তিন দিন খাদে প্রৌঢ়া, বাঁচিয়ে রাখল পোষ্য কুকুর উদ্ধারকারী দলও  ডেকে আনল !

Share This
Tags

 

সবুজবাংলা ডেস্ক ঃ প্রিয় পোষ্যকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে ঘুরতে গেছিলেন তিনি। ভাবতেও পারেননি, এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়বেন তিনি এবং পোষ্য! গাড়ি নিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে কেরি জর্ডন ভেবেছিলেন, সব শেষ। আর কখনও দেখা হবে না জীবনের মুখ। শেষ মুহূর্তে আঁকড়ে ধরেছিলেন প্যাটকে, সঙ্গে থাকা পোষা কুকুর।

আর তার পরেই নিউজিল্যান্ডের পাহ্যাতুয়ায় সড়কের এই মারাত্মক দুর্ঘটনার ঘটনায় হিরো হয়ে ওঠে সেই প্যাটই! তার জন্যই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন কেরি। প্যাটের বুদ্ধি এবং বিশ্বস্ততা অবাক করেছে সারা বিশ্বকে!

জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহের ওই ঘটনায় গাড়ি নিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার পরে জ্ঞান হারিয়েছিলেন কেরি। ফাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার খবর পৌঁছয়নি বাইরের জগতেও। তিন দিন খাদেই পড়েছিল গাড়িটি। পড়ে ছিলেন কেরিও।তীব্র ঠান্ডায়, সারা শরীরে চোট নিয়ে প্রাণটা ধুকপুক করছিল ৬৩ বছরের প্রৌঢ়া কেরির। প্যাটই জড়িয়ে ধরে উষ্ণতা দেয় তাঁকে। দেয় সাধ্যমতো পরিচর্যাও। এমনকী তার জন্যই ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেন উদ্ধারকর্মীরা!

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মফস্বল শহর পাহ্যাতুয়ায় কেরির গাড়িটি রাস্তা থেকে ৫০ মিটার নীচের একটি খাদে উল্টে যায়। কেরির পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায়। মারাত্মক আঘাত পান ঘাড় এবং বুকে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলে অনেক কষ্টে হামাগুড়ি দিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন কেরি। নির্জন, অন্ধকার, ঠান্ডা ওই খাদে প্রিয় কুকুর প্যাটকে সঙ্গে নিয়েই একটি ঝোপের ভিতরে আশ্রয় নেন তিনি।

 

কেরি ডর্ডন

কেরি জানিয়েছেন, তিনি ব্যথায়, ঠান্ডায়, ভয়ে থরথর করে কাঁপছিলেন। কাঁদছিলেন। প্যাটই তাঁকে বারবার করে জড়িয়ে ধরে, কোল ঘেঁষে থাকে তাঁকে উষ্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দিন তিনেক ও ভাবেই ছিলেন তাঁরা। প্রাণপণে চিৎকার করেছিলেন অনেক বার। তাঁর দেখাদেখি চেঁচিয়েছিল প্যাটও। কিন্তু খাদের ভিতর থেকে তাঁদের গলার শব্দ বাইরে পৌঁছয়নি।

দিন তিনেক পরে প্যাটই খাড়াই খাদের গা বেয়ে ওপর দিকে ওঠার চেষ্টা করে। যদিও ওখান দিয়ে পুরোটা ওঠা সহজ ছিল না তার পক্ষে। উঠতে পারেওনি। কিন্তু খানিকটা উঠে এমন একটা জায়গায় পৌঁছয়, যেখান থেকে উপরের রাস্তাটা দেখা যায়। সেখানে দাঁড়িয়েই ক্রমাগত ঘেউঘেউ করতে থাকে প্যাট। শেষমেশ, ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া দুই পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সে। তারা এগিয়ে এলে আপ্রাণ চেষ্টা করে, তাদের বিপদ বোঝাতে।

শেষমেশ তাঁরাও খানিকটা নেমে এসে, গাড়িটি পড়ে থাকতে দেখতে পান। প্যাটকে দেখে আন্দাজ করেন, তার মনিবও নিশ্চয় ওই গাড়িতেই ছিল। পুরো বিষয়টি আন্দাজ করে তাঁরা খবর দেন উদ্ধারকর্মীদের। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস  এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। হাজির হয় একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও।

ওই উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সংস্থার মুখপাত্র এনজেড হেরাল্ড বলেন, “ঘটনাস্থলে পৌঁছনো মাত্র কুকুরটি আমাদের দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ওর কাছে যাই আমরা, ও-ই আমাদের এক রকম টেনে নিয়ে যায় আহত কেরির কাছে। এর পরেই কেরিকে উদ্ধার করে খাদ থেকে তোলা হয়, তার পরে হেলিকপ্টারে করে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় পলমারস্টন নর্থ হসপিটালে। সেখানেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে তাঁকে। তাঁর অবস্থাও বেশ গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।”

কেরির এক বন্ধু ফিয়োনা নর্থে জানান, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তিন দিন ধরে কেরির পোষা কুকুর প্যাটই  কেরিকে আগলে রেখেছিল। উদ্ধারকর্মীরা না পৌঁছানো পর্যন্ত কুকুরটিই কেরিকে নিরাপত্তা ও উষ্ণতা দিয়ে রক্ষা করে। ওর ভূমিকায় চমকে গিয়েছেন সকলে। দ্য ওয়াল

About the Author

-

%d bloggers like this: