গৌরনদীতে করোনাকালের জীবন জীবিকা

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ।
বরিশালের গৌরনদীতে করোনা পরিস্থিতির কারনে, দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ব অনেক মানুষই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে না পাড়ায় বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। আবার বিভিন্ন শহর ছেড়ে অনেকেই নিজ এলাকায় ফিরে বেকার হয়ে হতাসাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
বরিশালের গেীরনদী পৌরসভার দক্ষিন পালরদী গ্রামের ভাংগারী মহাজন হাবিব বেপারী ভাংগারি ব্যাবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ১০/১২ জন হকারও ছিল। করোনার কারনে ২ মাস আগে হকারদের হিসাব নিকাস চুকিয়ে বিদায় দিয়েছেন। অনেক টাকার ভাংগারি কিনে রেখেছেন ঢাকার মহাজনরা এখন ভাংগারি নিতে চাচ্ছে না তাদের ভাংগারি মাল দেয়ার কথা বললে মহাজনরা বলে করোনা না গেলে মাল পাঠাবেন না। উপায়ন্তর না পেয়ে এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। একই গ্রামের খোকন হাওলাদার ফুসকা,আচার ও বাদাম বিক্রি করতেন বিভিন্ন স্কুল কলেজে ঘুরে ঘুরে । দিন শেষে সব খরচ পুশিয়ে ৫/৭শ টাকা আয় হত এ দিয়েই ৭ সদস্যর সংসার চলত। বর্তমানে করোনায় স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় সে ব্যবসা করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে এখন রিকশা চালাচ্ছেন যাত্রী কম থাকায় প্রতিদিন ২/৩শ টাকা আয় হচ্ছে তা দিয়ে কোন মতে চলছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত হাজী পাড়া গ্রামের সাকিল সরদার একটি কনজুমার কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন চটত্রামের রাঙামাটি এলাকায়। ঠিকমত বেতন না পাওয়ায় চাকুরি ছেড়ে চলে আসেন এলাকায়। উপায়ন্তর না পেয়ে পানের বড়জে কাজ করছেন এত ৩/৪শ টাকা করে পান প্রতিদিন তাও আবার প্রতিদিন কাজ থাকে না। গোবর্দ্ধন গ্রামের আমজাদ তালুকদার ঢাকায় ইমারত নির্মান কাজের সাব কন্ট্রাকটরি করতেন। কাজ না থাকায় পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছেন। জমানো কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে প্রায় দুমাস পার করলেন কিন্তু চলতি মাসে মাসবেতর জীবনযাপন করছেন। কোন কাজ জোগার করতে পারছেন না।
গতকাল শনিবার সকালে গৌরনদীর চাঁদশী এলাকায় ভ্যানে করে লেবু আর ডিম বিক্রি করতে দেখাযায় সৌরভ নামে একজনকে। তিনি টিউশনি করে সংসার চালাতেন করোনায় টিউসনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজের এলাকা থেকে দুরে এসে এ ব্যবসা করছেন যাতে তাকে কেউ না চেনে। দিন শেষে ৫/৭শ টাকা আয় হয় এ দিয়েই চলছে তার ৬ সদস্যর সংসার। বানীয়াশুরি গ্রামের দুলাল সরদার রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন মজুরি পেতেন ৬/৭শ টাকা এখন কাজ নেই। দুএকটা কাজের খবর এলেও মজুরি কমদিতে চাওয়ায় পান বড়জে কাজ করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে এ ভাবে অনেকেরই করোনা পরিস্থিতিতে দুর্বিসহ জীবন সংগ্রামের কথা শুনা গেছে। অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। হঠাত পেশা পরিবর্তন করতে গিয়ে নানা বিরম্ভনার শিকার হচ্ছেন অনেকে।আবার পর্যাপ্ত কাজও পাওয়া যাচ্ছে না।
করোনা পরিস্থিতিতে ভাংগারী মহাজন বর্তমানে ঝালমুরি বিক্রেতা হাবীব বেপারী,আচার বিক্রেতা খোকন হাওলাদার,সাকিল সরদার,রাজমিস্ত্রি দুলাল সরদার ও সৌরভের মতো অনেকেই পেটের তাগিদে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরাও দ্রুত করোনা পরিস্থিতির অবসান চান।

About the Author

-

%d bloggers like this: