১২ জানুয়ারি ইজতেমা শুরু : বিশ্ব ইজতেমায় অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Share This
Tags

(( আব্দুল্লাহ আল নোমান ))
যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা মিশন নেই, সেসব দেশ থেকে টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় আসতে চাইলে তাদের শর্তসাপেক্ষে অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), আনসারের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে বাংলাদেশের মিশন বা দূতাবাস নেই, ওইসব দেশের ব্যক্তিরাও বিশ্ব ইজতেমায় আসতে পারেন। তবে তাদের আমাদের দেশের তাবলিগের মুরব্বিদের অনুমতি নিতে হবে। ওই অনুমতি নিয়ে তারা এলে তাদের ৩০ দিনের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া হবে। পরে প্রয়োজনে এই ভিসা বাড়িয়ে দেয়াও যেতে পারে।
বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে কোনো হুমকি আছে কি-না, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের হুমকি নেই।
রোহিঙ্গাদের ইজতেমায় অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তো বিদেশি। বিদেশিদের জন্য ইজতেমায় অংশ নেয়ার যে নিয়ম, রোহিঙ্গাদের বেলাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে প্রথম পর্বের ইজতেমা, দ্বিতীয় পর্ব হবে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি। ইজতেমায় যে বিদেশি নাগরিকরা আসবেন, তাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইজতেমা প্রাঙ্গণে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসারসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি জানান, ইজতেমা উপলক্ষে তুরাগ নদীর তীরে ইজতেমা প্রাঙ্গণে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির নেতৃত্বে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসেরও একটি কন্ট্রোল রুম বসানো হবে। ডুবুরিসহ উদ্ধারকারীদের রাখা হবে ফায়ার সার্ভিসের টিমে।
ইজতেমায় যাতায়াত ও স্থানীয় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে বিশেষ ট্রেন রাখা হবে। ইজতেমা চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হবে, পয়ঃনিষ্কাশনসহ অন্যান্য সেবার যাবতীয় ব্যবস্থাও করা হবে। আটটি মেডিকেল টিম ইজতেমায় আগতদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের একটি টিমও থাকবে ইজতেমা প্রাঙ্গণে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমা শুরুর সাতদিন আগে ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে। বিভাগ অনুযায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইজতেমা যেহেতু একটি বৈশ্বিক আয়োজন, তাই এর প্রতি সারাবিশ্বের নজর রয়েছে। এ কারণেই বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

About the Author

-

%d bloggers like this: