Published On: Wed, Oct 18th, 2017

দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া

Share This
Tags

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রায় তিনমাসের বেশি সময় পর লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্স একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামেন। পরে খালেদা জিয়াকে ভিআইপি লাউঞ্জে অভ্যর্থনা জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ভিআইপি লাউঞ্চে প্রবেশে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
খালেদা জিয়া বিমানবন্দরে নামার পর গাড়িতে করে সরাসরি গুলশানে তার বাড়ির পথে রওনা হন। তার সঙ্গে ছিলেন তার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা আখতার।
এদিকে চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে খালেদার এবারের সফরের কথা বিএনপি বললেও আওয়ামী লীগের নেতারা তার এই সফরের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করছিলেন। তার ফেরা নিয়ে সন্দেহের কথাও বলছিলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা; যদিও বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে থাকার মধ্যেই নাশকতা ও মানহানির তিন মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে; যার পেছনে সরকারের হাত রয়েছে বলে বিএনপি নেতাদের দাবি।
খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর মোড় থেকে বনানীর কাকলী পর্যন্ত সড়কের এক পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সমবেত হয়। তাদেরকে ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধবাবে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দিতে দেখা দেছে। খালেদা জিয়া গাড়ির ভেতর থেকে দুই হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিনন্দনের জবাব দেন। মিছিলের কারণে খালেদা জিয়ার গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে যায়। এতে পুরো সময় বিমানবন্দর থেকে বনানীমুখী রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। এর আগে পুলিশ মাইকিং করে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তার মধ্যে জটলা না করতে সতর্ক করে দেয়।
বিমানবন্দরে প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত ছিল। খালেদা জিয়ার দেশে পৌঁছা পর্যন্ত বিমানবন্দরে সাধারণ কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ সময় যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকেও বিমানবন্দর এলাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন তিনি। লন্ডনে বড় ছেলের পরিবার অর্থাৎ তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে নিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করেন খালেদা জিয়া। গত ৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের মুরফিল্ড হসপিটালে তার ডান চোখের অস্ত্রোচার হয়। হাঁটুর আর্থারাইটিসের চিকিৎসাও করিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নেতারা বিমান বন্দর মসজিদের কাছে সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান এবং খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি আসলে ফুল দিয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর মোড় থেকে বনানীর কাকলী পর্যন্ত সড়কের এক পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সমবেত হয়। বিমান বন্দরের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক পুলিশও মোতায়েন করা হয়। জলকামানের দুইটি গাড়ি, প্রিজন ভ্যানসহ পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, আমাদের নেত্রী দেশে ফিরবেন বলে দলের নেতা-কর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে। অথচ আপনারা দেখবেন পুলিশ কতভাবে তাদেরকে বাধা দিয়েছে। বিমানবন্দর সড়কে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যাতে লোক সমাগম না হয়। তারপরও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ দেশনেত্রীর আগমনে শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুত।
মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক মনোভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। একে তিনি ভয় পান না। আমাদের নেত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পন করে ওইসব মামলায় জামিন নেবেন।
মঙ্গলবার লন্ডনের স্থানীয় সময় রাত সোয়া দশটায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ঢাকার পথে রওয়ানা হন তিনি।

About the Author

-

%d bloggers like this: