Published On: Fri, May 22nd, 2020

প্রসুতি গৃহবধুর মৃতু হলেও জীবিত উদ্ধার হয়েছেন গৌরনদী পপ কর্মকর্তা

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ ঃ
ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসায় প্রসূতি গৃহবধুর মৃত্যু হলেও, জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইয়েদ মো. আমরুল্লাহ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিন পালরদী এলাকায় কসাইখানা খ্যাত আনোয়ারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় পাঁচ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্বামী। শুক্রবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে ও প্রেফতারকৃত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলা ও বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উজিরপুর উপজেলার দত্তেসার গ্রামের কুদ্দুস তালুকদারের স্ত্রী আফরোজা আক্তার মুন্না (২৩) কে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় সিজারিং করার জন্য। ভর্তির পরে আনোয়ারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক হেদায়েত উল্লাহ বিকেলে গৃহবধুকে ভূল এ্যানেসথেসিয়া পুশ করলে গৃহবধুর মৃত হয়। হেদায়েত উল্লাহ কোন ডাক্তার না হয়েও দীর্ঘদিন ডাক্তার পরিচয়ে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। সে একজন ফামাস্টিস এবং তার স্ত্রী সামিমা বেগম একজন নার্স। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। গেল বছরের মে মাসে এই হেদায়েত উল্লাহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। গৃহবধুর মৃতুর ঘটনাটি সন্ধায় তার স্বজনরা জানতে পেরে ভূয়া ডাক্তার হেদায়েত উল্লাহর উপর চড়াও হলে সে পালিয়ে যায়। এ সময় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাইয়েদ মো. আমরুল্লাহ হাসপাতালে আটকা পরেন এবং উত্তেজিত জনতার হাতে লাঞ্চিত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে অপচিকিৎসার সাথে জড়িত ওটি বয় রিপন মিস্ত্রি,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অজয় হালদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে হেদায়াত উল্লাহ ও তার স্ত্রী নার্স সামিমা বেগমসহ ৫জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেনে নিহতের স্বামী । গৌরনদী উপজেলা পপ কর্মকর্তার সিজারিং করার জন্য ওই ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। একটি সুত্র জানায় তিনি একজন মেডিসিন এর ডাক্তার অথচ তিনি গৌরনদীর বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করছেন।
অপরদিকে অভিযুক্ত হেদায়েত উল্লাহ অজ্ঞাত স্থান থেকে এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, তিনি এ্যানেসথেসিয়া দেন নাই এ্যানেসথেসিয়া দিয়েছেন আমরুল্লাহ স্যারে। আমার স্ত্রী তার অধিনে চাকরি করার কারনে আমরা তার কাছে জিম্মী।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন একটি শিশু কয়েক ঘন্টা পরে হয়ত পৃথিবীর আলো দেখত। কিন্তু অপচিকিৎসায় বাচ্ছাটা পৃথিবীর আলো দেখতে পারলোনা এ দ্বায় আসলে কার।
এ ব্যাপরে গতকাল দুপুরে গৌরনদী উপজেলা পপ কর্মকর্তা সাইয়েদ মো.আমরুল্লাহ জানান আমি বিকেলে হাসপাতালে যাওয়ার পর হেদায়েত উল্লাহ আমাকে বলে স্যার সব রেডি অপারেশন করেন। আমি রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষনে গিয়ে দেখি ভুল এ্যানেসথেসিয়া দেয়ায় রোগীর স্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তখন এক ওয়ার্ড বয় আমাকে বলে এ্যানেসথেসিয়ার ডাক্তার আসতে দেরী হওয়ায় হেদায়েত উল্লাহ নিজেই এ্যানেসথেসিয়া পুশ করেছেন। আমি রোগিকে বাচানোর জন্য প্রানপন চেষ্টা চালিয়েছি। পরে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ব হয়ে উঠলে আমি পুলিশের সহযোগিতায় স্থান ত্যাগ করি।
গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক গোলাম ছড়োয়ার জানান, থানায় গৃহবধুর স্বামী কুদ্দুস ওরফে উজ্জল বাদী হয়ে হেদায়েত উল্লাহ ও তার স্ত্রী নার্স সামীমা বেগমসহ পাঁচজনকে আসামী করে মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃত দুজনকে আদালতে ও লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

About the Author

-

%d bloggers like this: