আগৈলঝাড়ায় বন্যা মোকাবেলায় আট-দফা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি এক যুগেও

Share This
Tags

আহছান উল্লাহ।
স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যার কবল থেকে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলাকে মুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৮দফা প্রকল্প এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় উপজেলার কৃষিজমি এক ফসলি জমিতে পরিনত হয়েছে। প্রতি বছরই স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরে ভারী বর্ষন ও বন্যায় ধান, মাছের ঘের, পান বরজ ও ঘর বাড়ি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে কৃষকদের ফসল উৎপাদনের স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন ২০০৭ সালে উপজেলা ও জেলা প্রকৌশল বিভাগ বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট, স্লুইজ গেট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এবং সরেজমিনে গুরুত্ব বিবেচনা করে ৮কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রেরণ করেন পাউবো’র কাছে । ওই প্রকল্প গত ১৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।

উপজেলাকে স্থায়ীভাবে বন্যা মুক্ত করার সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল- বাকাল থেকে রাজিহার-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরী বাঁধে ১নং ব্রীজ সংলগ্ন খালের মুখ উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচলের সুবিধাসহ ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ, বাকাল-রাজিহার-মাগুরা বেরিবাঁধের রাজিহার ব্রিজ সংলগ্ন রাজিহার-ত্রিমুখি খালের মুখ উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচলের সুবিধাসহ ব্রীজ বা কালভার্ট নির্মাণ, বাশাইল-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের মধ্যবর্তি স্থানে একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ, পয়সারহাট-ত্রিমূখী বাজারের সুবিধাজনক স্থানে ৮থেকে ১০দরজা বিশিষ্ট স্লুইজ গেইট নির্মাণ, পয়সারহাট-কালুরপাড়-রতœপুর বেরী বাঁধের রামের বাজার খালের মুখে স্লুইজ গেইট বা ব্রিজ নির্মাণ, পয়সারহাট-কালুপাড়-রতœপুর বেরীবাঁধে কাঠিরা খালের মুখে কালভার্ট নির্মাণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গোপালগঞ্জের রামশীল স্লুইজ গেইট, ছয়গ্রাম (মিশ্রীপাড়া)স্লুইজ গেইটসহ বেরী বাঁধে ইনলেট, আউটলেটগুলো জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার ও উপজেলার বিভিন্ন খালের মুখের বাঁধ অপসারণ করে সেখানে ব্রিজ নির্মাণসহ খালগুলো পুণঃ খননের সুপারিশ। এক যুগ পরেও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখেনি।

উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৫৫.৪ বর্গ কি.মি. নিম্নাঞ্চল ভারী বর্ষন,উত্তরাঞ্চলের থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও নদীর পানি ঢুকে প্রতি বছরই কৃত্তিম বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্দতার সৃষ্টি হয়। গত ৩দশকে কৃত্তিম বন্যায় এলাকার ২৬ হাজার কৃষক পরিবারসহ আড়াই লক্ষাধিক জনগনের উঠতি ফসল, মৎস্য সম্পদ, পশু সম্পদ, পান বরজসহ বিভিন্ন প্রকার সম্পদের ব্যপক ক্ষতি হয়ে আসছে।
উপজেলার কৃষক ও কৃষক সংগঠক খলিল মোল্লা ও রবিউল মুন্সি জানান, ইরি-বোরো চাষের পরে বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে ফসলের ক্ষতির চিন্তা করে কৃষকরা জমিতে আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ ধেকে বিরত থাকছেন। যে কারনে এলাকার কৃষি জমিগুলো এক ফসলীতে পরিণত হয়েছে। তারা আরো জানান কয়েক বছর আগে উপজেলার কয়েকটি স্থানে অপরিকল্পিত স্লুইজ গেট নির্মান করা হলেও এ গুলো কৃষকের কোন কাজে আসছে না। স্লুইজ গেটগুলো রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অকেজ পরে আছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় বাসিন্ধারা জাতির পিতার ভাগ্নে, মন্ত্রী পদমর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বরিশাল ১ আসন (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা) এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সুদৃস্টি কামনা করছেন ।

About the Author

-

%d bloggers like this: