Published On: Mon, Jun 24th, 2019

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মন্ত্রী আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র বাজেটের উপর বক্তৃতা

Share This
Tags

সবুজবাংলা ডেস্কঃ মাননীয় স্পীকার, বাজেট বক্তব্যের শুরুতে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম ভাবে নিহত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব, শেখ আবু নাসের, শেখ কামাল, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল, রোজি জামাল এবং শেখ রাসেলকে। আমি স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর সাথে নিহত আমার মরহুম পিতা তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত, আমার বোন আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, ভাই আরিফ সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, ভগ্নিপতি শেখ ফজলুল হক মণি এবং আমার ৪ বছরের শিশুপুত্র সুকান্তবাবুকে। আমি আরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি কারা অভ্যন্তরে নিহত বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। আমি স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল বীর শহীদদেরকে। আমি স্মরণ করছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন।
মাননীয় স্পীকার, আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে। যিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এক কোটি বাংলাদেশী শরনার্থীকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এছাড়া আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভারতের ১৭ হাজার সেনা জোয়ানকে। যারা আমার দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মাহতী দিয়েছেন।
মাননীয় স্পীকার, বাজেট বক্তব্যের শুরুতে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। যিনি আমাকে বার বার মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, আমার নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সাধারণ মানুষকে, যাঁদের দোয়া ও ভালবাসায় আজ আমি মহান সংসদে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়েছি।
মাননীয় স্পীকার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১৩ জুন ২০১৯ তারিখ ১ম বারের মত মহান জাতীয় সংসদে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই যুগোপযোগী ও জনকল্যানমুখী। তিনি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের ঘোষণা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বাজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
মাননীয় স্পীকার, প্রতিবছর শেষে বাজেটের আকার বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী হচ্ছে তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে আমাদের বাজেটের আকার। এবারের বাজেট ঘোষণার পর জনগণের পক্ষ থেকে বাজেটের বিপক্ষে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উপর কোন প্রভাব পড়েনি। বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, আমি অর্থনীতিবিদ নই। তাই আমার পক্ষে বাজেটের উপর গানিতিকভাবে বিশ্লেষন করা সম্ভব নয়।
মাননীয় স্পীকার, বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন খাতে যে সব উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে। তারমধ্যে অনেকগুলো উদ্যোগই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা প্রসূত, যা ইতোমধ্যে ‘শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চ শিক্ষা, কর্মবান্ধব কারিগরি শিক্ষা, শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, আশ্রায়ন প্রকল্প, শিক্ষা সহায়তা, সুনীল অর্থনীতি, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও পরিবেশ সংরক্ষণ, আমার গ্রাম আমার শহর, আমার বাড়ী আমার খামার, দারিদ্র দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা, সমুদ্র বিজয়, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপন। আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইল ফলক রচিত হবে।
মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন, আমাদের সফলতা আজ দেশে বিদেশে সবার কাছে স্বীকৃত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের এ ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে চারটি বিষয়কে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জিডিপিসহ মাথাপিছু জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, উচ্চতর আয়ের সুফল সার্বজনীন করা, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
মাননীয়স্পীকার,মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের অনুকূলে বিভিন্ন আত্ম কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি ঘূর্নায়মান তহবিল থেকে ক্ষুদ্র ঋন প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা এবারও ২০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল, গ্রামকে শহরে ন্নীতকরণ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১০ বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতায় বাংলাদেশকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। তাঁর গতিশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বের জন্যই আজ আমরা বিশ্বপরিমন্ডলে একটি সম্মান জনক স্থানে অধিষ্ঠিত। আমরা জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো ইনশাল্লাহ্।
মাননীয় স্পীকার, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারের দাবীতে আন্দোলনরত ১৭জন কৃষককে তারা হত্যা করেছে। আমাদের সময় সারের দাবী করতে হয়নি। কৃষকরা সময়মত সার ও বীজ পাওয়াতে কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ তারা দেশ শাসনের নামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তারা আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ্ এ এম এস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ্ মাস্টার, খুলনার মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ উদ্দিনকে হত্যা করে। তারা ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়। আমাদের নেত্রী আল্লাহ্’র রহমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সহধর্মীনি আইভী রহমানসহ ২৪জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে। তাদের সময় বাংলা ভাই ও শায়ক আবদুর রহমানের উত্থান হয়। তারা বোমা মেরে ঝালকাঠী ও গাজীপুরে বিচারক হত্যা করে। সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা করে। তারা জঙ্গিনেতা বাংলা ভাইকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনেছে অথচ সাবেক অর্থ মন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবের জন্য হেলিকপ্টার পাঠায়নি। তারা ১০ ট্রাক অস্ত্র এনে ধরা পড়ে। বাংলাদেশকে চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে বিদেশে পাচার করে। বিভিন্ন মামলার আসামী তারেক রহমান হুলিয়া মাথায় নিয়ে লন্ডনে বসে এখন জঙ্গি তৎপরতাসহ গুপ্ত হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা এখন ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দারস্থ হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ্’র অশেষ রহমত ও জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে তাদের সেই সকল ষড়যন্ত্র সফল হতে পারেনি। আমাদের সবাইকে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
মাননীয় স্পীকার, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জনগনকে ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, শ্রমিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক নির্দেশনায় আমার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এ শান্তিচুক্তির ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে আজ শান্তির সুবাতাস বইছে। ভারতের সাথে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানি চুক্তি হয়েছে। সমুদ্র বিজয় হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দীর্ঘ ৪১ বছরের ছিটমহল সমস্যা নিরসন হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। সেজন্য আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক দশমাংশ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির পর সরকার পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন প্রনয়ন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামোসহ অন্যন্যা খাতসমূহ সুষমভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক, সাবমেরিন কেবল, ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন মহাসড়কে ৪৩টি সেতু ও ১৩টি কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে। রাংগামাটি জেলার চেংগী নদীর উপর নানিয়ার চর সেতু নির্মানাধীন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৬টি মহাসড়ক নির্মান করা হয়েছে। থানচি আলী কদম মহাসড়ক নির্মান করা হয়েছে। রাংগামাটিতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। রাংগামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটিতে দুটি বিদ্যুৎ সাব স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ৫৮৯০টি সোলার হোম সিস্টেম, ৪৫টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের জন্য ঢাকার বেইলী রোডে ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ নির্মান করা হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার সাথে নিহত আমার পিতা, ভাই, বোন ও শিশুপুত্র হত্যার বিচার পাইনি। জেনারেল জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে ঐ বিচারের পথ বন্ধ করেছিল। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। বিচারের রায় ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। জাতি আজ কলংকমুক্ত হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত ১০ বছরে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপি’র রেখে যাওয়া ৪ হাজার ৩৮৫ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ থেকে এখন ২১ হাজার ৬২৯ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জনগণ লোডশেডিং এর দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভৌত অবকাঠামো, আইসিটি ও যোগাযোগ, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি সেক্টরের সাফল্য চোখে পড়ার মত। শুধুমাত্র দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠির ভাগ্য উন্নয়নে যেসব কাজ করা হয়েছে তার কয়েকটি চিত্র এখানে তুলে ধরছি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে;
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে;
বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেনিয়াবাত টিসার্স ট্রেনিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে;
বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা;
বরিশালকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ;
দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতু নির্মাণ;
বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু;
আগৈলঝাড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা;
গৌরনদীতে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট;
আগৈলঝাড়া কোটালীপাড়া সড়কে পয়সারহাট সেতু;
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-কোটালীপাড়া সড়ক;
পটুয়াখালীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়;
পটুয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন;
কুয়াকাটায় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন;
ঝালকাঠীতে গাবখান সেতু;
লেবু খালী সেতু;
ঢাকা কুয়াকাটা সড়কে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল সেতু।
মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের পদ্মাসেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। ২০২০ সালের মধ্যে এ সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশা করি।
মাননীয় স্পীকার দক্ষিণাঞ্চলের এসব সাফল্য শুধুমাত্র জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, বিগত ১০ বছরে আমাদের সরকারের গৃহীত কর্মকান্ডের সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুরদর্শী রাজনীতি ও বিচক্ষণতার জন্য তিনি বিভিন্ন পদক, পুরস্কার ও উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন যেমন; (১) বাংলাদশেরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ‘মাদার অব হিউমিনিটি উপাধী লাভ করনে। (২) নারী নতেৃত্বরে সফলতার স্বীকৃতি হসিবেে ‘গ্লোবাল উইমনেস লিডারশিপ অ্যাওর্য়াড’ (৩) লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বশিষে অবদানরে জন্য ‘প্লানটে ৫০-৫০’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড’। (৪) জলবায়ু পরর্বিতনে ঝুঁকি মোকাবলিার জন্য চ্যাম্পয়িন অব দ্য আর্থ পুরস্কার। (৫) ডিজিটাল বাংলাদশে গঠন ও তথ্য প্রযুক্তরি উন্নয়নে বিশেষ অবদানরে জন্য ITU (International Telecom Union) Award.(৬) খাদ্য নিরাপত্তা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদানরে জন্য South South Award (৭) শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতষ্ঠিায় ভূমকিা রাখার জন্য ডিলিট ডিগ্রী (৮) গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরর্দশী নেতৃত্বে, সুশাসন, মানবাধকিার রক্ষা, আঞ্চলকি শান্তি ও জলবায়ু পরর্বিতনরে চ্যালঞ্জে মোকাবলিায় অবদানরে জন্য Global Diversity Award.(৯) শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস সংক্রান্ত MDG-4 অর্জনের স্বীকৃতিস্বরুপ MDG (Millennium Development Goal) Award. (১০) শান্তি ও সৌর্হাদ্য প্রতিষ্টা অবদানরে জন্য ‘মাদার তেরেসা পদক’ ১১) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দেশোকোত্তম’ উপাধিতে ভূষতি করা হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার, এবার আমি আপনার মাধ্যমে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দাবী মহান সংসদে তুলে ধরছি:
মাননীয় স্পীকার, ১৯৭৪ সালে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রয়াত ফণীভূষন মজুমদার আমার মরহুম পিতা শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর সাথে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সফরকালে গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গৌরনদীকে জেলায় উন্নীতকরণের জন্য আমি ১৯৯৬ সাল হতে এ পর্যন্ত বহুবার এই মহান সংসদে দাবী উপস্থাপন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করা হয়নি। গৌরনদীকে জেলা ঘোষনার বিষয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মাননীয় স্পীকার, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে দেশের সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৮নং ক্রমিকে একটি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগৈলঝাড়া অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের জন্য প্রায় চার বছর আগে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের কাজ শেষ হলেও আমার নির্বাচনী এলাকার অর্থনৈতিক অঞ্চলটির কাজ শুরু হয়নি। আমি জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রদানের জন্য আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
মাননীয় স্পীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত ০৮/০২/২০১৮ তারিখ বরিশাল সফরকালে বরিশালে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়নি। আমি জরুরী ভিত্তিতে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে বরিশাল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু করার প্রস্তাব করছি।
বরিশাল একটি নদী মাতৃক উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে গ্যাস সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নাই। সম্প্রতি ভোলা জেলায় গ্যাস সঞ্চালনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোলা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য আমি জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বরিশাল জেলার গৌরনদীতে ৩৩ কেভি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন হয়েছিল; কিন্তু বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। আমি আপনার মাধ্যমে গৌরনদীতে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানাচ্ছি।
মাননীয় স্পীকার, বরিশাল একটি বিমান বন্দর রয়েছে। সপ্তাহে ৫দিন এখানে বিমান চলাচল করে। লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় এখনে রাতের বেলায় বিমান উঠা-নামা করতে পারে না। তাই বরিশাল বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দরে উন্নীতকরণসহ জরুরী ভিত্তিতে লাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরনের জন্য মাননীয় বিমান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনের চাপ বহুগুন বাড়বে। ঢাকা বরিশাল পায়রা বন্দর ফোর লেনের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করা প্রয়োজন। তাছাড়া রেল লাইনের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার জন্য সড়ক পরিবহণ ও রেল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
মাননীয় স্পীকার, বাংলাদেশের জগণের আকুণ্ঠ সমর্থনে পর পর তৃতীয় মেয়াদে আমাদের সরকারের নেতৃত্বের ধারাবাহিতকা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০৪১ সালের মধ্যে এ দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করা। যেখানে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি আর উচ্চতর প্রবৃদ্ধি। প্রতিষ্ঠিত হবে অংশিদারিত্বমূলক গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় বিচার। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ দেশ পরিচিতি লাভ করবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে, মাননীয় অর্থ মন্ত্রীকে জনকল্যানমুখী ও যুগোপোযোগী বাজেট উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাকে সময় দেয়ার জন্য মাননীয় স্পীকার আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

// উল্লেখ্য ২০১৯ ২২জুন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র বাজেটের উপর বক্তৃতার পূর্ণ বিবরণ //

About the Author

-

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

%d bloggers like this: