দুইশ তেয়াত্তর দখলদারের কবলে বিবর্ন গৌরনদীর খাল নদী

Share This
Tags


আহছান উল্লাহ,গৌরনদী ঃ দুইশ তেয়াত্তর অবৈধ দখলদারের দখলে আর দুষনে বিবর্ন বরিশালের গৌরনদীর তেত্রিশ খাল ও এক নদী। দখলদারদের অবৈধ প্রভাবের কারনে বারবার তালিকা হলেও উদ্ধার কিংবা দখল দুষন মুক্ত হয়না,আর এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্রর উপর হুমকির মূখে কৃষি আবাদি জমি।
জানাগেছে গৌরনদী উপজেলায় ৩৩ টি খাল ও একটি নদী এ নদীটি পালরদী নদী নাম হলেও মুলত এটি আরিয়াল-খার শাখা নদী। পালরদী নদী এ অঞ্চলের মানুষের নদী পথে ঢাকা চট্রগ্রামের সাথে যাতায়াত ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ন, অথচ বছরের ৩/৪ মাস সচল থাকে এ নদী এর পর নাব্যতা সঙ্কটের কারনে বছরের অধিকাংশ সময় চলাচলের অনুপযোগী থাকে। পালরদী নদীতে এখন আর চলতে পারছেনা কোন নৌযান। বিগত ২০/২৫ বছর ধরেই শুকনো মৌসূমে এ অচল অবস্থা চলছে। টরকী বব্দর, কসবা গো-হাট, গৌরনদী বন্দর, পিঙ্গলাকাঠী বন্দরের ব্যবসায়ীরা গবাদী পশু ও বিভিন্ন মালামাল আনা নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগে পরেন। লঞ্চ যাত্রীরাও পরেছেন মহাবিপাকে আগে গৌরনদী Ñ ঢাকা ও গৌরনদী-নারায়নগঞ্জ রুটে দৈনিক ৬ টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করতো। নাব্যতা হ্রাসের কারণে বর্তমানে গৌরনদীÑঢাকা রুটে মাত্র ২টি লঞ্চ যাতায়াত করছে। তাও আবার টরকি বন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরবর্তি কয়ারিয়া স্টেশন পর্যন্ত আসতে পারে।
সরে-জমিন ঘুরে দেখাগেছে, পালরদী নদী,উপজেলা সদরের গয়নাঘাটা চাঁদশি,গৌরনদী বন্দর আশোকাঠী,দক্ষিন পালরদী,মাহিলাড়া,বাটাজোড় শরিকল,নলচিড়া গরঙ্গল,ভ’রঘাটা টরকি চেংগুটিয়া রামশিদ্ধি,বার্থীসহ প্রায় সব খালগুলোর উভয় তীর দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন ঘর-বাড়ী,দোকান-পাট সহ নানা অবৈধ স্থাপনা। আবার অনেক জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলে কৌশলগতভাবে দখল দুষনের প্রকৃয়া চালাচ্ছেন। এমনকি অনেকে জাল কাগজপত্র তৈরী করে সরকারী খাস জমির মালিকানা দাবী করছেন। রহস্যজনক কারনে সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে জনসাধারনসহ ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টরকী বন্দরের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামসহ অনেকই জানান নদী ও খাল গুলোর এমন সমস্যার কারনে বন্দরটির ব্যবসায়িক অনেক ক্ষতি হচ্ছে কেননা ঢাকা থেকে মালামাল পরিবহনে লঞ্চে আমাদের খরচ কম, ঢাকা থেকে সড়ক পথে সে মালামাল পরিবহনে ১০ গুন বেশী খরচ পরে। আর এর প্রভাব খুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারন ভোক্তাদের উপর পরে। দখল দুষনে বিলিন হতে চলছে এ অঞ্চলের জনগুরত্বপূর্ন একমাত্র নদী ও ৩৩ টি খাল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ উপজেলায় ৩৩ টি সচল চলমান খাল ছিল, বর্তমানে সরকারি হিসাব ঠিক থাকলেও বাস্তবে এখাল গুলো এখন বিলুপ্ত।
গৌরনদী বন্দরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত, অবৈধভাবে দখলকলা নদী খালের তালিকায় গৌরনদী উপজেলায় ২৭৩ দখলদাররের নাম থাকলেও বাস্তবে দখলদারের সংখ্যা আরো বেশী হবে।
উপজেলার বানিয়াশুরি গ্রামের প্রবাসি ব্যবসায়ী লিয়াকত তালুদারসহ এলাকাবাসী জানান, ১৪৭.৮৯ বঃকিঃমিটার আয়তনের গৌরনদী উপজেলার ৩৩টি খাল আর একটি নদীর করুন অবস্থা। ৩৩ টি খালের মধ্যে ২/১টি খাল কোনরকমে সচল থাকলেও বাকীখালগুলো প্রায়ই বিলুপ্ত। আর এ কারনে জীববৈচিত্র যেমন হাড়াচ্ছে তেমনি ইরিধানসহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপশি গৌরনদীর মানচিত্রই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যপারে প্রশাসনের দ্রুত কার্জকর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপশি আমাদেরও নৈতিকতার পরিবর্তন হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কেনন অবৈধ দখলবাজরা সামান্য লাভের আশায় নদী,খালগুলি দখল দুষন করে পরিবেশের ক্ষতি করছে। খাল,নদী দখল দুষনমুক্ত না হলে অপুরনীয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষিক্ষেত্র।
এলাকার বর্ষীয়ান অনেকেই জানিয়েছেন গৌরনদীর নদী আর খালগুলোতে এক সময় প্রচুর সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেত আর এখনত খালই নাই। খালগুলোর উপর নির্ভর ছিল এলাকার ধান উৎপাদনসহ বিভিন্ন কৃষি কাজ তাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাতজাহান কালের কন্ঠকে বলেন সরকারি বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে কউকে ছাড় দেয়া হবে না।

About the Author

-

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

%d bloggers like this: