Published On: Sun, Jan 5th, 2020

আগৈলঝাড়ায় ইরি ব্লক বন্ধ পানি সংকটে ফলন ব্যহত হবার আশংকা !

Share This
Tags


আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল
দেশের শষ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরিশাল জেলার অন্যতম উপজেলা আগৈলঝাড়ায় আগাম চাষে নেমেছে বোরো চাষিরা। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কনকনে শীত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চারা বীজ লাগাতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। খালে পানি সেচের প্রতিবন্ধকতায় বাম্পার ফলন ব্যাহত হবার আশংকা কৃষকের।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪৮ হাজার ১শ ৪৮ মেট্রিক টন চাল।
চাষযোগ্য জমির মধ্যে ৭ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ধান ও ১হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। নির্ধারিত লক্ষমাত্রার মধ্যে ৮০হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ও ২০হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বোরেসহ মোট ১শ হেক্টর জমিতে আগাম চাষ শুরু করেছে চাষিরা ।
সূত্র আরও জানায়, আসন্ন রবি মৌসুমে ৯০ হেক্টরে খেসারি, ৫০ হেক্টরে সরিষা, ১৫ হেক্টরে আলু, ১০ হেক্টরে ভুট্টা, ২ হেক্টরে গম, ১শ ৬০ হেক্টরে সবজিসহ বিভিন্ন রবি শষ্য চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রদারণ অধিদপ্তর।
কনকনে শীত উপেক্ষা করে গত ১৫দিন যাবত উপজেলার নীচু জমিগুলোতে শুরু হয়েছে আগাম ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, চলতি ইরি-বোরো চাষের পুরো মৌসুমে সার ও সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে চলতি মৌসুমেও ইরি-বোরোতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
এদিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার মাহফুজ খান সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য খালে দেয়া একাধিক বাঁধের কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবছর পানি সঞ্চালন না হওয়ার আশংকা করছেন তারা। খালের মধ্যের কাজ শেষ হলেও এক বছর আগে দেয়া বাঁধ ও বাঁধের আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম না সরানোর কারণে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলায় ২৬হাজার ৪শ ৮জন চাষি পরিবার একমাত্র ধানের উপর নির্বরশীল।
ইতোমধ্যেই পানি সংকটের কারণে জমি চাষাবাদ করতে না পারার আশংকায় গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের কালাম মৃধা, ওসমান হাওলাদার ও মধ্য শিহিপাশা গ্রামের রব হাওলাদার কৃষি ফিসেরর ভাড়া নেয়া সেচ পাম্প কৃষি অফিসে ফেরত দিয়েছেন।
সড়ক নির্মান কাজ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ দিনেও খালের মধ্যে দেয়া বাঁধ ও বাঁধের পাইলিং ঠিকাদার অপসারণ না করায় ও সড়কের গাইড ওয়াল নির্মানের সময় কাটা মাটি খালের তলদেশ থেকে অপসারন না করা হলে মৌসুমের সেচ কাজে পানি পাবেন না তারা। ফলে বাম্পার ফলন তো দুরের কথা পানির অভাবে শীতে ধানের চারা মারা যাবার চরম আশংকা করছেন। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে রাজিহার, বাকাল ও গৈলা ইউনিয়নের কয়েক হাজার চাষি পরিবার।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার নাসির উদ্দিন সেচ মৌসুমে পানি সংকটের শঙ্কার সত্যতার কথা জানিয়ে বলেন, বিভাগীয় কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন বলে জানান।

About the Author

-

%d bloggers like this: