Published On: Sun, Oct 22nd, 2017

কমলগঞ্জে ধলাই নদীসহ পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি বিপদ সীমা

Share This
Tags

জয়নাল আবদেীন, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
নি¤œচাপের প্রভাবে শুক্র ও শনিবারের টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীসহ পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর নতুন ২টি ও পুরাতন ৪টি ভাঙ্গনে নিমজ্জিত হচ্ছে ব্যাপক এলাকার আমন ফসল ও ধানি জমি। এছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে চাতলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে কয়েক গ্রাম প্লাবিতসহ ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।
অবিরাম মাঝারী বৃষ্টিপাত উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর, রহিমপুর ইউনিয়নের সবগুলো পয়েন্টে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে। কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর গ্রামের ও আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের নতুন ভাঙ্গন এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা, বাঘবাড়ি, গোবিন্দ বাড়ি ও মাঝেরগাঁও, সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ গ্রাম এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে নেমে আসা উজানের ঢল প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তা নিমজ্জিত করে। কমলগঞ্জ-আদমপুর-কুরমা সড়কের শ্রীপুর ও তিলকপুর এলাকার সড়ক পানিতে নিমজ্জিত ছিল।
জানা যায়, ধলাই নদী ও লাঘাটাসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে পুরাত ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রাম্য রাস্তাঘাট নিমজ্জিত করছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম যথাক্রমে কালারায় বিল, শ্রীপুর, পাথারী গাঁও, কানাইদাশী ও গুলের হাওর গ্রাম, সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, ছাইয়াখালি হাওর, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা, মাছেল গাঁও, ধলাইরপাড়, ভাষানী গাঁও ও বনগাঁও, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ কুশালপুর, আলেপুর ও দক্ষিণ কুমড়া কাপন, পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রুপশপুর, শমশেরনগর ইউনিয়নের শিরাউলী, মরাজানের পর, সতিঝির গাঁও, গ্রামের ব্যাপক এলাকার আমন ফসল নিমজ্জিত করে।
উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার সিংহ ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী ব্লক সুপারভাইজর পূর্ণ কুমার সিংহ বলেন, প্লাবনের পানিতে ইসলামপুর ইউনিয়নে ২০০ হেক্টর জমির রোপিত আমন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। শ্রীপুর এলাকার ধলাই নদের পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।
তারা আরও বলেন, সকালে সারা উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমির আমন ফসল নিমজ্জিত হওয়ার তত্য জেলা অফিসে প্রেরণ করেছে। সাথে ব্যাপক এলাকার শীতকালীন শাকসব্জি বিনষ্ট হচ্ছে। কমলগঞ্জের উপরাংশের গ্রামগুলোর ফসলি জমির পানি নেমে যেতে শুরু করে। তবে এখন আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের অবস্থার আরও অবনতি হবে।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢলে নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের নতুন ও পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রাম্য রাস্তা ও জমির আমন ফসল নিমজ্জিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় উপারাংশের উন্নতি হচ্ছে। তবে নি¤œাঞ্চলের অবনতি হচ্ছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন এ পরিস্থিতির উপর সার্বিক নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে পালকী ছড়া চা বাগান, ইটারঘাট, কালারায়ের চর, মনোহরপুর, দত্তগ্রামসহ অন্যান্য গ্রাম নিমজ্জিত হচ্ছে। শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ঢলে পানি প্রবেশ করছে এসব গ্রামে। তিনি আরও বলেন, অবস্থা দেখে অনুমান করা যায় এ অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। তাছাড়া পানির ¯্রােতের আঘাতে মনু সেতুও এখন ছুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তিনি একানে যোগদান করেছেন। সবকিছু গুছায়ে উঠতে পারেননি। তবে তার কার্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা মনু ও ধলাই নদের সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারী করছেন।

About the Author

-

%d bloggers like this: