কৃষি ক্ষেত্রে কীট পতঙ্গ-তত্ত্ব (প্রথম পর্ব)

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ.
কীটপতঙ্গ প্রানি জগতে বৃহত্তম গোষ্টী। এই কীটপতঙ্গই প্রানীজগতের বৃহত্তম পর্ব ও ‘শ্রেনী’ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সমগ্র প্রানীকুলের প্রায় আশি শতাংশই কীটপতঙ্গ। তাই কীটতত্তের ব্যাবহারিক প্রয়োগ মানব সভ্যতার অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। বিভিন্ন ফসলে,জমিতে.বাসস্থানে ও গুদামজাত সশ্যে কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রানী -শত্র“র উপদ্রব ও ক্ষতি স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ বা জলবায়ুর উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে প্রচেষ্টা চালালেও মানুষ আজও কীট শত্র“ দমন বা প্রতিরোদ করতে পারেনি। এটা নির্মম পরিহাস।
অন্যান্য বিজ্ঞানের ন্যায় কীটতত্ত্বের বিকাশ ও অগ্রগতি অব্যাহত। উন্নততর গবেষনা এবং প্রগতির হার দ্বিতিয় বিশ্বযুদ্ধের পরে উলে¬কযোগ্যভাবে দ্রুততর হয়েছে। কীট-পতঙ্গ,পরিবেশ ও পোষক উদ্ভিদ বা প্রানীর মধ্যে যে ত্রিভূজীয় সম্পর্ক রয়েছে তা আধুনিক কৃষি বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ও নিবিড়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক জটিল রুপ ধারন করেছে।
ক্রমর্দ্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে উৎপাদনের হারও দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন। এই দ্রুত উৎপাদন করতে গিয়ে নিবিড় চাষ পরিকল্পনা করতে হয়েছেÑ বহুমূখি সশ্য চাষ করতে হয়েছেÑফসলের উন্নত জাতের উদ্ভাবন করতে হয়েছে যা প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করতে সাহায্য করেছে এবং সেই সঙ্গে পোকা মাকরের বংশবৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে। সুতরাং খাদ্য উৎপাদন করতে হলে পোকামাকড়ের দিকে তীক্ষè নজর রাখতে হবে যেন কোন অবস্থাতে দ্রুত উৎপাদনের পরিপšী’ না হয়। আজকাল এসব সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায়ও উদ্ভাবিত হয়েছেÑকখনÑ কিভাবে এদর যথাযথ নিয়ন্ত্রন করে ফসল উৎপাদন লাভজনক করে তোলা যায়। যদিও কৃষির অগ্রগতির সমস্যা বা বাঁধা বহুমূখী। যেমন উপকরনগত, প্রাকৃতিক,সামাজিক,অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত। বহুমূখী সমস্যা সত্যেও বিগত বছরগুলিতে আমাদের দেশে কৃষির অগ্রগতি ও সার্বিক ফলনের বৃদ্ধি উলে¬খযোগ্য। এর একমাত্র কারন উন্নত কৃষি প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ। প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি বিশে¬ষন করলে দেখা যায় যে সশ্যরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যাই শতকরা ৮০ ভাগ। বর্তমানে সারা বিশ্বেই সরকারি উদ্যোগে চালু হয়েছে আইপিএম বা সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচী। এর সুফলও মিলেছে অনেক। ফিরোমন নামক রাসায়নিক পদার্থের দ্বারা পুরুষ কীটকে আকৃষ্ট করে ধ্বংস করা ,বিতাড়ক বা রিপেলেন্টের ব্যাবহার,অ্যান্টিফিডান্ট;পরিবেশ মূখী জৈব কীটনাশক বা বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার,পরিবেশ দুষণ প্রতিরোধকারি ভেষজ কীটনাশকের ব্যবহার ইত্যাদি কৃষি প্রযুক্তি এসছে। নিষিদ্ধ হয়েছে বহু প্রচলিত কৃষি বিষ। পরিবেশ দুষণের বিরুদ্ধে অনেক আবেদন সত্বেও শস্য রক্ষার জন্য কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার চলছেই। জনস্বার্থেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কীটনামক বন্ধ করা উচিত। নইলে এর ভয়াবহ প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মে হবে সুদূরপ্রসারী।

About the Author

-

%d bloggers like this: