Published On: Sun, Oct 15th, 2017

যুদ্ধ অনিবার্য পুড়তে হবে আমেরিকাকে, হুঙ্কার উত্তর কোরিয়ার

Share This
Tags

এস এম রহামান হান্নান, স্টাফ রিপোর্টার
মস্কোর সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে আমেরিকাকে যুদ্ধের হুমকি দিলেন উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী। বুঝিয়ে দিলেন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধটা অনিবার্যই।
উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী রি ইয়ং হো বুধবার রুশ সংবাদ সংস্থা ‘ইতার তাস’কে বলেছেন, ‘‘যুদ্ধের সলতেটা পাকিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার খেসারত তো তাকে দিতেই হবে। আগুনে পুড়ে গিয়েই মূল্য চোকাতে হবে ওয়াশিংটনকে।’’
গত কয়েক মাসে বেশ কয়েক বার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে পিয়ংইয়ং। ভূগর্ভে অত্যন্ত শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমাও ফাটিয়েছে পরীক্ষামূলক ভাবে। শুধু তাই নয়, ওই সব পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন শহর গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি বহু বার দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাল্টা হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল রুশ সংবাদ সংস্থাকে উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী রি ইয়ং হো বলেছেন, ‘‘আমরা তো আত্মরক্ষার স্বার্থেই পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছিলাম। সে সবের পরীক্ষানিরীক্ষা করছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জে যে ভাবে উত্তেজিত হয়ে উন্মাদের সুরে আমাদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ট্রাম্প, তাতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের সলতেটা উনিই পাকিয়েছেন। শেষ কাজটা এ বার আমাদেরই করতে হবে। তাতে আগুনে পুড়তেই হবে আমেরিকাকে।’’
এর আগেও ট্রাম্পকে উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী ‘দুষ্ট প্রেসিডেন্ট’ বলেছিলেন।
কিন্তু গতকাল রি যে সুরে কথা বলেছেন রুশ সংবাদ সংস্থার সঙ্গে, তাতে স্পষ্ট ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের যুদ্ধটা অনিবার্যই।
রি বলেছেন, ‘‘আমরা আমাদের লক্ষ্যের শেষ বিন্দুতে পৌঁছে গিয়েছি। যাতে আমেরিকার সঙ্গে সত্যি সত্যিই একটা শক্তির ভারসাম্য থাকে। পরমাণু অস্ত্রশস্ত্র বানানো ও তার পরীক্ষানিরীক্ষা থেকে সরে আসার জন্য কোনও আলোচনায় বসতে আমরা রাজি নই।’’
যুদ্ধের পথেই কি এগোচ্ছে আমেরিকা? জল্পনা তুঙ্গে
উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। বার বার উত্তর কোরিয়া পরমাণু হামলার হুমকি দিচ্ছে। পাল্টা হুমকি দিচ্ছে আমেরিকাও। ইতিমধ্যেই কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে একাধিকবার মহড়া দিয়ে ফেলেছে মার্কিন বোমারু বিমান। সঙ্গত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনী। নিজের দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়ে হোয়াইট হাউজে বৈঠকও করতে দেখা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সব মিলিয়ে আসন্ন যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল।
গতকাল, বৃহস্পতিবার, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ জন কেলি আশ্বস্ত করেছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ ঘটেনি। তাঁর কথায়, ‘‘উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আমেরিকার মানুষ উদ্বিগ্ন হতে পারেন। কিন্তু ওদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’’ গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটা রাষ্ট্র আমেরিকার ক্ষতি করবে, এমনটা হতে দেওয়া হবে না বলেও কেলির আশ্বাস।
মার্কিন প্রশাসনের এক প্রাক্তন শীর্ষকর্তা জিম স্কফ বলেছেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে না।’’ তবে আমেরিকা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে কোনও রকম প্ররোচনা এলে যাতে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া যায়, সে প্রস্তুতিই আমেরিকা নিয়ে রাখছে বলে মত স্কফের। উত্তর কোরিয়ার যে কোনও শাসানির মোকাবিলায় যে আমেরিকা ও তার সহযোগীরা প্রস্তুত, সে কথা বোঝাতেই ওই মহড়া দেওয়া হয়েছিল বলে মত তাঁর।
গত মঙ্গলবারই দক্ষিণ কোরিয়ার দু’টি ফাইটার জেটকে সঙ্গে নিয়ে কোরীয় আকাশসীমায় দীর্ঘক্ষণ চক্কোর কাটতে দেখা গিয়েছিল দু’টি মার্কিন বোমারু বিমানকে। তার আগে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না করেও, রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়াকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতে দেখা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের বেশ কিছু পদক্ষেপ এবং কথাবার্তায় যুদ্ধের প্রস্ততির ইঙ্গিতও ছিল স্পষ্ট। এমনটাই বলছে ওয়াকিবহাল মহল। গত শনিবার নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লিখেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার জন্য শুধু ‘একটাই জিনিস কাজ করবে’। এই বার্তার অর্থ কী? তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল আমেরিকায়। চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলেও। এর আগে একবার ‘ঝড়ের আগের নীরবতা’ কথাটাও ব্যবহার করেছিলেন ট্রাম্প।
কী ভাবে উত্তর কোরিয়ার চোখ রাঙানির যোগ্য জবাব দেবে ট্রাম্প প্রশাসন? যুদ্ধের পথেই এগোচ্ছে আমেরিকা? নাকি উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে আরও বড় কোনও প্ররোচনা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাম্পের দেশ? জল্পনা বাড়ছে গোটা বিশ্বে।

About the Author

-

%d bloggers like this: