করোনা যুদ্ধ গৌরনদীতে কিস্তিও নাই এনজিও নাই

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ ঃ
করোনা মহামারির এ দুর্যোগের সময় বরিশালের গৌরনদীতে নেই এনজিওর কোন কার্যক্রম। সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী কিস্তি আদায় বন্ধ থাকায় কিস্তিও নাই এনজিও নাই। এ উপজেলায় ছোট বড় ২৭টি এনজিও ক্রেডিড প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত। এ সব এনজিও থেকে নিন্ম ও ক্ষুদ্র আয়ের অসহায় মানুষ লোন নিয়ে হাড়ভাংগা পরিশ্রম করে সাপ্তাহিক লোনের কিস্তি পরিশোধ করেন। গৌরনদী উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশী মানুষ এনজিও লোনে বন্ধি। এসব অসহায় মানুষের আপাতত সাপ্তাহিক কিস্তির ঝামেলা না থাকলেও কোন এনজিও কোন সহায়তা দেয়নি সাধারন মানুষকে। এমনকি তাদের সদস্যদের কোন সহযোগীতা দেয়া হয়নি। এনজিও একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কিন্ত করোনা মহা মারিতে তাদের অনুপস্তিতি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সচেতন মহলকে।
বিভিন্ন গ্রামের এনজিওর সাথে জড়িত ৩০ জন সদস্য ও সদস্যার সাথে সরাসরি কথা বলে জানাগেছে এ সব তথ্য। তারা ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন এনজিওর কোন সাহায্য তারা পান নাই। কেমন আছেন এ খবরও কেউ রাখেনি। অথচ লোনের কিস্তি নিয়ে সমস্যা হলে রাতেও বাড়ি ছাড়েনা আবার আদালত পর্যন্তও অনেক ঘটনা গড়ায়। বর্তমানে সরকারের ঘোষনার কারনে কিস্তি নেয়া বন্ধ আছে। তবে তারা সরকারিভাবে কিছু খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এনজিও আশার গৌরনদী শাখা ব্যবস্থাপক মো.শাহিন হোসেন জানান,লোকালে আমাদের এ রকম কার্যত্রম নাই। যতদুর জেনেছি কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে আশা ১২ কোটি টাকা দিয়েছে। তবে আমরা গৌরনদী ব্রাঞ্চ থেকে ২০০ জনের থাদ্য সহায়তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পৌছে দেয়ার প্রক্রিয়ায় আছি। অপর একটি সুত্র জানায় বিডিএস নামে একটি এনজিও খাদ্যসহায়তা বিতরন করছেন।
গৌরনদী উপজেলা দুর্নিতি দমন কমিটির সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান,অধিকাংশ এনজিও সেবার নামে সেচ্ছাচারিতার কাজ করে।তারা যদি সেবাই করত তাহলে এই মহা দুর্যোগে মাঠে থাকত তারা মানব সেবার কথা বলবে আর দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে না এটা দুঃখজনক।
উপজেলা এনজিও সমন্নয় পরিষদের সভাপতি প্রেমানন্দ ঘড়ামী জানান,গৌরনদীতে ছোট বড় ২৭ টি এনজিও কাজ করে। এদের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ। আমার জানামতে আবাস নামে একটি এনজিও ২শ ৫০ জন মানুষকে বিভিন্ন সেনেটাইজার সামগ্রী বিতরন করেছেন। এ ছাড়া আমার নলেজে কিছু নাই। বিভিন্ন এনজিওর সহায়তা দেয়ার কথা শুনেছি তবে কবে নাগাদ দিবে বলতে পাড়ছি না।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাতজাহান জানান,আমার মাধ্যমে কোন এনজিও কার্যক্রম করেনি। তবে ব্রাক,আবাস এবং এনজিবি নামে তিনটি এনজিও তাদের মত কাজ করে আমাকে জানিয়েছে। আর প্রেমানন্দ ঘড়ামী আমাদের কিছু পিপিই দিয়েছে। এছাড়া আমাকে কোন এনজিও কিছু জানায়নি।

About the Author

-

%d bloggers like this: