Published On: Sat, Jul 6th, 2019

সুমেরু অঞ্চল আলাস্কায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস !‌

Share This
Tags

‌‌

সবুজবাংলা ডেস্ক:‌ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফল এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিশ্ববাসী। মেরু অঞ্চলের বরফস্তর তো আগেই ভাঙতে শুরু করেছিল। বেড়ে যাচ্ছিল সমুদ্রের জলস্তর। দিন কয়েক আগে হাড় জিরজিরে মেরু ভাল্লুককে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঘুরতে দেখা গেল। এবার আরও ভয়ানক খবর এলো সুমেরুরেখায় অবস্থিত আমেরিকার স্টেট আলাস্কা থেকে। তুষারেমোড়া বলে পরিচিত এই অঞ্চলে চলছে চরম তাপপ্রবাহ। স্থানীয় সময় শুক্রবার উপকূলবর্তী তথা আলাস্কার সব চেয়ে বড় শহর অ্যাঙ্কোরেজে তাপমাত্রার পারদ ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর মধ্যবর্তী এলাকার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সাধারণত এসময় আলাস্কার তাপমাত্রা থাকে ৭–৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর আগে ১৯৬৯ সালে একবারই অ্যাঙ্কোরেজের তাপমাত্রা পৌঁছিয়েছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তথ্য দিয়েছে আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস বা এনডব্লুএস।
তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেশি থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত চার তারিখ আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের দিন বাৎসরিক আতসবাজি প্রদর্শনীও রদ করে দেয় প্রশাসন। সুমেরু শহরের পারদ দেখে চোখ কপালে উঠেছে পরিবেশবিদদের। আলাস্কার উপর অবস্থিত উচ্চচাপ বলয়ের ফলেই এই তাপপ্রবাহের সৃষ্টি, জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যেখানে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের তাপমাত্রা ১.‌৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে বাড়ছে সেখানে আলাস্কার তাপমাত্রা ৪.‌৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে সুমেরু অঞ্চলে আবহাওয়ার তারতম্যই দায়ী বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। তার প্রভাব পড়ছে আলাস্কার শুধু বন্যপ্রাণী জগতের উপরই নয়, স্থানীয় মানুষ এবং তাঁদের জীবিকার উপরও। গত কয়েক বছরে সুমেরু মহাসাগরের বরফ দ্রুত হারে গলছে। আলাস্কার ৮৫ শতাংশ আগে ঢাকা থাকত তুষারে যা তুন্দ্রা অঞ্চল বলে পরিচিত। এই আবহাওয়াই উৎকৃষ্ট বেরিফল উৎপাদনে সহায়ক হয়। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বেরি উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। জমাট, ভারী বরফস্তরের বদলে নদী এবং বেরিং সমুদ্রের উপরে এখন রয়েছে পাৎলা স্তর। অথচ সিল তাদের সন্তানের জন্ম দেয় সমুদ্রের ভারী বরফের স্তরের গভীরে। বরফস্তর পাৎলা হয়ে যাওয়ায় সিলদের প্রজনন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা। আলাস্কার প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ রাস্তাই ভাঙাচোরা। ফলে জমাট নদীই পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি, সব ধরনের পরিবাহী যানের অন্যতম পথ। জমাট সমুদ্রের উপরই কাঁকড়া এবং মাছ ধরতেন মৎসয়জীবীরা। কিন্তু আলাস্কার বিভিন্ন নদী থেকে শুরু করে বেরিং সমুদ্রের বরফস্তর অতিরিক্ত পাৎলা হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও জল দেখা যাচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তার উপর দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। স্থগিত হয়ে গিয়েছে স্লেডটানার বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় সাধারণ মানুষ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উচ্চচাপমাত্রা বলয় আরও উত্তরে সরে আলাস্কার মধ্যভাগে ঢুকে পড়লে তাপমাত্রার পারদের সঙ্গেই দুর্ভোগও আরও বাড়বে। সূত্র আজকাল

About the Author

-

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

%d bloggers like this: