Published On: Mon, Oct 7th, 2019

পিরোজপুর বাস মালিক সমিতি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

Share This
Tags

হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥


পিরোজপুর জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব চরম পর্যয়ে রুপ নিয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর পর শনিবার ও রোববার দুপুরে দু’গ্রুপের পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনা এই দ্বন্দ্ব আর প্রকট আকার ধারন করেছে। সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান মহারাজ অপরপক্ষে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জসিম উদ্দিন খান নিজেরা নিজেদের মোকাবিলা ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। রোববার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান মহারাজ। পিরোজপুর বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান মহারাজ সহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের প্রতিবাদ ও সমিতির বর্তমান অবস্থান সাংবাদিকদের অবহিত করার লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫ অক্টোবর একটি মহল পিরোজপুর বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান মহারাজ সহ সমিতির বিভিন্ন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভাবে চাঁদা আদায়ের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনে যে মিথ্যা প্রচারনা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একটি কুচক্রী মহল সমিতির সভাপতি সহ সমিতির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও প্রশাসনিক ভাবে হয়রানি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ীক কাজের জন্য বেশির ভাগ সময়ই পিরোজপুরের বাহিরে অবস্থান করেছেন। তাই সমিতির গাড়ী চলাচলের রোটেশন, অলটাসহ যাবতীয় কার্যক্রম সাধারণ সম্পাদকের উপর ন্যাস্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় যে, তার স্বাক্ষর স্ক্যান করিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার বিগত বছরগুলিতে রোটেশন করিয়া আসিতেছে, যাহা আমার সম্পূর্ণ অগোচরে। রোটেশনের গাড়ী কোথায় চলাচল করিবে, কে সরাসরি বা কে লোকাল সার্ভিসে চলিবে তাহা সাধারণ সম্পাদকের জানার কথা। এখন যে সকল অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হইতেছে তা এর আগে কোন গাড়ীর মালিক তাকে লিখিত বা মৌখিক ভাবে কখনো জানায় নাই। তার স্বাক্ষর স্কান করে রোটেশন করার কথা সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদারের কাছে জানতে চাইলে সে তাহার কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই। এমনকি দূর পাল্লার গাড়ী হইতে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে গত ৮ বছরের মধ্যে কোন মালিক তাকে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করে নাই বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কখনো কোন চাঁদাবাজির হইতেছে এ সম্পর্কে ও অবহিত করে নাই। সাধারণ সম্পাদক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য বেশির ভাগ সময়ই পিরোজপুরে সমিতিতে থেকে গাড়ীর চলাচল ও চাঁদার বিষয় দেখাশোনা করেছে। তাই এ বিষয়টি আমার অগোচরে যদি ঘটে থাকে তা হলে সাধারণ সম্পাদকের এই বিষয়েটি আগে জানার কথা ছিল। যে মালিকগণ অভিযোগ করেছে চাঁদা দিয়েছে কিন্তু বিগত দিনে চাঁদার বিষয়ে কখনোই তারা তার কাছে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করে নাই। এছাড়া দূরপাল্লার পরিবহনের মালিকবৃন্দ চাঁদার বিষয়ে অত্র সমিতিতে বা প্রশাসনের নিকট কোন অভিযোগ করে নাই। আরো উলেøখ করতে চাই যে, ফেরীঘাট থেকে সিরিয়ালের চাঁদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট, এ সমিতির কোন গাড়ীর কাছ থেকে ফেরীঘাটের সিরিয়ালের চাঁদা আদায়ের ঘটনা নাই। তিনি আরো জানান, বর্তমান কমিটির কোন খাতা-কলমের কমিটি নয়। সমিতির মালিকদের উপস্থিতিতেই সকলের সম্মতিতেই এ কমিটি করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন নান্না, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাজী, কোষাধ্যক্ষ রিপন দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক খোকন, সদস্য নুরুল ইসলাম। অপরদিকে শনিবার এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক বাস মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জসিম উদ্দিন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদ বাবুল হালদার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাধারন সদস্য ডাঃ সিদ্দকুর রহমান, নিজাম উদ্দিন মোল্লা ও শহিদুল ইসলাম সরদার প্রমুখ। সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন কমিটির সাধারণ সদস্য ও ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন মোল্লা। লিখিত অভিযোগে মশিউর রহমান মহারাজকে বিগত কমিটির সভাপতি উল্লেখ করে বক্তব্যে জানান, বাস মালিক সমিতি সাবেক সভাপতির মশিউর রহমান মহারাজ দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ প্রায় ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী সাধারণ মালিকগণ। বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই মসিউর রহমান মহারাজ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির নাম পাল্টিয়ে পিরোজপুর জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি নাম করন করে। এর মধ্যে কোচ ও মাইক্রোবাস থেকেও চাঁদা আদায় শুরু করে। তার অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে গত ২ অক্টোবর বুধবার বাস মালিকগন সমিতির সভাপতি মহারাজের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। এবং আগের কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়ে রতন চক্রবর্তীতে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে এই কমিটি ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করবেন।

About the Author

-

%d bloggers like this: