) বেলা ১১টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে এসে পৌছায়।
বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জিলু স্কুল মাঠে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন মরহুম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ছোট ছেলে শিবলী বিশ্বাস। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওঃ মির্জা নুরুল রহমান বেগ।
জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচীব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ্এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার, জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এ কে এম জাহাঙ্গির, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান রিন্টু, জেলা দক্ষিন বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড আবুল কালাম শাহীন,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আনিসুর রহমান,মোঃ হোসেন চৌধুরী।
জানাজা নামাজ শেষে বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তাকে বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোড এলাকার নিজ বাসায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্বাস ভবনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে সেখান থেকে তার মর দেহ বরিশাল বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারযোগে ১২টা৪০মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সাবেক রাস্ট্রপতি রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল বিমান বন্দরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের টএকটি হেলিকপ্টারে করে সাবেক রাস্ট্রপতি আঃ রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে অবতরন করেন।
সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব এ্যাড.মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা নগরীর জিলা স্কুল মাঠে নিয়ে আসেন।
এসময় তার মরদেহ যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার,মহানগর আ,লীগ সভাপতি এ্যাড.গোলাম আব্বাস চৌধূরী দুলাল,সাধারন সম্পাদক এ্যাড.একে এম জাহাঙ্গির ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ কাদে করে জানাযা নামাযস্থলে নিয়ে আসেন।
উল্লেখ শুক্রবার রাত আটটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
পরে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। নয়াপল্টনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আবদুর রহমানের তৃতীয়, এরপর সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় চতুর্থ এবং গুলশান আজাদ মসজিদে সর্বশেষ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে দাফন করা হবে বলে জানাগেছে।
আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। পেশা জীবনের শুরু হয়েছিল স্থানীয় সমবায় ব্যাংকে। পরে ১৯৫০ এর দশকে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে বরিশাল বার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আইয়ুব খানের শাসনামলে মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন তিনি।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসেন জাতীয় সংসদে।
১৯৭৯-৮০ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ওই সময় দলে তার পদ ছিল ভাইস চেয়ারম্যান।
এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসে। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রথমে স্পিকার ও পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ দিকে ১৯৯৬ সালের মে মাসে অভুথ্যান চেষ্টার অভিযোগ তখনকার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিমসহ তার অনুগত ১৫ সেনা কর্মকর্তার শাস্তির বিষয়টি ছিল দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

About the Author

-

%d bloggers like this: