কাঠা লেবু দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে

Share This
Tags

জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগরে সিদ্দিকীবাদ ফুট্স ভ্যালীতে বাগানজুড়ে লেবুগাছের সমারোহ। বিভিন্ন প্রজাতির লেবু রয়েছে এ বাগানে। ছোট বড় অসংখ্য লেবু রয়েছে এ বাগানে। লেবুর রং এমনিতে সবুজ হলেও কিছুটা সবুজ থেকে পক্ত হয়ে উঠেছে হলুদ। বাগানের গোল লেবুগুলো অন্য লেবুর মতো কাটালেবুর সাইজ সমৃন নয়। কিছুটা ফোড়ার মতো দেখতে। ছোট একটি লেবু গাছে লেবু ধরে সৌন্দর্য ছড়িয়ে ঝুলে রয়েছে। যুগ যুগ ধরে ঔষুধি গুনের অধিকারী এ কাটা লেবু। নির্মূল করছে মানুষের শারীরিক যন্ত্রণার অস্থির সব মুহূর্তগুলো ভেষজ চিকিৎসায় এ লেবুর রস অতুলনীয়।
জানা যায়, জ্বর আর মাথাব্যথা নিরাময়ে এর ভূমিকা অনেকটা বেশি রয়েছে। সাধারণ মাথাব্যথা দূর করতে এ লেবুর জুড়ি নেই। তাই এখন ঔষধি গুনের হিসাবে সিদ্দিকীবাদ ফুট্স ভ্যালীতে এ লেবু রয়েছে এ বাগানে না গেলে জানা হতো না। দিন রাত পরিশ্রম করে এ বাগানটি গড়ে তুলেছেন উপজেলার আলীনগরের বৃক্ষপ্রেমী আব্দুল মুনিম সিদ্দিকী। এ বাগানে রয়েছে অনেক দুর্লভ ফলের প্রাকৃতিক হাসি।
কাটা লেবু সর্ম্পকে বৃক্ষপ্রেমী মুনিম সিদ্দিকী বলেন, এ লেবু আমাদের অঞ্চলে ‘কাঁটাজামির’ নামে ডাকা হয়। কাঁটালেবু আকারে মাল্টার মতো হলেও তার চামড়া খুবই পাতলা। গাড়সবুজ অথবা কালো রং এরহ য়। এই লেবুগাছে প্রচুর কাঁটা হওয়ায় তার নাম ডাকা হয় কাঁটা জামি। কমবেশি কাঁটা সব লেবু গাছে থাকে। তিনি আরও বলেন, গাছে কলম দিয়ে এসব লেবুর বংশবৃদ্ধি করা হয়। দিন দিন বংশবৃদ্ধির জন্য কলম থেকে কলম, তার থেকেও কলম হতে হতে লেবু গাছের গা থেকে যেমন কাঁটা চলে যাচ্ছে তেমন লেবুর ভিতর থেকে বীজও কমে যাচ্ছে। এ কলমের জন্য বীজ আর কাঁটার লেবুর ভিতরের কি উপাদান রয়েছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে দাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাঁটালেবু দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়া যায়। এর ছাল খাওয়া অসম্ভব কারণ ছালে এসিডের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। তবে সবচেয়ে উপকারী রসগুলো একটি কাছের বোতলে সংগ্রহ করে রাখা। এ লেবু সব সময় পাওয়া কঠিন তাই এর রস সংগ্রহ করে রাখলে জ্বও, মাথাব্যাথার দারুন উপকারী। ছোট বেলার কথা মনে করে মুনিম সিদ্দিকী জানান, কাঁটালেবু আমাদের পরিবারের একটি ঔষধি ফল। ছোটবেলায় দেখেছি আম্মা কাঁটালেবু কালেকশন করে রস চিপে বের করে বোতলে ভরে রাখতেন। কারও মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হলে এই বোতলের রস কাপড়ে ভিজিয়ে কপালে একটু ঢলে দিয়ে তারপর ওই কাপড়টি কপালেই রেখে দিতেন। ধীরে ধীরে মাথাব্যথা জ্বর দূর হতো।

About the Author

-

%d bloggers like this: