গৌরনদীতে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ।
অভাবী পরিবারের খাদ্যের যোগান দিতে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পরছেন শিক্ষার্থীরা। ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা পরিবারের খাদ্যের যোগান দিতে ইচ্ছার বিরুদ্ধেও সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। জড়িয়ে পরছেন বিভিন্ন পেশায়। করোনা ক্রান্তিকালে মধ্যবিত্ত এবং নিন্ম আয়ের পরিবারে দেখা দিয়েছে এ সমস্যা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পরার আশঙ্কা সচেতন মহলের।
উপজেলার চরগাঁধাতলি গ্রামের কিশোর শিক্ষার্থী রায়হান। গেড়াকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। বিবর্ন চেহারা নিয়ে রং মিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করছে একটি মাদ্রাসায়। সাথে কাজ করছেন রং মিস্ত্রী বাবা বাবু সরদার। বাবু সরদার জানান ১৫ বছর রং মিস্ত্রীর কাজ করে ৬ সদস্যর সংসার টানাপোরেনের মধ্যে চালিয়ে আসছি। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি। করোনার কারনে কোন কাজ ছিল না। দুই দিন আগে গৌরনদী বন্দর মাদ্রাসায় একটু রংয়ের কাজ পেয়েছি। অন্য লেবার আনলে ৪-৫শ টাকা দিতে হবে। তাই ছোট ছেলেকে নিয়ে আসছি স্কুল চালু হলে আবার স্কুলে যাবে।
উপজেলার প্রত্যন্ত খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দোনারকান্দি গ্রামের নিপা গাইন। বাকাই নিরাজ্ঞন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী । বাবা নেই মা সরলতা গাইন ঝিয়ের কাছ করে ৪ সদস্যর সংসার চালাতেন। করোনার কারনে কাজ না থাকায় এখন অস্থায়ীভাবে ঝিয়ের কাজ করেন সাথে যোগান হিসেবে মেয়েকেও নিয়ে যাচ্ছেন সাথে। সরলতা গাইন জানান মেয়েটি টিউসনি করতো করোনার কারনে তা বন্ধ। এখন আমার সাথে ছুটা কাজে যোগান দিচ্ছে। একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শেনীর ছাত্র সাব্বির হোসেন ও ৮ম শ্রেনীর ছাত্র রবিঊল গাজী অভাবের কারনে দিনমজুরের কাজ করছে। সরকারী গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রাসেল ও দিপু সংসারের অভাবের কারনে পোনা মাছের হকারি করছে।

খবরের অন্তরালে থেকে যাওয়া অনেক পরিবারের শিক্ষার্থীরা,অভাবি পরিবারের খাদ্যর যোগান দিতে ইচ্ছার বিরুদ্ধেও সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। সারাদিন হাড়ভাংগা পরিশ্রম করে পড়াশুনায় মন বসানো কঠিন। করোনা পরবর্তীকালে এ সব শিক্ষার্থীদেও ভবিশ্যত অনিশ্চিত হয়ে পরার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
গৌরনদী বাকাই নিরাজ্ঞন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক পার্থ সারতি হালদার বলেন, আসলে এ সব দৃশ্য দেখে আমরাও মর্মাহত। এদের মেধা বিকাশের সময় হাড়ভাংগা পরিশ্রম মানষিক চাপেও ফেলবে। তবে সরকরিভাবে করোনাকালীন সহযোগীতার ব্যাপারে এ সব পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।
সরকারী গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ওলিউল্লাহ বলেন,আসলে করোনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য স্কুল বন্ধ রয়েছে। মধ্য ও নিন্ম আয়ের পরিবারের সমস্যা হতে পারে। এখন অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও পেশা পরিবর্তন করছেন। তবে বিদ্যালয় কেন্দ্রীক সব সুযোগ সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাবেন।
গৌরনদী উপজেলা মাধ্যমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার লিটু চ্যাটার্জি বলেন,করোনাকালে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কোন শিক্ষার্থীকে ঝড়ে পরে যেতে দেয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সব সুযোগ সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাবেন। ইতোমধ্যে অনলাইন ক্লাশেরও ব্যাবস্থা হচ্ছে।
শিক্ষা উন্নয়নকর্মী সাইফুজ্জামান রানা কালের কন্ঠকে জানান, কোভিট নাইন্টিন পরবর্তী সময়ে অনেক শিক্ষার্থীই ঝড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদেও শিক্ষার সাথে কাজের একটা বিষয় আছে। কিন্ত সেখানে বয়সেরও একটা ব্যাপার আছে। সরকারের এসডিজি ২০৩০ লক্ষ্য অর্জনরে জন্য শিক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু বৈশ্বিক একটি সমস্যা আমরা পার করছি সে ক্ষেত্রে করোনাকালীন সরকারের দেয়া বিভিন্ন সহযোগীতার আওতায় এসব পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করা উচিত। যাতে অভাবের কারনে এ সব শিক্ষার্থীরা ঝড়ে না পরেন। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা বিকাশের সময় উপার্জনে ব্যাস্ত হলে এর একটা বিরুপ প্রভাব পরবেই। সরকারের পাশাপাশি সচ্ছল ব্যাক্তিদেরও এ সব পরিবারের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

About the Author

-

%d bloggers like this: