Published On: Mon, Dec 23rd, 2019

বার্থী মন্দিরের কালি প্রতিমা’র স্বর্নালঙ্কার চোরকে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

Share This
Tags

স্টাফ রিপোর্টার,গৌরনদী।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী তাঁরা মায়ের মন্দিরের কালি প্রতিমা’র গলা ও কান থেকে স্বর্নালঙ্কার চুরির ঘটনার দেড় মাসের মাথায় সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসল চোর স্বপন মজুমদার (২৩)কে রোববার রাতে স্থানীয় জনতা ও মন্দির কমিটির লোকজন মিলে আটক করে গনধোলাই দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসল চোরকে শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত ওই মন্দিরের কালি প্রতিমা’র গলা ও কান থেকে চুরি হওয়া প্রায় সাড়ে ৮ভড়ি স্বর্নালঙ্কার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রনব রঞ্জন দত্ত (বাবু দত্ত) জানান, সিসিটিভি ক্যামের নেটওয়ার্ক দ্বারা পরিচালিত পাঁকা বাউন্ডারী দেয়াল ঘেরা সুরক্ষিত ওই মন্দিরের দায়িত্ব পালনরত পুরোহিত অনিল চন্দ্র মৈত্র গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মন্দির অঙ্গনের ভেতরের একটি টয়লেটে যান। এর ফলে প্রায় ৪৫মিনিট ধরে মন্দিরের ভেতরে স্থাপিত তাঁরা মায়ের প্রতিমা’র ঘরটি ফাঁকা থাকে। এ সুযোগে অজ্ঞাতনামা এক চোর মন্দিরের ভেতরে ঢুকে তাঁরা মায়ের প্রতিমা’র (কালি প্রতিমা’র) গলা ও কান থেকে প্রায় সাড়ে ৮ভড়ি ওজনের ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা মুল্যের স্বর্নালঙ্কার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
মন্দির কমিটির সদস্য বলরাম চক্রবর্তী জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে থাকা চোরের চেহারা অনুসন্ধ্যান করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা চোরের নাম ঠিকানা পেয়ে যাই। এরপর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে আটক করতে রোববার ভোরে পার্শ্ববর্তি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের (বাজনা) এলাকায় যাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে রাত ৮টার দিকে তাকে একই উপজেলার রামান্দ্রী গ্রাম থেকে আমরা আটক করতে সক্ষম হই। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গনখোলাই দেয়। এতে সে সামান্য আহত হয়। এরপর আমরা তাকে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম সরোয়ার জানান, আসল চোরকে আটক করা হলেও চুরি হওয়া স্বর্নালঙ্কার এখনও উদ্ধার হয়নি। সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও মুখ খুলছেনা। ধৃত চোরের বাড়ি পার্শ্ববর্তি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের (বাজনা) এলাকায়। তার পিতার নাম বিমল মজুমদার, সে এলাকায় ছিচকে চোর হিসেবে পরিচিত। গনধোলাইয়ে সামান্য আহত হওয়য়ায় রোববার রাতে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। গতকাল সোমবার সকালে তাকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে ফিরে চোরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন।

About the Author

-

%d bloggers like this: