Published On: Thu, Aug 15th, 2019

স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিময় ১৫ দিন

Share This
Tags

স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিময় ১৫ দিন
হযরত আলী হিরু, পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥
১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে একটি উপ নির্বাচনের প্রচারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার সোহাগদল গ্রামে একটানা ১৫ দিন অবস্থান করেছিলেন। এর আগে ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পিরোজপুরে ৫ বার সফর করেছিলেন বঙ্গবন্ধু । তবে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধুর ১৫ দিন পিরোজপুরে অবস্থানের খবর এতদিন ছিল অনেকের কাছেই অজ্ঞাত। বর্তমান প্রজম্মের উদ্দ্যেশে এ অজানা তথ্য জানান ওই সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর ভাই স্বরূপকাঠী উপজেলার সোহাগদল গ্রামের শতবর্ষী আবদুর রহমান জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণ করে বলেন ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গর্ভণর হলে তার আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে উপ-নির্বাচনে পিরোজপুর মহাকুমা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তার ভাই জয়নুল আবেদীন মোক্তার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। স্বরূপকাঠী-বানারীপাড়া-কাউখালী এই তিনটি থানা নিয়ে পিরোজপুর উত্তর প্রাদেশিক পরিষদের আসনটি ছিল। এ আসনে জয়নাল আবেদীনের প্রতিদ¦ন্দী প্রার্থী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার সাবেক মন্ত্রী জাদরেল মুসলিমলীগ নেতা খান বাহাদুর হাশেম আলী খান। এই নির্বাচনী প্রচারনায় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে একটি ছোট লঞ্চে করে স্বরূপকাঠীতে আসেন। বঙ্গবন্ধু জয়নাল আবেদীনকে নানা বলে সম্বোধন করতেন। ২-৩ দিন প্রচারণা চালিয়ে মাওলানা ভাসানী ঢাকায় ফিরে গেলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী প্রচারনার জন্য ওই এলাকায় থেকে যান। তিনি সোহাগদলের আব্দুর রব তালুকদারের ঘরে একটানা ১৫ দিন থেকে স্বরূপকাঠী-বানারীপাড়া-কাউখালী থানায় অসংখ্য নির্বাচনী জনসভা ও কর্মীসভায় ভাষণ দেন এবং জয়নুল আবেদীনকে ভোট দেয়ার আহবান জানান। প্রচারনাকালে মঠবাড়িয়ার মহিউদ্দিন আহম্মেদ, বরিশালের মহিউদ্দিনসহ যুক্তফ্রন্টের শরীক দলের অনেক নেতা বঙ্গবন্ধুর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াও একদিন এসে বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রচারনা চালান বলে উলে¬¬¬¬খ করেন তিনি । স্থানীয়দের মধ্যে আব্দুর রহমান, মোসলেম আলী হাওলাদার, জহুরুল হক লাল মিয়া, হাবিবুর রহমান তালুকদার এবং হাফিজুর রহমান সহ শতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর সাথে সার্বক্ষণিক থাকতেন। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা এবং ব্যক্তিত্বের কারণেই হাশেম আলী খানের মতো নেতাকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল এবং সমগ্র পাকিস্তানে প্রমান করা সহজ হয়েছিল যে, যুক্তফ্রন্টের স্বপক্ষে জন সমর্থন অক্ষুন্ন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ২৫৬ পৃষ্ঠায় উলে¬খ করেছেন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া থানা নিয়ে গঠিত আসনে তিনি প্রার্থী হলে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ওয়াহিদুজ্জামান প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হয়ে অনেক বড় বড় আলেম, পীর ও মাওলানা সাহেবদের হাজির করান। শর্ষীনার পীর, বরগুনার পীরসহ এসব মাওলানা সাহেবরা ফতোয়া দিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে ভোট দিলে ইসলাম থাকবেনা, ধর্ম শেষ হয়ে যাবে। তারা যত রকম ফতোয়া দেয়া যায় তা দিতে কৃপনতা করলেন না। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল ওয়াহিদুজ্জামানের চেয়ে বঙ্গবন্ধু প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়ীত সোহাগদলের আব্দুর রব তালুকদারের ওই ঘরটি সহ অন্যান্য ঘরগুলো পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দেয়। স্বাধীনতার পরে অন্যান্য ঘরগুলো পুন:র্নিমাণ করা হলেও দীর্ঘকাল ধরে ঐতিহাসিক এই ঘরের ভিটা শূন্য ছিল। সম্প্রতি এই অজানা তথ্য আবিস্কৃত হলে প্রয়াত আব্দুর রব তালুকদারের আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী ও পুত্ররা বঙ্গবন্ধুর অমর স্মৃতিধন্য এই শূন্য ভিটায় একটি দালান নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

About the Author

-

%d bloggers like this: