গৌরনদীতে দশ বছরে কৃষি জমি কমেছে সাত হাজার একর অবৈধ দখল আর দুষনে বিবর্ন গৌরনদীর তেত্রিশ খাল

Share This
Tags

আহছান উল্লাহ।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অবৈধ দখল আর দুষনে বিবর্ন তেত্রিশ খাল এক নদী। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় ও কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত অবোকাঠামো নির্মানে গত দশ বছরে কৃষি জমি কমেছে সাত হাজার একরের বেশী। অবৈধ দখল ও দুষনে বিশ খাল বিলুপ্তির পথে। সরকারিভাবে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা না নেয়ায় এর তিব্রতা আরো বারছে। নেতিবাচক প্রভাব পরছে খাদ্য উৎপাদন,কৃষি,প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রর উপর। করোনা প্রাদুর্ভাবে শহর থেকে গ্রামমুখো পরিবারগুলো কৃষিতে ঝুকছেন। তাদের আগ্রহ ধরে রাখতে এবং গ্রামীন অর্থনীতির সুফল পেতে, পরিকপ্লিত অবোকাঠামো নির্মানসহ জরুরিভাবে খাল নদী উদ্ধার করে পানির সমস্যা দুর করার জোড় দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, ২০১১ সালে গৌরনদী উপজেলায় মোট কৃষি আবাদি জমি ছিল ৩৪হাজার ১শ ১২ একর। ২০২০ সালে সে কৃষি জমি কমে দাড়িয়েছে ২৭হাজার ৩৪ একরে। দশ বছরের ব্যবধানে কৃষি জমি কমেছে ৭ হাজার একরেরও কিছু বেশী। ২০১১ সালে গৌরনদীতে খাদ্য উৎপাদন হত ১০ হাজার ১৮ মেঃ টন। চলতি বছরে গৌরনদী কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী মোট খাদ্য উৎপাদন দেখান হয়েছে ৪৩ হাজার ১শ ৩০ মেঃ টন।
কৃষক সহিদ বেপারি,দেলোয়ার সরদার,ছালাম বেপারী,সুলতান মিয়া জানান খালগুলি মরে যাওয়ায় ইরি বেøাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হাড়িয়ে ফেলেছি। উত্তর বিজয়পুর গ্রামের ইরি বেøাকের ম্যানেজার মনির হোসেন সরদার ক্ষোভের সাথে বলেন,গৌরনদী গয়নাঘাটা খালের উপর নির্ভর করে প্রায় ২২টি ইরি ধানের বেøাক হত। প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ্যভাবে কয়েক হাজার কৃষক ইরি আবাদ করে জীবীকা নির্বাহ করত। খাল মরে যাওয়ার পর বড় খাল থেকে ভারী পাম্প বসিয়ে মৃত খালে পানি দিয়ে ইরি বেøাকগুলো চালু রাখা হত যদিও কৃষকের খরচ বেশী পড়ত তারপরও চালু ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তাও বন্ধ যে কারনে অনেক কৃষক পেশা বদল করেছেন আর এ চিত্র এখন উপজেলার সর্বত্রই। তাদের দাবী করোনা প্রভাবে অনেকেই কৃষি কাজে ঝুকছেন। তাদের কৃষির প্রতি আগ্রহটা ধরে রাখলে গ্রামীন অর্থনীতী ভালো থাকবে। কিন্তু খাল দখলসহ কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মানসহ নানা কারনে তা ¤øান হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,টরকি বন্দর সহ বিভিন্ন স্থানে আড়িয়াল খার শাখা পালরদী নদীর তীর ও খাল দখল করে পাকা দালান কোঠা তৈরী করেছেন অনেকেই। ময়লা আবর্জনা ফেলে দুষন করছে নদী ভরাট করা হচ্ছে খাল । একই চিত্র উপজেলার সর্বত্রই উপজেলা সদরের গয়নাঘাটা খাল দখলের মহাউৎসব চলছে। একইভাবে বার্থী খাল দখল করে ভারী স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। একই চিত্র পাররদী নদীর সংযোগ খাল গৌরনদী বন্দর থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে বিল্বগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পাকা,আধাপাকা ২০ টি স্থাপনা তৈরি করেছে অবৈধ দখলদাররা। চাঁদশি,মাহিলাড়া,আশোকাঠী,বাটাজোড়,শরিকল,খাঞ্জাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল দখল করা হচ্ছে অনেক আগে থেকেই। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বৃহত বানিজ্য বন্দর টরকিতে। বন্দরটি পালরদী নদীর মোহনা ও ছোট বড় ৬টি খালের সংযোগ ছিল বন্দরের সাথে। বর্তমানে অবৈধভাবে দখলের কারনে খালগুলো শনাক্ত করাও কঠিন। দখলদাররা খালগুলো দখল করে নিয়েছে। ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে এক শ্রেনীর প্রভাবশালী বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রহস্যজনক কারনে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। টরকি ও গৌরনদী সদরের কয়েকজন দখলদার তাদের কিছু হবে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছেন। রহস্যজনক হলেও সত্য অনেক প্রভাবশলী অবৈধভাবে খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির পর নিজস্ব মালিকানায় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানাগেছে, দু-বছর আগে গৌরনদী উপজেলার ৩৩ টি ছোট বড় খাল ও পালরদী নদীতে ২শ ৭৩ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়। সে তালিকা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে নদী কমিশনে প্রেরন করা হয়েছে। তবে এ তালিকা দৃশ্যমান দখলদারদেও চেয়ে অপ্রতুল বলে এলাকার সচেতন মহল মত প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় ব্যাবসয়ী হাজী লিটন আকন,লিয়াকত তালুকদার,মিজান সরদার,নুর মোহাম্মদ শরীফসহ আরো অনেকে জানান, খালগুলি অবৈধ দখলে ও দুষনে বিলুপ্তির পথে। অনেক খালের চিহ্ন পর্যন্ত নাই। বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিত ¯øুইজ গেট নির্মানেও অনেক ক্ষতি হয়েছে খালগুলোর। অবৈধ দখল এবং দুষনমুক্ত করে খালগুলো খনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাড়াতে না পরলে গ্রামীন অর্থনীতি চড়ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। খাদ্য উৎপাদন,কৃষি,প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রর অপুরনীয় ক্ষতি হবে। বর্ষা মৌশুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে। অপরিকল্পিতভাবে সরকারী বে-সরকরি বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানেও কমছে কৃষি জমি।
গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান,কৃষির মুল হচ্ছে পানি খালগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে এ এলাকায় কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন,অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অনেক দখলদারকে সাবধান করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা না সরালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতমধ্যে তিনটি খাল পুনখননের জন্য প্রকল্প পাশ হয়েছে। মোট কথা নদী খাল দখলে নুনতম ছাড় দেয়া হবে না।

About the Author

-

%d bloggers like this: