ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের জন্য অত্যন্ত উপকারি একটি প্রাকৃতিক খাবার

Share This
Tags


মোঃ রিমেল হোসেন মোল্লাহ ঃ
তেলাকুচা এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ। মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকরী প্রাকৃতিক খাবার। আমাদের দেশের পরিত্যাক্ত জায়গায় কোন পরির্চ্জা ছাড়াই জন্মে থাকে। এর রয়েছে বানিজ্যিক সম্ভাবনাও। এর বানিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে খাটিয়ে স্বাধীন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হতে পারে। এটিকে স্থানীয় ভাবে একে কুচিলা’, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। অনেক অঞ্চলে এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। গাছটির ভেষজ ব্যবহারের জন্য এর পাতা, লতা, মূল ও ফল ব্যবহৃত হয়। বিশিষ্ট ভেষজ গবেষক ও লেখক আহছান উল্লাহ এক সাক্ষাৎকারে জানান – বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে শিকড়সহ লতা এনে রোপন করলে অতি সহজেই তেলাকুচা গাছ জন্মে। এর বীজ থেকেও চারা তৈরি করা যায়। তেলাকুচা আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বসত বাড়ির আশে পাশে, রাস্তার পাশে বন-জঙ্গলে পরিত্যাক্ত জায়গায় জন্মায়। বেলে বা দোঁআশ মাটিতে ভাল চাষ হয় এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা যায় তবে শর্ত হল পরিবেশ সম্মত চাষ করতে হবে কোন রকম রাসায়নিক বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
এটি লতানো উদ্ভিদ। এটি গাঢ সবুজ রঙের নরম পাতা ও কান্ড বিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। লতার কান্ড থেকে আকশীর সাহায্যে অন্য গাছকে জড়িয়ে উপরে উঠে। পঞ্চভূজ আকারের পাতা গজায়, পাতা ও লতার রং সবুজ। এর ফল ও কচি ডগা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেখানে। তেলাকুচার পাতায় এবং ফলে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন আছে। তেলাকুচা ফলে আছে ‘মাস্ট সেল স্টেবিলাইজিং’, ‘এনাফাইলেকটিক-রোধী’ এবং ‘এন্টিহিস্টামিন’ জাতীয় উপাদান। ভেষজ চিকিতসায় তেলাকুচা অনেক রোগে ব্যবহার করা হয় হয় যেমন- কুষ্ঠ, জ্বর, ডায়াবেটিস, শোথ রোগ হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস। ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস এর জন্য তেলাকুচার কান্ড সমেত পাতা ছেঁচে রস তৈরি করে আধাকাপ পরিমাণ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে খেতে হবে। তেলাকুচার পাতা রান্না করে খেলেও ডায়াবেটিস রোগে উপকার হয়। পাতা ভেজেও খেতে পারেন।
জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস তৈরি করে প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ খেতে হবে। পা ফোলা রোগে:- ভ্রমণের সময় বা অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে পা ফুলে যায় একে শোথ রোগ বলা হয়। তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩-৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।
বুকে সর্দি বা কাশি বসে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট (হাপানি রোগ নয়) হলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে ৩-৪ চা চামচ পরিমাণ ৩ থেকে সাত দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে এর সাথে চা চামচের আধা চামচ আদার রশ ও ৮/৫ ফোটা খাটি মধুসহ সেবন করলে উপকার পাবেন।

কাশি হলে শ্লেস্মা তরল করতে এবং কাশি উপশমে ৩-৪ চা চামচ তেলাকুচার মূলও পাতার রস চা চামচের আধা চামচ আদার রশ ও ৪/৫ ফোটা খাটি মধুসহ ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে। স্তনে দুধ স্বল্পতায় সন্তান প্রসবের পর অনেকের স্তনে দুধ আসে না বা শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখা দিলে ১টা করে তেলাকুচা ফলের রস হালকা গরম করে মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তেলাকচুর ফল একটু তিতে হওয়ায় পরিমাণমত সকাল-বিকাল ১ সপ্তাহ খেতে হবে। মা হলেও স্তনে দুধ নেই। এদিকে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে কাঁচা সবুজ তেলাকুচার ফলের রস একটু গরম করে ছেঁকে তা থেকে এক চা চামচ রস নিয়ে ২/৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে স্তনে দুধ আসবে। ব্রণ হলে তেলাকুচা পাতার রস বা পাতা ছেঁচে ব্রণে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ব্যবহার করতে হবে। প্রায়ই আমাশয় হতে থাকলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস ৩-৪ চা চামচ ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে। এর রয়েছে বানিজ্যক সম্ভাবনা এর পরিকল্পিত চাষ করে স্বাধীন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা যায়। এ জন্য জনসচেতনা বাড়নোসহ সরকারি ভাবে এর পৃষিপোষকতা দিতে হবে । সর্বপরি তেলাকুচার উপকারিতা নিয়ে যা লেখা হয়েছে তাতে ১০০ ভাগ উপকার পাবেন তবে সে ক্ষেত্রে এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। প্রিয় পাঠক মনে রাখবেন এটা একটি রোগ প্রতিরোধে প্রাকৃতিক উপাদান। আমার কথা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। বর্তমান পরিবেশগত অবস্থায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে প্রকৃতি আপনার সত্রু নয় বন্ধু।

About the Author

-

%d bloggers like this: