বিষ-গুলিতে তিন হাতি, উৎসবে কয়েকশো শকুন !

Share This
Tags

 

 

সবুজবাংলা ডেস্ক  তিনটি হাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে মহানন্দে ভূরিভোজ জমিয়েছিল তারা। চোরাশিকারির গুলিতে তিন-তিনটি হাতির মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, শকুনদের জন্য তা ছিল রীতিমতো উৎসব! কিন্তু কে জানত, ওই হাতির মাংস খেয়েই মারা যাবে ৫০০টিরও বেশি বিরল প্রজাতির শকুন! জানা গিয়েছে, চোরাশিকারিদের বিষাক্ত গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল হাতিগুলির। আর সেই হাতির মাংস খেয়েই মৃত্যুুর কোলে ঢলে পড়ে শকুনগুলি।

আফ্রিকার বতসোয়ানার এই ঘটনায় চমকে উঠেছে সারা বিশ্বের বন্যপ্রাণ প্রেমী মহল। এতগুলি শকুনের মৃত্যু জীবজগতের বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন সকলে। বরসোয়ানার বনবিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, ৫৩৭টি শকুন এবং দু’টি ঈগলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। জানানো হয়েছে, হয়তো পাখিগুলি মারার জন্যই ইচ্ছে করে বিষাক্ত হাতিদের দেহাবশেষ ফেলে রেখেছিল চোরাশিকারিরা। আবার এমনও হতে পারে, হাতি শিকার করাই উদ্দেশ্য ছিল তাদের, শকুনগুলি মাঝখান থেকে মারা গেল।

জানা গিয়েছে, শকুনগুলির মধ্যে ৪৬৮টি-ই সাদা পিঠের বিরল শকুন। ওই প্রজাতির শকুনকে ইতিমধ্যেই ‘ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জার্ড’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সাদা পিঠের শকুন ছাড়াও ১৭টি সাদা মাথার শকুন এবং ২৮টি মাথা ঢাকা শকুন রয়েছে মৃতের তালিকায়। তারাও ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে।

মৃত শকুন এবং হাতিগুলির থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে মৃত্যু, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বরসোয়ানার অরণ্যে গত দু’বছরে চারশোটি হাতি খুন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক চেষ্টা করেও চোরাশিকার রুখতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

সরকারি সূত্রের খবর, শিকারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। তার পর থেকেই স্থানীয় আদিবাসী ও শিকারিদের মধ্যে মিশে উৎপাত বাড়িয়েছে চোরাশিকারিরা। এত যেমন বিপদের মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণ, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয়দেরও।

তবে এমন ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালেও আফ্রিকার জঙ্গলে বিষাক্ত হাতির দেহাবশেষ খেয়ে মারা গিয়েছিল দু’টি সিংহ এব ১০০টিরও বেশি শকুন। দ্য ওয়াল

About the Author

-

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

%d bloggers like this: