Published On: Wed, Aug 28th, 2019

আগৈলঝাড়ায় চাষ হচ্ছে মালটা

Share This
Tags

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল

বানিজ্যিকভাবে মালটা চাষের সম্প্রসারণে স্বাবলম্বি হচ্ছে আগৈলঝাড়ার চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে সমতল ভূমির প্রদর্শনী প্লটে চাষ করা সুস্বাদু মালটা এখন দখল করছে স্থানীয় বাজার। ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সৌখিন ক্রেতাদের।
উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মৃত তাহের আলী মোল্লার ছেলে খলিলুর রহমান ওরফে খলিল মোল্লা জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেখান থেকে বিনামূল্যে গাছের চারা পেয়ে তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে মাত্র ছয় শতক জমিতে ২৫টি বারি জাত-১ এর মালটা চারা রোপন করেন। সরকারের দ্বিতীয় শস্য বহুমুখি প্রকল্পের আওতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় নিবির পরিচর্যার কারণে চারাগুলো বড় হয়ে এক বছর পরেই ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে।
চাষি খলিল আরও জানান, গত বছরই তার রোপিত গাছে মালটা ধরেছিল, তবে তা পরিমানে কম ছিল। এবছর ওই গাছগুলোতে প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে। ফলের কারণে নুয়ে পড়া ডাল বেঁধে দিতে হয়েছে বাঁশ দিয়ে। আড়াই বছর বয়সী প্রতিটি গাছে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ কেজি করে ফল হয়েছে। গাছ থেকে বছরে দু’বার ফল সংগ্রহ করা যায়। ফলের সাইজও বেশ ভাল। গড়ে চারটা মালটায় ১ কেজি ওজন হয়েছে। ইতোমধ্যেই বাগান থেকে ফল বিক্রি করতে শুরু করেছেন তিনি। প্রতি কেজি মালটা ২শ টাকা কেজি দামে বিক্রি করছেন খলিল। বাজারে হলুদ রং এর মালটা পাওয়া গেলেও খলিলের বাগানের মালটার রং সবুুজ। ফল পরিপক্ক হলেই সবুজ রংয়ের মালটা খেতেও খুব মিষ্টি। চাহিদার কারণে বাড়ি থেকেই বেশীরভাগ লোকজন মালটা কিনে নিচ্ছেন। বাগান থেকে সতেজ মালটা নিয়ে ক্রেতারাও বেশ খুশি। সম্পূর্ন প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদ করায় ও রাষায়নিক কোন কীটনাশক ব্যবহার না করায় তার বাগানের মালটার চাহিদা ও সুনাম ছড়িয়েছে উপজেলা সর্বত্র। খলিলের মালটা বাগানের উত্তর পাশে রয়েছে কমলা, জলপাই, আমলকি, লিচু, জাম্বুরা ও আম গাছ। এসকল গাছেও ধরেছে ফলের সমারোহ। কৃষি অফিসের মাধ্যমে গাছের চারাসহ লজিষ্টিক সাপোর্ট পেয়ে আজ তিনি মালটা চাষে একজন সফল চাষি হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুলি দাস, অজয় কুমার বিশ্বাস, প্রকাশ হালদার ও দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর ইকবাল ও সাংবাদিকরা মঙ্গলবার খলিল মোল্লার মালটা বাগান পরিদর্শন কালে কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, খলিল মোল্লার বাগান দেখে অনেকেই এখন মালটা চাষে এখন আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এলাকার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এবছর কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ৮শ মালটা গাছের চারা বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপশি বানিজ্যিকভাকে গড়ে উঠছে আম বাগানের চাষও। বাজারের বিক্রি হওয়া চকচকে রংয়ের মালটা আহরনের বয়স হবে অন্তত এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত। রাসায়নিক প্রকৃয়ায় রাখা এই ফলটি এখন বাজার দখল করেছে। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা জনগনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি গুনের কথা চিন্তা করে বারি-১ জাতের মালটা উদ্ভাবন করেছেন। সমতল ভূমির দো-আঁশ মাটি মালটা চাষে বেশ উপযোগী। প্রাকৃতিক সার, পোকা মাকর দমনে বিশেষ উপায়ে তৈরী করা বালাই নাশক ব্যবহার ও ভাল পরিচর্যা করলেই গাছে ভাল ফলন পাওয়া যায়। একটি মালটা গাছ অন্তত ২০ বছর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ফল দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় প্রথমে কেউ মালটার চাষ করতে চায়নি। অনেক কষ্টে তিনি ২৫টি প্রদর্শনী প্লট করেছেন। তবে এখন ওই প্রদর্শনী দেখে অনেকেই মালটা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। যারা বানিজ্যিক ভাবে মালটা চাষ করতে চায় কৃষি অফিস তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

About the Author

-

%d bloggers like this: